৩রা অক্টোবর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১৮ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

দ্রব্যমূল্যের উত্তাপ, সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস

আপডেট : আগস্ট ১৬, ২০২২ ১২:৪৮ অপরাহ্ণ

44

ভয়েস বাংলা ডেস্ক

বর্তমানে সারাবিশ্বে অর্থনীতির টালমাটাল অবস্থা। যার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। বিশেষ করে অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে ডলার ও জ্বালানি তেলের দাম। বেড়েছে পরিবহন ব্যয় ও দ্রব্যমূল্য। আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের সামঞ্জস্য করতে হিমশিম খাচ্ছে মানুষ। এর মধ্যে আবার কিছু সুবিধাভোগী অসাধু চক্রের নৈরাজ্য তো আছেই।

ঢাকার বাজারে গত শুক্রবার ফার্মের মুরগির বাদামি ডিমের দাম ৪৭ থেকে ৫০ টাকা। গতকাল সোমবার একই ডিম বিক্রি হয় প্রতি হালি ৫০ থেকে ৫৫ টাকায়। গতকাল কারওয়ান বাজারের মতো বড় বাজারের ডিমের দোকানেই শুধু ৫০ টাকা হালিতে ডিম বিক্রি হয়। পাড়ার খুচরা মুদিদোকানে ডিম কিনতে গেলে হালি ৫৫ টাকার নিচে পাওয়া যায়নি।

সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) বাজারদরের তালিকা বলছে, এক সপ্তাহ আগেও বাজারে ফার্মের মুরগির ডিমের হালিপ্রতি দর ছিল ৪০ থেকে ৪২ টাকা। গত রোববার তা ৫০ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি হয়। এক সপ্তাহে দাম বেড়েছে ২৮ শতাংশ।

ফার্মের মুরগির সাদা ডিম এত দিন বাদামি ডিমের চেয়ে কিছুটা কম দামে বিক্রি হতো। এখন দর সমান।

শুধু ফার্মের মুরগির ডিম নয়, বেড়েছে দেশি মুরগি ও হাঁসের ডিমের দামও। বাজারে এখন দেশি মুরগি ও হাঁসের এক ডজন (১২টি) ডিম ২০০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না। এক হালি কিনতে গেলে বিক্রেতারা দর চাচ্ছেন ৭০ টাকা।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারের পাইকারি ডিম বিক্রেতারা বলেন, পোলট্রি খাবারের দাম বাড়তি। বেড়েছে পরিবহন খরচ। ডিমের উৎপাদন কম হওয়ায় সরবরাহ কম। সব মিলিয়ে এক সপ্তাহের ব্যবধানে ডিমের দাম অস্বাভাবিক বেড়েছে। আমাদের বেচাকেনাও তিন ভাগের এক ভাগ কমে গেছে।’

ব্রয়লার ও সোনালি জাতের মুরগির দাম আরও বেড়েছে। খুচরা দোকানে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৯০ থেকে ২০০ টাকায়, যা এক সপ্তাহ আগের তুলনায় কেজিতে ১০ টাকা বেশি।

এর কারণ হিসেবে বাজারে মুরগি সরবরাহে ঘাটতি আছে বলে উল্লেখ করেছে ঢাকা মহানগর হাঁস-মুরগি বাজারজাতকরণ সমবায় সমিতির সদস্যরা। তারা বলেন, ‘দুই সপ্তাহ আগেও আমাদের আড়তে প্রতিদিন গড়ে ৬ থেকে ৭ হাজারের মতো সোনালি ও দেশি মুরগি বিক্রি হতো। দাম বাড়ার পর এখন মুরগি আসছে ৫ হাজারের মতো। বিক্রিও কম।’

দেশের আটা বিপণনকারী কোম্পানিগুলো গত জুলাই মাসে আটার দাম কমিয়েছিল। দুই কেজির প্যাকেটের দর নির্ধারণ করা হয়েছিল ১০২ থেকে ১০৪ টাকা। গতকাল বাজার ঘুরে দেখা যায়, কোম্পানিগুলো দুই কেজির প্যাকেটের দাম ১১২-১১৫ টাকা নির্ধারণ করে বাজারে ছাড়ছে।

খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, বিশ্ববাজারে গমের দাম বেড়ে যাওয়া এবং ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নকে মূল্যবৃদ্ধির কারণ হিসেবে তুলে ধরছে কোম্পানিগুলো।

টিসিবি বলছে, গত রবিবার পর্যন্ত এক সপ্তাহে চালের দাম প্রতি কেজি ২ থেকে ৫ টাকা, খোলা আটা ৫ টাকা, খোলা ময়দা ২ থেকে ৫ টাকা, ভোজ্যতেল প্রতি লিটার ৫ থেকে ১০ টাকা এবং চিনির দাম প্রতি কেজি ৮ টাকা বেড়েছে।




স্মৃতি ও স্মরণ

ছবি