২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

ক্রেডিট কার্ড ঋণে ঝুঁকছেন মানুষ

আপডেট : আগস্ট ১৩, ২০২২ ১২:০৬ অপরাহ্ণ

27

ভয়েস বাংলা ডেস্ক

দেশের মানুষের মধ্যে ক্রেডিট কার্ডে ঋণ করার প্রবণতা বেড়ে গেছে। এমন এক সময় ক্রেডিট কার্ডে টাকা ধার করা বেড়েছে, যখন বেড়ে গেছে মানুষের জীবনযাত্রার খরচ। বাজারে ধাপে ধাপে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীসহ সব ধরনের পণ্যের দাম বাড়তে থাকায় মানুষ এখন ক্রেডিট কার্ডে ঋণ করা বাড়িয়ে দিয়েছেন। বাড়তি খরচের চাপ সামাল দিতে মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্তদের অনেকে এখন ক্রেডিট কার্ডের ঋণে ঝুঁকছেন বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকেরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, এক বছরের ব্যবধানে ক্রেডিট কার্ডে লেনদেনের পরিমাণ প্রায় ২৯ শতাংশ বেড়ে গেছে। ২০২১ সালের জুনে ক্রেডিট কার্ডে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৯৩৫ কোটি টাকা। গত জুনে এ লেনদেনের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৪৯১ কোটি টাকায়। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে ক্রেডিট কার্ডে লেনদেনের পরিমাণ প্রায় ২৯ শতাংশ বা ৫৫৬ কোটি টাকা বেড়ে গেছে। সেই সঙ্গে এক বছরের ব্যবধানে দেশে ক্রেডিট কার্ডের সংখ্যা বেড়েছে ১০ লাখ ৫১ হাজার ৫৪৯টি। গত জুন শেষে দেশের ক্রেডিট কার্ডের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৭ লাখ ৫২ হাজার ৮৯১টিতে। গত বছরের জুনে এ সংখ্যা ছিল ২৭ লাখ ১ হাজার ৩৪২টিতে। শুধু তা–ই নয়, মে মাসের তুলনায় জুন মাসে ক্রেডিট কার্ডে মানুষ ১২০ কোটি টাকা বেশি ঋণ করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত তিন বছরের মধ্যে ক্রেডিট কার্ডে তৃতীয় সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছে গত জুনে। ক্রেডিট কার্ডে সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছিল গত এপ্রিলে, যার পরিমাণ ২ হাজার ৭১৫ কোটি টাকা। আর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ লেনদেন হয় গত মার্চে, যার পরিমাণ ২ হাজার ৫১৩ কোটি টাকা। মূলত গত বছরের নভেম্বর থেকে ক্রেডিট কার্ডে লেনদেন দুই হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবে, দেশে মূল্যস্ফীতি এখন ঊর্ধ্বমুখী ধারায় রয়েছে। সর্বশেষ গত জুলাই মাসে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৭ দশমিক ৪৮ শতাংশে। জুনে এ হার ছিল ৭ দশমিক ৫৬ শতাংশ। তিন মাস ধরে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৭ শতাংশের আশপাশে রয়েছে।

অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বেশ কয়েকটি কারণে ক্রেডিট কার্ডে লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে। প্রথমত গত বছরের তুলনায় এ বছর সব ধরনের পণ্যমূল্যই বেড়ে গেছে। তাতে একই ধরনের পণ্য কিনতে গত বছরের চেয়ে বেশি অর্থ খরচ করতে হচ্ছে এখন। এ ছাড়া গত বছরের তুলনায় বিদেশ যাত্রাও বেড়েছে। তাতেও ক্রেডিট কার্ডের লেনদেনের পরিমাণ বেড়ে থাকতে পারে। অর্থাৎ ক্রেডিট কার্ডে লেনদেন বৃদ্ধির পেছনে পণ্যমূল্য বৃদ্ধির একটি বড় প্রভাব রয়েছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকাররা।

সাধারণত ক্রেডিট কার্ডে কেনাকাটার ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বিনা সুদে ঋণসুবিধা মেলে। এ ছাড়া ইলেকট্রনিক সামগ্রীসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য কেনার ক্ষেত্রে মেলে কিস্তিতে অর্থ পরিশোধের সুবিধা। আবার বিদেশযাত্রায় বা দেশের ভেতরে ভ্রমণের ক্ষেত্রে নানা ধরনের ছাড়ও পাওয়া যায় ক্রেডিট কার্ডে লেনদেনের ক্ষেত্রে। এ কারণে মানুষ খরচের চাপ কমাতে বা নানা ধরনের ছাড়ের সুবিধা নিতে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করেন।

চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছর থেকে ক্রেডিট কার্ড গ্রহণের ক্ষেত্রে আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অর্থাৎ এখন থেকে ক্রেডিট কার্ড নিতে শুধু কর শনাক্তকরণ নম্বর বা টিআইএন থাকলেই চলবে না, রিটার্ন দাখিলের প্রমাণপত্রও জমা দিতে হবে। গত ৯ জুন বাজেট ঘোষণার সময় এ প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। ব্যাংকাররা আশঙ্কা, এর ফলে ক্রেডিট কার্ডের ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। আর সেটির প্রভাব দেখা যাবে চলতি অর্থবছরে। অর্থবছর শুরু হয়েছে জুলাই থেকে। বাংলাদেশ ব্যাংক ক্রেডিট কার্ডের হালনাগাদ যে তথ্য প্রকাশ করেছে, সেটি জুন মাসের।

সূত্র: প্রথম আলো




স্মৃতি ও স্মরণ

ছবি