১৯শে আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা ভাদ্র, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

অমর্ত্য সেনের সমালোচনায় তৃণমূলের মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়

আপডেট : আগস্ট ৫, ২০২২ ৬:৩৪ অপরাহ্ণ

20

ভয়েস বাংলা ডেস্ক

নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনকে জোরালো ভাষায় আক্রমণ করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তৃণমূল কংগ্রেসের মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়। মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই এ আক্রমণ শাণালেন বাবুল। তিনি অতীতে বিজেপির সংসদ সদস্য এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ছিলেন।

শুক্রবার তিনি পশ্চিমবঙ্গে প্রচারমধ্যমকে বলেন, অমর্ত্য সেন রাজনৈতিক রঙের বাইরে বেরোতে পারছেন না।

গায়ক-নেতা সুপ্রিয় বলেন, ‘ওনার (অমর্ত্য সেনের) স্বাধীনতা আছে। উনি যা করেছেন তা ওনার ব্যক্তিগত ব্যাপার। বাংলায় রাজনৈতিক তরজা থাকবেই। উনি কিন্তু বারেবারে প্রমাণ করেছেন যে উনি একজন কিংবদন্তি অর্থনীতিবিদ হওয়া সত্ত্বেও রাজনৈতিক রঙের বাইরে বেরোতে পারছেন না। এটা উনি সারাক্ষণ করছেন। তবে এটা ওনার অধিকার।’

গত ২৫ জুলাই অমর্ত্য সেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পুরস্কার ‘বঙ্গবিভূষণ’ নেওয়ার ব্যাপারে তাঁর অপারগতার কথা জানান। তাঁর মেয়ে অন্তরা দেব সেন প্রচারমধ্যমকে বলেছিলেন, অধ্যাপক সেন রাজ্য সরকারকে আগেই জানিয়েছিলেন যে তিনি জুলাই মাসে ভারতে থাকছেন না এবং অনুরোধ করেন অল্প বয়স্ক কাউকে এই পুরস্কার দেওয়ার জন্য।

রাজ্য সরকার ২০২২ সালে ১৬ জনকে এই পুরস্কার দিয়েছে, যাঁদের মধ্যে দুই অর্থনীতিবিদ অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কৌশিক বসু ছাড়াও রয়েছেন গায়ক কুমার শানু, পরমাণুবিজ্ঞানী বিকাশ সিংহ, সাহিত্যিক আবুল বাশার, শিল্পপতি হর্ষ নেওটিয়া প্রমুখ।

বিষয়টি নিয়ে জুলাই মাসের শেষে বিতর্ক শুরু হওয়ার পর তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে শিল্পী সুভা প্রসন্ন প্রচার মাধ্যমকে বলেন, ‘অধ্যাপক সেনের সঙ্গে আমাদের (তৃণমূল কংগ্রেসের) সম্পর্ক খুব ভালো। আমরা ভারতীয় জনতা পার্টি নই, উনি বিজেপিকে ঘৃণা করেন। তৃণমূলের সঙ্গে ওনার কোনো মতপার্থক্য নেই।’

অতীতে রাজ্য সরকারের একাধিক জনকল্যাণমূলক প্রকল্পকে তুলে ধরেছে অমর্ত্য সেনের সংগঠন প্রতীচি ট্রাস্ট। তারা বলেছে এই প্রকল্পগুলোর অনেক সফল হয়েছে এবং কেন হয়েছে, তারও ব্যাখ্যা দিয়েছে।

এর আগে রাজ্যের মুখ্য সচিবও জানিয়েছিলেন, বিষয়টি নিয়ে অযথা প্রচারমাধ্যমে বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে। কিছুদিন আগে যখন অধ্যাপক সেনকে প্রস্তাব দেওয়া হয়, তখনই তিনি বলেন যে তিনি জুলাই মাসের শেষে কলকাতায় থাকছেন না। এর আগে প্রচারমাধ্যমে বলা হয়েছিল, বিষয়টির সঙ্গে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের গ্রেপ্তারের সম্পর্ক থাকতে পারে।

কিন্তু বিষয়টি ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক রং নিয়ে নেয় এবং পুরস্কার না নেওয়ার জন্য সিপিআইএম দলের নেতা সুজন চক্রবর্তী অমর্ত্য সেনকে অভিনন্দন জানান।

এরপরে কার্যত বিজেপির ভাষাতেই অমর্ত্য সেনকে আক্রমণ করলেন বাবুল সুপ্রিয়।

রাজ্যে এ নিয়ে যে বিতর্ক হবে এবং বিরোধীরা তৃণমূলকে আক্রমণ করবে, তা বলা বাহুল্য। এ অবস্থায় বাবুল সুপ্রিয় তাঁর মন্তব্য ফিরিয়ে নেন কি না, বা তৃণমূল কংগ্রেস এই বক্তব্য থেকে নিজেদের পৃথক করে কি না, সেটাই দেখার। কারণ, পশ্চিমবঙ্গে একজন জনপ্রিয় চরিত্র অমর্ত্য সেন।

যদি তৃণমূল তা না করে, তাহলে ধরে নিতে হবে, দলীয় প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশেই এই মন্তব্য করেছেন তাঁর পূর্ণ মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়।

সূত্র: প্রথম আলো




স্মৃতি ও স্মরণ

ছবি