৮ই ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

সিলেটে বাড়ছে পানিবাহিত রোগ

আপডেট : জুন ২৫, ২০২২ ১২:০৭ পূর্বাহ্ণ

50

ভয়েস বাংলা ডেস্ক

শতাব্দীর ভয়াবহ বন্যায় সিলেটের লাখ লাখ মানুষ বিপর্যস্ত। বানের পানি সবকিছু ধুয়ে নিয়ে গেছে। বসতঘর, হালের গরু, গোলার ধান, হাঁস-মুরগি, পুকুরের মাছ কিছুই আর নেই। সব হারানো মানুষ এখন কেবলই হাহাকার-আর্তনাদ করছেন। পানি কমতে শুরু করায়, বন্যার ভয়াবহ ক্ষতচিহ্ন জেগে উঠছে, আর চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে নিঃস্ব মানুষের দীর্ঘশ্বাস।

শুক্রবার সিলেট ও সুনামগঞ্জে বন্যার পানি আরও কমেছে। ভাঙা বসতঘরে ফিরতে শুরু করেছেন মানুষ। নারী-শিশুদের আশ্রয়কেন্দ্রে কিংবা অন্যত্র রেখে পুরুষেরা বাড়ি ফিরে ভাঙা ঘর জোড়া লাগানোর চেষ্টা করছেন।

অবশ্য সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর, কানাইঘাট, জকিগঞ্জ, ফেঞ্চুগঞ্জ, বিশ্বনাথ, বালাগঞ্জ এবং সুনামগঞ্জ জেলার প্রায় সব উপজেলার অধিকাংশ বাড়িঘরে এখনো রয়েছে বন্যার পানি। যেখানে গলাসমান পানি ছিল, সেখানে কিছুটা কমে হাঁটুসমান হয়েছে। এসব বসতবাড়ি বসবাসের উপযোগী করতে প্রচুর টাকা ও সময়ের প্রয়োজন।

এদিকে পানি নামার সঙ্গে সিলেটজুড়ে ডায়রিয়া, আমাশয়সহ পানিবাহিত বিভিন্ন রোগ ছড়িয়ে পড়ছে। হাসপাতাল এবং বেসরকারি উদ্যোগে পরিচালিত বিভিন্ন মেডিকেল ক্যাম্পে চিকিৎসা নিতে আসা মানুষের ভিড় লেগেছে। রোগী দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় খাবার স্যালাইনসহ প্রয়োজনীয় ওষুধের সংকট দেখা দিয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় পরিচালক ডা. হিমাংশু লাল রায় শুক্রবার সন্ধ্যায় দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘পানিবাহিত রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল টিম এবং জেলা-উপজেলার সরকারি হাসপাতালে দায়িত্বরতরা আন্তরিকতার সঙ্গে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

তবে ওষুধের সংকট নেই জানিয়ে তিনি বলেন, ব্যক্তি কিংবা বেসরকারি উদ্যোগে যারা ত্রাণ দিচ্ছেন তারা বেশি করে খাবার স্যালাইন ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করলে পরিস্থিতি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ডা. হিমাংশু লাল রায় বন্যা উপদ্রুত এলাকার লোকজনকে বিশুদ্ধ পানি পান ও ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা মেনে চলার আহ্বান জানান।

সিলেট সিটি করপোরেশন ও জেলা প্রশাসনসূত্র জানায়, নগরী ও জেলার সবগুলো উপজেলায় বন্যার পানি ধীরে ধীরে নামছে। কমছে নদ-নদীর পানিও। নগরীর অধিকাংশ বাসা-বাড়ির পানি ইতিমধ্যে নেমে গেছে। লোকজন ঘরে ফিরছেন। তবে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে নারী-শিশু ও বয়স্করা এখনো আছেন।                

সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, সুরমা নদীর পানি বিভিন্ন পয়েন্টে কমলেও কানাইঘাটে এখনো বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কুশিয়ারা নদীর পানিও একাধিক পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপরে রয়েছে। তবে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় আপাতত পানি বৃদ্ধির আর আশঙ্কা নেই।  

শুক্রবার দুপুরে নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, পানি কমলেও দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। বন্যার পানি আর নালা-নর্দমার আবর্জনা মিলে ঘর, দোকানপাট একাকার। এসব এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কারে হিমশিম খাচ্ছেন মানুষ। নগরীর শাহজালাল উপশহর, মেন্দিবাগ, তেরোরতন, যতরপুর, ছড়ারপাড়, মাছিমপুর, কালীঘাট, তোপখানা, শেখঘাট, তালতলা, জামতলা, লালাদিঘিরপাড় প্রভৃতি এলাকার পানি দ্রুত কমছে। সড়কে কিংবা নিচু এলাকার বাসায় কিছু পানি রয়েছে। তবে পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে এসব এলাকার লোকজন ময়লা-আবর্জনা সরিয়ে বাসা-বাড়িকে বাসযোগ্য করতে হিমশিম খাচ্ছেন।

সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী জানান, নগরীর আশ্রয়কেন্দ্রগুলো থেকে মানুষ ঘরে ফিরে যাচ্ছেন। তাদের দুর্ভোগ কমাতে সিটি করপোরেশন সাধ্যমতো সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

সূত্র: দেশ রূপান্তর




স্মৃতি ও স্মরণ

ছবি