২৫শে জুন, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

তৃণমূলের প্রার্থী আলো রানী সরকার বাংলাদেশের নাগরিক কি না জানতে চান আদালত

আপডেট : মে ২৪, ২০২২ ১১:০৯ পূর্বাহ্ণ

27

ভয়েস বাংলা ডেস্ক

ভারতে পশ্চিমবঙ্গে রাজ্যে গত বছরের বিধানসভা নির্বাচনে উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ দক্ষিণ আসনে লড়ে হেরেছিলেন তৃণমূল প্রার্থী আলো রানী সরকার। এই ভোটের ফলাফল না মেনে আদালতে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ওই আসনের জয়ী প্রার্থী বিজেপির স্বপন মজুমদার আদালতে দাবি করেন তৃণমূল প্রার্থী আসলে বাংলাদেশের নাগরিক। এখন কলকাতা হাইকোর্ট জানতে চাইছেন, আলো রানী সরকার বাংলাদেশের নাগরিক কি না।

ওই মামলার শুনানিকালে বিজেপি প্রার্থী স্বপন মজুমদারের আইনজীবী অরিন্দম পাল আদালতে দাবি তোলেন, আলো রানী ভারতের নাগরিক নন। তাঁর নাম এখনো বাংলাদেশের ভোটার তালিকায় রয়েছে। এই লক্ষ্যে প্রমাণ স্বরূপ তিনি বাংলাদেশের ভোটার তালিকায় আলোরা নীর নাম সংবলিত নথি আদালতে উপস্থাপন করেন। সেই ভোটার তালিকায় আলো রানীর নাম রয়েছে।

এই প্রশ্ন তোলার পর আলো রানীর আইনজীবী জোরালো জবাব বা প্রমাণ দিতে পারেননি। অধিকন্তু আলো রানীর প্রতিপক্ষ স্বপন মজুমদারের আইনজীবী আদালতকে জানান, ‘২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনকালীন আমরা জানতে পারি আলো রানী জন্ম ও বৈবাহিক সূত্রে বাংলাদেশের নাগরিক এবং তাঁর পিতামাতা এখনো বাংলাদেশে বাস করছেন।’ আইনজীবী বলেন, ‘আলো রানী এবং তাঁর ছেলে মেয়েরা এ দেশে এসে কীভাবে পরিচয়পত্র ও অন্যান্য প্রমাণপত্র তৈরি করলেন তা আমরা আদালতে প্রমাণ করে দেব।’

এর পরেই আলো রানীর ভারতীয় নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন হাইকোর্টের বিচারপতি বিবেক চৌধুরী। তিনি এ দেশের নাগরিক না হয়ে কীভাবে নির্বাচনে দাঁড়ালেন, তা নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশনকে পদক্ষেপ গ্রহণ করার আদেশ দেন।

এই রায়ে অসন্তুষ্ট আলো রানী বলেছেন, ’আমি এই আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে যাচ্ছি। সময় কথা বলবে। আমিই জিতব। আমি এ দেশের নাগরিক। এ দেশের হুগলিতে আমার জন্ম। বিয়ে হয়েছিল বাংলাদেশে। বিয়ে তো যেকোনো দেশে হতে পারে।’

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে তৃণমূল কংগ্রেসের বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি গোপাল শেঠ বলেছেন, ‘আলো রানীকে এ দেশের ভোটার কার্ড দিয়েছেন ভারতের নির্বাচন কমিশন। সেই সূত্রে তিনি ২০১৬ সালে বিজেপির প্রার্থী হয়ে লড়েছিলেন। এরপরে তিনি আমাদের দলে এলে এবার আমরা তাঁকে মনোনয়ন দিয়েছি। তিনি এ দেশের ভোটার। ভারতের নাগরিক।’

সূত্র: প্রথম আলো




স্মৃতি ও স্মরণ

ছবি