২৫শে জুন, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

ভারতে ৮২% চাকরিজীবী এ বছর চাকরি বদলাতে চান

আপডেট : জানুয়ারি ২২, ২০২২ ৯:৩৪ অপরাহ্ণ

39

ভয়েস বাংলা ডেস্ক

করোনা মহামারির পরিস্থিতিতেও ভারতের চাকরিজীবীরা নিজেদের পেশাগত জীবনের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্ন দেখছেন। তাঁদের অধিকাংশই নতুন বছরে নতুন চাকরি পাওয়ার আশা করছেন। অনলাইনে চাকরি খোঁজার শীর্ষ স্থানীয় নেটওয়ার্ক লিংকডইনের তথ্য অনুযায়ী চলতি ২০২২ সালে ভারতের ৮২ শতাংশ পেশাজীবী তাঁদের বর্তমান চাকরি পরিবর্তনের কথা ভাবছেন।

চাকরিজীবীদের ওপর পরিচালিত এক জরিপে এই তথ্য উঠে এসেছে। জরিপ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতীয় পেশাজীবীরা মূলত দুটি কারণে চাকরি পাল্টানোর কথা বিবেচনা করছেন। প্রথমত, বর্তমান চাকরিটি করে তাঁরা পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে পারছেন না। দ্বিতীয়ত, বেশি বেতন পাওয়া ও পেশাগত উন্নতির উচ্চাকাঙ্ক্ষার কারণে তাঁরা নতুন চাকরি পেতে চান। 

জরিপের উত্তরদাতারা জানান, নতুন বছরে তাঁরা এ রকম নতুন চাকরি পেতে চান, যেখানে কর্মপরিবেশ মোটামুটি শিথিল। অর্থাৎ চাকরির ক্ষেত্রে তাঁরা কাজের পরিবেশকেই অগ্রাধিকার দিতে চান।

লিংকডইন ইন্ডিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) অঙ্কিত ভেঙ্গুরলেকর বলেন, ‘কোভিড-১৯ মহামারি মানুষকে তাঁদের কর্মজীবন নিয়ে অর্থাৎ চাকরি পরিবর্তনের বিষয়ে ভাবিয়ে তুলেছে। সে জন্য নতুন বছরে তাঁরা জীবনের অগ্রাধিকারগুলো পূরণে নতুন কাজের সুযোগ খোঁজার উৎসাহ পেয়েছেন। ভারতে কাজের সুযোগ যেমন বাড়ছে, তেমনি পেশাজীবীরাও নতুন চাকরি পাওয়ার ব্যাপারে আস্থাশীল হয়ে উঠছেন। তবে যাঁরা বর্তমান চাকরি ছেড়ে নতুন কাজে যোগ দিতে আগ্রহী, তাঁরা নমনীয় কাজের পরিবেশকেই প্রথম অগ্রাধিকার দিতে চান।

অঙ্কিত ভেঙ্গুরলেকর বলেন, গোটা ভারতজুড়ে এখন প্রযুক্তি খাতে মেধাবী কর্মীর চাহিদা বাড়ছে। তেমনি স্বাস্থ্যসেবা এবং ব্যবসায়িক খাতেও কর্মীর প্রচুর চাহিদা রয়েছে।

জরিপে প্রায় ৭১ শতাংশ উত্তরদাতা অবশ্য মহামারির আগের তুলনায় এখন নিজেদের কর্মক্ষমতা কেমন তা নিয়ে সংশয়ে আছেন। ৬৩ শতাংশ উত্তরদাতা জানান, তাঁরা প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। আর ৩৩ শতাংশ পেশাজীবী মনে করেন যে মহামারি তাঁদের কর্মক্ষেত্রে আত্মবিশ্বাসের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এ সম্পর্কে লিংকডইনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় দুই বছর ধরে বিচ্ছিন্নভাবে কাজ করার কারণেই মূলত নিজেদের কর্মক্ষমতা সম্পর্কে অনেকে সন্দিহান হয়ে উঠেছেন।

তবে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক পেশাজীবী জানান, চলতি ২০২২ সালে যদি বর্তমান নিয়োগকর্তারা ভালো বেতন দেন, কাজের প্রশংসা করেন এবং নিজেদের পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনে ভারসাম্য বৃদ্ধি পায়, তাহলে তাঁরা বর্তমান কর্মস্থলে থাকতে রাজি।

কর্মজীবী নারীদের ৩৭ শতাংশ জানান, পেশাগত জীবনের সঙ্গে ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য কমে যাওয়ার কারণে তাঁরা নিজেদের বর্তমান চাকরি ছাড়তে চান। পুরুষ কর্মজীবীদের ক্ষেত্রে এই হার ২৮ শতাংশ। ৪৯ শতাংশ নারী কর্মজীবী ও ৩৯ শতাংশ পুরুষ কর্মজীবী পুরুষ জানান, বেতন বাড়লে তাঁরা বর্তমান চাকরি ছাড়বেন না। সূত্র: বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড।

সূত্র: প্রথম আলো




স্মৃতি ও স্মরণ

ছবি