২৪শে জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

চেকপোস্টে উদাসীনতা, পরীক্ষা ছাড়াই মিলছে নেগেটিভ সনদ

আপডেট : জানুয়ারি ১৫, ২০২২ ১:১৯ অপরাহ্ণ

12

ভয়েস বাংলা ডেস্ক

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনার জয়নগর আন্তর্জাতিক চেকপোস্টে করোনা পরীক্ষায় গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। যাত্রীরা বলছেন, নমুনা পরীক্ষা ছাড়াই দেওয়া হচ্ছে করোনার নেগেটিভ সনদ। আবার টাকা নিলেও রশিদ দেওয়া হচ্ছে না।

এদিকে, দর্শনা চেকপোস্টে ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত হাতে গোনা কয়েকজনের করোনা পরীক্ষা করা হয়। তাদের মধ্যে ২৭ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সীমান্তে করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন আতঙ্কে স্থানীয়রা।

একটি সূত্রে জানা গেছে, দর্শনা চেকপোস্টে সব ধরনের যাত্রীদের করোনার র‍্যাপিড অ্যান্টিজেন পরীক্ষা বাধ্যতামূলক। এ কারণে জনপ্রতি ১০০ টাকা করে নেওয়ার কথা। তবে অনেকের কাছ থেকেই টাকা নিয়ে রশিদ দেওয়া হচ্ছে না। আবার নমুনা না নিয়েই করোনার নেগেটিভ সনদ দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

গত বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিন দেখা যায়, দর্শনা চেকপোস্ট দিয়ে ভারত থেকে দেশে আসেন বাংলাদেশি নাগরিক রেখা রানী সাহা। চেকপোস্টে ঢুকে স্বাস্থ্য বিভাগের হেলথ স্ক্রিনিং বুথে স্বাস্থ্য পরীক্ষার কথা ছিল তার। কিন্তু তা করা হয়নি।

তিনি বলেন, ‌‘দর্শনা চেকপোস্টে প্রবেশের পর আমার কাছ থেকে ১০০ টাকা নেওয়া হয়। নমুনা পরীক্ষা না করেই করোনা নেগেটিভ সনদ ধরিয়ে দেয়। পরে আমাকে চলে যেতে বলে।’

বাংলাদেশে আসা দুই যাত্রী বলেন, দুই জনের কাছ থেকে ২০০ টাকা নেওয়া হয়েছে। করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনাও নিয়েছে। তবে টাকা নেওয়ার রশিদ দেয়নি।

এদিকে দর্শনা চেকপোস্টের হেলথ স্ক্রিনিং বুথের রেজিস্ট্রার খাতায় দেখা যায়, তালিকায় রেখা রানী সাহার নামই নেই।

এ বিষয়ে হেলথ স্ক্রিনিং বুথে দায়িত্বরত কর্মকর্তা দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট (স্যানিটারি ইন্সপেক্টর) জামাত আলী বলেন, ‘এমন কোনও কিছু ঘটেনি। অতিরিক্ত যাত্রীর ভিড়ে তিনি হয়তো নমুনা না দিয়েই চলে গেছেন। কোনও কোনও সময় ভিড়ের কারণে অনেককে রশিদ দেওয়া হয় না। আবার দুই-একটা মিসও হতে পারে।’

ক্যান্সার, স্কিন ও হার্ট ডিজিস রোগী এবং ১২ বছরের নিচে যারা আসেন তাদের ইমিগ্রেশনের সুবিধার্থে নেগেটিভ রিপোর্ট দিতে হয় বলে স্বীকার করেন তিনি।

স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শুরু থেকেই চেকপোস্টের স্বাস্থ্যকর্মীরা বিভিন্ন অনিয়ম করে আসছে। নমুনা না নিয়ে করোনার নেগেটিভ সনদ দেওয়া হয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে ওমিক্রন ছড়িয়ে পড়বে। দায়িত্বরতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

দর্শনা ইমিগ্রেশন সূত্রে জানা গেছে, ১ জানুয়ারি থেকে ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত ভারত থেকে ১৯৪৮ বাংলাদেশি নাগরিক এবং ১২২৯ ভারতীয় নাগরিক বাংলাদেশ প্রবেশ করেছে। ১৪৩৫ বাংলাদেশি নাগরিক ও ১৯৪৯ ভারতীয় নাগরিক ভারতে ফিরে গেছেন। এর মধ্যে ১১ বাংলাদেশি ও ১৬ ভারতীয় নাগরিকের করোনা শনাক্ত হয়েছে। করোনা আক্রান্ত বাংলাদেশি নাগরিকদের দেশে প্রবেশের অনুমতি মিললেও, ভারতীয় নাগরিকদের অনুমতি দেওয়া হয়নি। তাদেরকে ভারতে পাঠানো হয়েছে।

দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু হেনা মো. জামাল শুভ বলেন, দেশত্যাগ বা দেশে প্রবেশের সময় অবশ্যই করোনা পরীক্ষা করাতে হবে। ভারতের কোনও যাত্রীর করোনা শনাক্ত হলে ফেরত পাঠানো হয়। দেশের কোনও যাত্রী পজিটিভ হলে তাদেরকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আইসোলেশনে পাঠানো হয়। তবে দেশত্যাগ বা প্রবেশের সময় করোনা নেগেটিভ সনদ থাকতেই হবে।

তিনি আরও বলেন. অর্থ আদান-প্রদানের বিষয়টি জেনেছি। এ ব্যাপারে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। ঘটনার সত্যতা পেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন