১৯শে আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা ভাদ্র, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

উপহার ও বিপুল অর্থের বিনিময়ে চলছে তামাকপণ্যের প্রচারণা

আপডেট : জানুয়ারি ৫, ২০২২ ৫:২৬ অপরাহ্ণ

283

ভয়েস বাংলা ডেস্ক


ধূমপান এবং তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, (২০০৫) এর বিভিন্ন দুর্বল দিকসমূহ ও তামাক কোম্পানির অনৈতিক বিক্রয়কেন্দ্রে পন্য প্রদর্শন ও ঢাকা শহরের রেস্তোঁরায় ধুমপানের জন্য নির্ধারিত স্থানের জন্য লোভনীয় প্রণোদনা দিয়ে থাকে। সম্প্রতি বেসরকারি উন্নয়ন গবেষণা সংগঠন ভয়েসেস ফর ইন্টারেক্টিভ চয়েস অ্যান্ড এমপাওয়ারমেন্ট (ভয়েস) তামাক কোম্পানির উল্লেখিত অনৈতিক কূটকৌশল ও ধূমপান এবং তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন লঙ্ঘনের বিষয়ে দুইটি গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করে।


অনুষ্ঠান উপস্থিত ছিলেন ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো ফ্রি কিডস (সিটিএফকে) এর লীড পলিসি অ্যাডভাইজার মোস্তাফিজুর রহমান, সিটিএফকের সিনিয়র পলিসি অ্যাডভাইজার মোঃ আতাউর রহমান (মাসুদ), সিটিএফকের গ্রান্টস ম্যানেজার মোঃ আব্দুস সালাম মিয়া। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন ভয়েসের নির্বাহী পরিচালক আহমেদ স্বপন মাহমুদ। দু’টি গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন জায়েদ সিদ্দিকি ও আফতাব খান শাওন।


গবেষণায় পাওয়া যায় যে, তামাক কোম্পানিগুলো তামাকপণ্যের বিজ্ঞাপন ও প্রচারের জন্য বিভিন্ন কৌশল অবলম্বনের মাধ্যমে তামাক বিক্রয়কে উৎসাহিত করে। তারা বিভিন্ন কৌশল যেমন পণ্য বিক্রয়ের উপর লক্ষ্যমাত্রা প্রদান,  সেরা বিক্রেতাদের নাম তামাক কোম্পানির বিশেষ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা, আকর্ষণীয় উপহার সামগ্রী প্রদান এবং প্রয়োজনীয় গৃহস্থালী সরঞ্জাম যেমন বিছানা, আলমিরা, প্রেসার কুকার, রাইস কুকার, ব্লেন্ডার  ইত্যাদি এবং বিলাস সামগ্রী সোনার কয়েন, এলইডি টিভি, এয়ার কন্ডিশনার, ফ্রিজ এবং দামী গিফট ভাউচার ইত্যাদি দিয়ে থাকে। এছাড়াও বিএটি এবং জেটিআই উভয়ই ডিলার, পাইকার এবং খুচরা বিক্রেতাদের উৎসাহ প্রদানের জন্য উদযাপনমূলক ডিনার এবং দেশে-বিদেশে বিনামূল্যে ভ্রমণের ব্যবস্থা করে থাকে।


জরিপকৃত সমস্ত রেস্তোরাঁয় “আলোকিত রঙিন সজ্জিত বাক্স” (যার ভেতর সিগারেটের খালি প্যাকেট) বিজ্ঞাপনের উপকরণ হিসাবে প্রদর্শিত হতে দেখা গিয়েছে। যার সবগুলোতেই ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ (BATB) এর সাইন/লোগো পাওয়া গিয়েছে। শতকরা ৭৩ ভাগ রেস্তোরাঁয় ধূমপানের জন্য নির্ধারিত এলাকায়, শতকরা ২৭ ভাগ রেস্তোরাঁর প্রবেশ/প্রস্থান পথে এবং রেস্তোরাঁর খাবার পরিবেশন টেবিলের কাছে বিজ্ঞাপন সামগ্রী প্রদর্শিত হচ্ছে। এই বিজ্ঞাপন সামগ্রী প্রদর্শনের জন্য তামাক কোম্পানি রেস্তোরার মালিকদের এককালীন নগদ আর্থিক সুবিধা দিয়ে থাকে। রেস্তোরাঁর অবস্থান অনুযায়ী যার গড় পরিমাণ আট লক্ষ টাকা, সর্বোচ্চ পনেরো লক্ষ টাকা এবং সর্বনিম্ন চার লক্ষ টাকা এবং এই নগদ সুবিধা ব্যাংক চেক এবং ব্যাংক ট্রান্সফার এই দুই মাধ্যমে দেয়া হয়। এই সুবিধা নেয়ার সময় ৬০% রেস্তোরাঁ লিখিত চুক্তি করেছে এবং ৪০% মৌখিক চুক্তি করেছে।


প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ মতে ২০৪০ সালের মধ্যে তামাকমুক্ত বাংলাদেশের নিশ্চিত করতে, বিদ্যমান তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন করে আরো জোরদার করে সকল বিক্রয় কেন্দ্রে তামাকপণ্যের প্রদর্শন, বিজ্ঞাপন ও প্রচার নিষিদ্ধ করা। অধূমপায়ীদের বিশেষ করে শিশু ও নারীদের পরোক্ষ ধুমপান হতে বাঁচানোর জন্যে সব ধরনের পাবলিক প্লেস থেকে পৃথক ধুমপান এলাকার রাখার বিধান বাতিল করার জোর দাবী জানানো হয়।




স্মৃতি ও স্মরণ

ছবি