২৪শে জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

মারধর-শ্লীলতাহানির মামলায় অভিযোগপত্রের বিষয়ে নারাজির আবেদন পরীমনির

আপডেট : ডিসেম্বর ১, ২০২১ ৫:১৯ অপরাহ্ণ

42

ভয়েস বাংলা ডেস্ক

ঢাকা বোট ক্লাবে মারধর ও শ্লীলতাহানির মামলায় পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্রের বিষয়ে আদালতে নারাজি আবেদন জমা দিয়েছেন চিত্রনায়িকা পরীমনি।

আজ বুধবার ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৯-এ হাজির হয়ে পরীমনি আইনজীবীর মাধ্যমে এই নারাজি আবেদন জমা দেন। পরীমনির আবেদনের বিষয় আদালত এখনো কোনো আদেশ দেননি। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন পরীমনির আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত।

নীলাঞ্জনা রিফাত বলেন, যথাযথভাবে তদন্ত না করে পুলিশ পরীমনির মামলায় তিনজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে। ঘটনায় জড়িত অন্য ব্যক্তিদের অভিযোগপত্রে অভিযুক্ত করা হয়নি। এ জন্য পরীমনি পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্রের বিষয়ে নারাজি আবেদন জমা দিয়েছেন। তবে এ বিষয় আদালত কোনো আদেশ দেননি।

অন্যদিকে, এই মামলায় আজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন দুই আসামি নাসির উদ্দিন মাহমুদ ও তুহিন সিদ্দিকী ওরফে অমি। আদালত তাঁদের জামিন মঞ্জুর করেন।

আদালতসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, পরীমনির করা মামলায় আজ অভিযোগপত্র গ্রহণের বিষয়ে শুনানির দিন ঠিক ছিল। কিন্তু আজ পরীমনির পক্ষে নারাজি আবেদন জমা দেওয়া হয়।

ঢাকা বোট ক্লাবে মারধর ও শ্লীলতাহানির মামলায় গত ৬ সেপ্টেম্বর ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ, তাঁর সহযোগী শাহ শহিদুল আলম ও তুহিন সিদ্দিকী ওরফে অমির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। এই মামলায় নাসির ও তুহিন জামিনে আছেন। শহিদুল পলাতক।

পরীমনি তাঁর মামলায় অভিযোগ করেছিলেন, গত ৮ জুন রাতে তাঁকে কৌশলে সাভারের বিরুলিয়ায় ঢাকা বোট ক্লাবে ডেকে নিয়ে যান তাঁর পূর্বপরিচিত তুহিন। সেখানে জোর করে তাঁকে মদ পান করানোর চেষ্টা করেন নাসির। একপর্যায়ে তাঁকে ধর্ষণ ও হত্যার চেষ্টা চালানো হয়।

ঘটনার পাঁচ দিন পর গত ১৩ জুন নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে প্রথম এ-সংক্রান্ত অভিযোগ প্রকাশ্যে জানান পরীমনি। সেদিন রাতে বনানীর বাসায় সাংবাদিকদের ডেকে ঢাকা বোট ক্লাবে কী ঘটেছিল, তার বর্ণনা দেন তিনি।

পরদিন ১৪ জুন সাভার থানায় পরীমনি বাদী হয়ে ব্যবসায়ী নাসির ও তুহিনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয়ের আরও চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

মামলার আড়াই মাস পর গত ৪ আগস্ট পরীমনির বনানীর বাসায় অভিযান চালায় র‍্যাব। পরে তাঁকে মাদক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এই মামলায় তিন দফায় মোট সাত দিন তাঁকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

গ্রেপ্তারের ২৭ দিন পর গত ১ সেপ্টেম্বর পরীমনি কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান। মাদক মামলায় পরীমনিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে দেওয়া অভিযোগপত্র আমলে নিয়েছেন ঢাকার আদালত। মামলাটি বিচারাধীন।

সূত্র: প্রথম আলো