১৯শে আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা ভাদ্র, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

তামাক কোম্পানির শিল্প উন্নয়ন পুরস্কারপ্রাপ্তি প্রধানমন্ত্রীর তামাকমুক্ত দেশ করার ঘোষণার সাথে সাংঘর্ষিক

আপডেট : নভেম্বর ৯, ২০২১ ৮:০৩ অপরাহ্ণ

197

ভয়েস বাংলা ডেস্ক

ধূমপানমুক্ত বাংলাদেশ গড়া বর্তমান সরকারের একটি রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০৪০ সালের মধ্যে তামাকমুক্ত দেশ গড়ার ঘোষণা দিয়েছেন। ২০১৬ সালের ৩০ জানুয়ারি দক্ষিণ এশিয়া স্পিকার্স সম্মেলনের শেষ দিনে তিনি ঘোষণা দেন, ২০৪০ সালের মধ্যে তামাক মুক্ত দেশ হবে। এ ঘোষণাটি এতটাই যুগোপযোগী ও প্রাসঙ্গিক ছিল যে, তামাকবিরোধী সকল সংস্থাসহ সর্বক্ষেত্রে তা প্রশংসিত হয়। বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সহযোগিতায় ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন (আইপিইউ) এবং তামাকমুক্ত শিশু প্রচারাভিযান কার্যক্রম এ সম্মেলনের আয়োজন করেছিল।

প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে সরকার নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় রাষ্ট্রপতির শিল্প উন্নয়ন পুরস্কার প্রদান নীতিমালা-২০২০ এ তামাক বা তামাকজাতীয় পণ্যভিত্তিক বা জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কোনো পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে এই পুরস্কারের জন্য অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের জন্য শিল্প মন্ত্রণালয়কে ভয়েস এবং আন্যান্য তামাক বিরোধী সংগঠনসমূহের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছিল। কিন্তু যে বিবেচনায় এই নীতিমালায় তামাক কোম্পানিকে পুরস্কারের জন্য অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে, সেই একই বিবেচনায় ২০১৯ সালের রাষ্ট্রপতির শিল্প উন্নয়ন পুরস্কারের জন্য তামাক কোম্পানিকে বিবেচনা না করলে তা হতো জনস্বার্থের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ ও জনস্বাস্থ্য উন্নয়নের জন্য বিবেচনাপ্রসূত সিদ্ধান্ত। কিন্তু তা হয়নি, তামাক  কোম্পানিকে এই পুরস্কার প্রদান সুস্পষ্টভাবে পুরস্কার প্রদান নীতিমালার নৈতিক অবস্থানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

তামাক কোম্পানিগুলো এমন একটি পণ্যের বাণিজ্য করে যা মানুষকে মৃত্যুর পথে নিয়ে যায়। দেশে তামাক সেবনজনিত রোগে প্রতি বছর প্রায় ১ লক্ষ ৬১ হাজার মানুষ মারা যায় এবং চিকিৎসা ব্যয় ও উৎপাদনশীলতা হারানোর কারণে বছরে ৩০ হাজার কোটি টাকারও বেশি অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়। এই পুরস্কার প্রদান তামাক কোম্পানিকে তাদের ব্যবসা প্রসারে উৎসাহিত করবে যা দেশের জনস্বাস্থ্য ও অর্থনীতির ওপর মারাত্বক নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তাই তামাক কোম্পানিকে প্রদত্ত পুরস্কার বাতিল করে জনকল্যাণকর শিল্প উন্নয়নে অবদান রাখছে এমন আরেকটি শিল্প প্রতিষ্ঠানকে এই পুরস্কার প্রদানের দাবি জানিয়েছে বেসরকারি সংগঠন ভয়েস।

বাংলাদেশে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন নামে একটি আইন আছে। আইনটি ২০০৫ সালে প্রণীত হয়, আর ২০১৩ সালে এতে সংশোধনী আনা হয়। বাংলাদেশে তামাক নিয়ন্ত্রণের জন্য এটিই প্রধান আইন। এই আইন এবং ২০১৫ সাল থেকে প্রবর্তিত বিধিগুলিতে তামাক নিয়ন্ত্রণে যেসব বিষয়গুলোর উল্লেখ রয়েছে তাহলো: পাবলিক প্লেসে ধূমপান নিষিদ্ধ; তামাকজাত দ্রব্যের বিজ্ঞাপন, প্রচারণা এবং স্পনসরশিপ; অপ্রাপ্তবয়স্কদের কাছে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রয় বন্ধ করা; তামাকজাত দ্রব্যের মোড়কে সচিত্র স্বাস্থ্যসতর্কবার্তা এবং আইনের প্রয়োগ ও শাস্তি।

ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইনটি বিভিন্ন দিক ডব্লিউএইচও’র ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোব্যাকো কন্ট্রোল (এফসিটিসি) এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, কিন্তু সময়ের ব্যবধানে আইনে কিছু দুর্বলতা দেখা দিয়েছে। তামাক ব্যবহার জনস্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর। তাই সরকার দ্বিতীয় দফায় এই আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে।

ভয়েসের নির্বাহী পরিচালক আহমেদ স্বপন মাহমুদ বলেন, জনস্বাস্থ্য রক্ষার জন্য তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়ন জরুরি। আর যে সংস্থাটি বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক ক্ষতি ঘটানোর পাশাপাশি বড় ধরনের স্বাস্থ্য  বিপর্যয় ঘটাচ্ছে সে কোম্পানিকে পুরস্কার দেওয়া নীতিবিবর্জিত।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তামাক ব্যবহারের ভয়াবহতা উপলব্ধি করেই ২০৪০ সালের মধ্যে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ অর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। শিল্পমন্ত্রণালয় এবং অন্যান্য মন্ত্রণালয়েরও উচিত হবে প্রাণঘাতী তামাক পণ্য উৎপাদনকারী কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কৃত না করা।




স্মৃতি ও স্মরণ

ছবি