২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

ভারতে রপ্তানির ঘোষণায় ইলিশের দাম চড়া

আপডেট : সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২১ ১০:১৯ অপরাহ্ণ

102

ভয়েস বাংলা ডেস্ক

ভারতে রপ্তানির ঘোষণায় ইলিশের দাম চড়া,
পূর্ণিমার কারণে দক্ষিণ উপকূলে দুই দিন ধরে ইলিশের প্রাচুর্য বাড়লেও পাইকারি ও খুচরা বাজারে দামে প্রভাব পড়েনি। উপরন্তু কোনো কোনো মোকামের পাইকারি বাজারে মণপ্রতি দাম ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এতে জেলে-ব্যবসায়ীরা খুশি হলেও সাধারণ ক্রেতাদের মুখ ভার।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরকার ভারতে ইলিশ রপ্তানির সিদ্ধান্ত নেওয়ায় দেশের বাজারে ইলিশের দাম এখনো চড়া। বরিশালের মোকামে দাম আগের মতো থাকলেও দক্ষিণের সবচেয়ে বড় ইলিশ মোকাম বরগুনার পাথরঘাটা বিএফডিসি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে এক সপ্তাহের ব্যবধানে মণপ্রতি দাম বেড়েছে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা। হঠাৎ করে ইলিশের দাম বেশি পাওয়ায় জেলে, ট্রলারমালিক, আড়তদারসহ মৎস্যজীবীরা বেশ খুশি। তবে এ নিয়ে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে।

বরিশাল পোর্ট রোডের মৎস্য আড়তদার সমিতির সভাপতি আশরাফ আলী বলেন, ‘আমাদের এখানে পাইকারি বাজারে ইলিশ বেড়েছে, তবে দাম আগের মতোই আছে।’ আর পাথরঘাটা বিএফডিসি মৎস্য আড়দার সমিতির সদস্য বাবুরাম কর্মকার বলেন, বাংলাদেশ থেকে ভারতে ইলিশ রপ্তানির দরজা খুলে যাওয়ায় ভারতে ইলিশের চাহিদা বেড়েছে। একই সঙ্গে দেশের বাজারেও ইলিশের বাড়তি চাহিদা রয়েছে। এতে জেলেরা ইলিশের ভালো দাম পাচ্ছেন।

বরগুনার পাথরঘাটা বিএফডিসি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে এক সপ্তাহের ব্যবধানে মণপ্রতি দাম বেড়েছে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা।
বিজ্ঞাপন

গতকাল পোর্ট রোডে ৭০০ মণের মতো ইলিশ এসেছে। আগে আসত ৩০০-৪০০ মণ। গতকাল এখানে ৭০০ গ্রাম থেকে ১ কেজির নিচের ইলিশের মণপ্রতি মূল্য ছিল ৩৮ হাজার টাকা। এক কেজি সাইজের ইলিশ মণপ্রতি বিক্রি হয়েছে ৪৬ হাজার টাকা এবং এর ওপরের ওজনের ইলিশ মণপ্রতি বিক্রি হয়েছে ৪৮ হাজার টাকা। দেড় কেজির ইলিশ বিক্রি হয়েছে ৫২ হাজার টাকা মণ। আর সাগরের ইলিশ বিক্রি হয়েছে ২০ থেকে ২২ হাজার টাকার মধ্যে।

অন্যদিকে পাথরঘাটার পাইকারি মোকামে গতকাল ৭৭৫ মণ ইলিশ এসেছে। সেখানে ৪০০ থেকে ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতি মণ ২২ থেকে ২৫ হাজার টাকা, ৬০০ থেকে ৭০০ গ্রামের ইলিশ প্রতি মণ ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা, ৮০০ থেকে ৯৫০ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতি মণ ৪০ থেকে ৪৮ হাজার টাকা এবং ১ কেজি বা এর বেশি ওজনের ইলিশ প্রতি মণ ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে।

পাথরঘাটা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র সূত্র জানায়, এবার ইলিশ মৌসুমে খরা গেলেও মৌসুম শুরুর আগেই বেশ ইলিশ এই বন্দরে এসেছে। ফলে আগের বছরের চেয়ে এবার উৎপাদন বেশি হবে। তাদের হিসাবে, গতকাল এই অবতরণ কেন্দ্রে ৩১ মেট্রিক টন বা ৭৭৫ মণ ইলিশ বেচাকেনা হয়েছে। গত বছর এই দিনে এখানে ইলিশ বেচাকেনা ছিল মাত্র ৩ দশমিক ৪৩ মেট্রিক টন। গত জুলাই মাসে এখানে ইলিশের উৎপাদন ছিল ৭২ দশমিক ৬৫ মেট্রিক টন, যা পরবর্তী আগস্ট মাসে বেড়ে দাঁড়ায় ৩৬৪ দশমিক ৬৫ মেট্রিক টন। একইভাবে সেপ্টেম্বর মাসে উৎপাদন বেড়ে দাঁড়ায় ৫৫৫ দশমিক ৬৩ মেট্রিক টন।

ওই সূত্র আরও জানায়, ২০২০ সালে পুরো বছরে এই অবতরণ কেন্দ্রে ইলিশের উৎপাদন ছিল ১ হাজার ১১ দশমিক ২০ মেট্রিক টন। আর চলতি বছর জুলাই থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে উৎপাদন হয়েছে ৯৯২ দশমিক ৯৩ মেট্রিক টন।

বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) পাথরঘাটা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের মৎস্য বিপণন কর্মকর্তা বিপ্লব কুমার সরকার গতকাল দুপুরে প্রথম আলোকে বলেন, এবার ইলিশের ভরা মৌসুমে বেশ খরা গেছে। নদ-নদীতে ইলিশ আসেনি। কিন্তু পূর্ণিমা তিথিকে ঘিরে সেই খরা গত কয়েক দিনে কেটে গেছে।

পাথরঘাটা বিএফডিসি পাইকার সমিতির সভাপতি শাফায়েত হোসেন বলেন, গত এক সপ্তাহ মাছের দাম বেড়ে চলেছে। গতকাল থেকে রপ্তানিকারকেরা পাথরঘাটা মাছবাজার থেকে মাছ ক্রয় করায় দাম প্রতি মণে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।

এদিকে বরিশালের খুচরা বাজারে ইলিশের আকার ভেদে দাম এক হাজার থেকে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। নগরের চৌমাথা বাজারে গতকাল বিকেলে কথা হয় ক্রেতা আমির হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, বাজারে বেশ ইলিশ আসছে, কিন্তু দাম কমছে না। এখন ইলিশের ভরা মৌসুম। এই সময়েও যদি এক থেকে দুই হাজার টাকা কেজিতে ইলিশ কিনতে হয়, সেটা খুব দুর্ভাগ্যজনক। সাধারণ মানুষের পক্ষে এত দাম দিয়ে ইলিশ কেনা অসম্ভব।

ভরা পূর্ণিমা ঘিরে চাঁদপুর মাছঘাট ইলিশে ভরপুর
ভরা পূর্ণিমা ঘিরে চাঁদপুর মাছঘাট ইলিশে ভরপুর
শারদীয় দুর্গোৎসব সামনে রেখে বাংলাদেশ সরকার ভারতে ২ হাজার ৮০ মেট্রিক টন বা ২০ লাখ কেজির বেশি ইলিশ রপ্তানি করার অনুমতি দিয়েছে। গত সোমবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ–সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। এতে আগামী তিন সপ্তাহে ভারতে মোট ২ হাজার ৮০ মেট্রিক টন বা ২০ লাখ ৮০ হাজার কেজি ইলিশ মাছ রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে ইলিশ মাছ রপ্তানি বিষয়ে প্রাপ্ত আবেদনগুলো যাচাই–বাছাই করে শর্ত সাপেক্ষে কিছু প্রতিষ্ঠানকে ভারতে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের ৫২টি প্রতিষ্ঠানের প্রতিটিকে ৪০ মেট্রিক টন করে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে এবং এই প্রতিষ্ঠানগুলোর নামের তালিকা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জানানো হয়েছে।
সূত্রঃ প্রথম আলো




স্মৃতি ও স্মরণ

ছবি