২৭শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

৯ বছর আগে ‘হত্যার পর লাশ গুমের’ শিকার ছেলেটি দিব্যি সংসার করছে

আপডেট : সেপ্টেম্বর ২১, ২০২১ ১০:৫৯ অপরাহ্ণ

56

ভয়েস বাংলা ডেস্ক

বরিশালের গৌরনদীতে ৯ বছর আগে ‘হত্যার পর লাশ গুমের শিকার’ কিশোরকে গতকাল সোমবার পূর্ণ বয়স্ক ব্যক্তি হিসেবে ঢাকার যাত্রাবাড়ী থেকে উদ্ধার করে আদালতে সোপর্দ করেছে পুলিশ। তাঁর নাম রাসেল মৃধা। হত্যা ও লাশ গুমের অভিযোগে ১৩ জনকে আসামি করে করা মামলায় ৪ জন জেলহাজত খেটে এখন জামিনে, বাকি ৯ আসামি পলাতক।

জামিনে মুক্ত চারজনের একজন মো. মবিন ভূঁইয়া। তিনি অভিযোগ করেন, ‘অপহরণের পর হত্যা করে লাশ গুমের মিথ্যা মামলায় আমি, রহমান মৃধা, আরমান মৃধাসহ চারজন দীর্ঘদিন কারাভোগ করেছি। পালিয়ে থেকে পরিবারসহ মানবেতর জীবন যাপন করছেন নয়জন। হয়রানিমূলক এ মামলায় ৯ বছরে আমরা ১৩টি পরিবার নিঃস্ব হয়ে গেছি। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বাদীর দ্বারা প্রভাবিত হয়ে সঠিক তদন্ত ছাড়াই আমাদের ১৩ জনের নামে আদালতে অভিযোগপত্র দেন। আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করায় বাদী ও মামলার তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।’

খুন করে লাশ গুমের অভিযোগে মামলা করার সময় রাসেল মৃধার বয়স ছিল ১৪ বছর। ৯ বছর পর তাঁর বয়স এখন ২৩। তিনি জানান, গৌরনদী থেকে পালিয়ে তিনি ঢাকায় চলে যান। যাত্রাবাড়ীতে তিনি স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে ছিলেন।

জীবিত থেকেও পালিয়ে ছিলেন কেন, জানতে চাইলে রাসেল মৃধা বলেন, ‘মা আমাকে মামলার কথা জানিয়ে পালিয়ে থাকতে বলেন। বিয়ে করে স্ত্রী–সন্তানদের নিয়ে তাই আত্মগোপনে ছিলাম।’

ছেলেকে হত্যার পর লাশ গুমের অভিযোগ করে মামলা করেছিলেন রাসেল মৃধার মা। মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা সরিকল পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফোরকান হোসেন। ঘটনার বিষয়ে তিনি বলেন, গৌরনদী উপজেলার কলাবাড়িয়া গ্রামের মো. জালাল মৃধার স্ত্রী ফাহিমা বেগম ২০১২ সালের মে মাসে গৌরনদী মডেল থানায় মামলা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, তাঁর ১৪ বছরের ছেলে রাসেল মৃধাকে অপহরণের পর হত্যা করে লাশ গুম করা হয়েছে। মামলায় তিনি একই গ্রামের প্রতিবেশী এস রহমান মৃধা (৫৫), তাঁর ছেলে আরমান মৃধা (২৬), রায়হান (২৩), স্থানীয় শাহীন মল্লিক (৩০), হক ভূঁইয়া (৭০), তাঁর ছেলে মবিন ভূঁইয়াসহ (২৮) ১৩ জনকে আসামি করেন। ২০১৩ সালের শেষের দিকে এজাহারভুক্ত ১৩ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। মামলার তদন্তকালে ১২ জনের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে যে তথ্য পাওয়া গেছে, তার ভিত্তিতেই অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়।

গৌরনদী থানা সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় গতকাল ঢাকার যাত্রাবাড়ী থেকে রাসেল মৃধাকে উদ্ধার করে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার তাঁকে গৌরনদী থানায় আনা হয়। পরে তাঁকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।

গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আফজাল হোসেন বলেন, রাসেল মৃধার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

সূত্র: প্রথম আলো




ছবি