২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

কথা বলতে দিলে আপনাদেরই লাভ, প্রধানমন্ত্রীকে জাফরুল্লাহ

আপডেট : আগস্ট ৩১, ২০২১ ১১:৪৬ অপরাহ্ণ

120

ভয়েস বাংলা ডেস্ক

সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সব মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। তিনি বলেন, কথা বলতে দিলে আপনারই লাভ হবে।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত ‘মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষায় সাংবাদিকদের ভূমিকা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাফরুল্লাহ চৌধুরী এ কথা বলেন। বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফাউন্ডেশন নিজেদের সপ্তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এ আলোচনার সভার আয়োজন করে।

জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, গণতন্ত্রে আঘাত এলে কথা বলতে হবে। সে কথা বলবেন সাংবাদিকেরা। কিন্তু এখন সাংবাদিকদের মুখে কাপড় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি ঢাকার চন্দ্রিমা উদ্যানে সংঘর্ষ হয় বিএনপি ও পুলিশের মধ্যে। এ নিয়ে পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মন্তব্য করেন, জিয়াউর রহমানের লাশ সেখানে নেই। এ বিষয়ে জাফরুল্লাহ বলেন, ‘আমরা কবর নিয়ে রাজনীতি করছি। আমরা উন্মাদ হয়ে গেছি।

বিএনপির রাজনীতি নিয়ে আপনারা (আওয়ামী লীগ) অপবাদ করছেন।…বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ায় জিয়াউর রহমানকে প্রমোশন দিয়েছিলেন। তাঁকে তিরস্কার করেন নাই। জিয়ার বক্তব্যে আমরা কি অনুপ্রাণিত হইনি? আমি আবেদন করছি, বঙ্গবন্ধুকে অশ্রদ্ধা করবেন না। জিয়াকেও তাঁর মতো (কবরে) থাকতে দিন।’

জাফরুল্লাহ চৌধুরী আরও বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে আমরা ভালোবাসব। জিয়াউর রহমানকে তাঁর ভালো কাজের জন্য সমীহ করতে হবে।…প্রধানমন্ত্রী, আপনি ইতিহাসকে বাঁচান।’ এ ছাড়া আফগানিস্তানে তালেবান শাসন নিয়েও কথা বলেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি। তিনি বলেন, ‘আমরা যারা মুক্তিযুদ্ধ করেছি তাদের দায়িত্ব আছে আফগানিস্তানকে ভালো পথে আনার।’

বিএনপির নেত্রী খালেদা জিয়া এখনো কার্যত জেলে আছেন মন্তব্য করে জাফরুল্লাহ বলেন, খালেদা জিয়াকে দিয়ে বিএনপিকে দাঁড় করানো সম্ভব। তাঁকে জামিন দিতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি জাফরুল্লাহ বলেন, আপনি বিশ্ব রাজনীতিতে অবদান রাখুন। রোহিঙ্গাদের এনে ভালো কাজ করেছেন, সমস্যাও করেছেন। এটা সমাধান করুন।

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, ‘মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কতটা ন্যায্য, এটাও ব্যাখ্যা করার বিষয় বলে আমি মনে করি না। আমাদের প্রাইভেসি বলতে কিছু নেই। এখন প্রতিবাদ করেও লাভ নেই। আমরা দেখেছি সব ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। কষ্ট পেয়েছি, কিন্তু তখন প্রতিবাদ করিনি।’ তিনি বলেন, সরকার (করোনাভাইরাসের) টিকা আনতে পারে না। কিন্তু মেট্রোরেলের ছবি, পদ্মা সেতুর ছবি দেখিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করে। দেশ পরিচালনার কাজে থাকা বর্তমান রাজনৈতিক দলকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, নিজেরটা বোঝে, জনগণেরটা বোঝে না। এ জন্যই অধিকার আদায়ের সংগ্রাম করতে হবে। সংগ্রাম ছাড়া জীবনের কোনো মানে হয় না।

প্রধান আলোচক হিসেবে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি এম আবদুল্লাহ বলেন, এ দেশে মানুষের অধিকার খর্ব করা হচ্ছে। অন্যান্য দেশে পশুপাখিদের অধিকার নিয়ে কথা হচ্ছে। কিন্তু আমাদের এখানে মানুষের কথা বলার জন্য আন্দোলন করতে হয়।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের আহ্বায়ক শওকত মাহমুদ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব নূরুল আমিন রোকনসহ অনেকে।

সূত্র: প্রথম আলো




স্মৃতি ও স্মরণ

ছবি