৩রা অক্টোবর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১৮ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

বন্ধুর প্রতারণার ফাঁদে পড়ে নি:স্ব ৩ প্রবাসী, কোথাও মিলছে না বিচার

আপডেট : আগস্ট ৯, ২০২১ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ

344

ভয়েস বাংলা ডেস্ক

পরিবার পরিজনকে একটু ভালো রাখতে জন্মভূমি থেকে হাজার কি:মি দূরে প্রবাস জীবন বেছে নেন অনেকেই।তাদের কষ্টার্জিত আয় দেশের অর্থনীতিকে রাখে সচল। নিজের সুখ বিসর্জন দিয়ে এমন ত্যাগের উদাহরণ আছে ভুড়ি ভুড়ি। কিন্তু কখনো কখনো নানাজনের প্রতারণার ফাঁদে পড়ে সর্বশান্ত হওয়ার গল্পও কম নয়।

এমনি ৩ বাংলাদেশি মো: আবুল কাশেম, মো: বেলাল হোসেন ও মো: দাউদুর রহমান। সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাস আল খাইমা শহরে, কাছাকাছি বাস করার সূত্র ধরে এই ৩ জনের পরিচয় হয় কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার মমিনুর রহমানের সাথে।সম্পর্কের সুযোগে যৌথভাবে ব্যবসা করার প্রস্তাব পেয়ে কষ্টার্জিত আয় ও ভিটেমাটি -স্বর্ণ অলংকার বিক্রি করে কোটি টাকা বিনিয়োগ করে ভুক্তভোগীরা। সেখানেই গড়ে তোলে একটি জিপসাম ফ্যাক্টরি।

কিন্তু মমিনের মনে ছিলো প্রতারণার ফাঁদ, যা বুঝতে পারেননি অন্যরা। একপর্যায়ে কোম্পানির চেকবই ও গুরুত্বপূর্ণ নথি চুরি এবং সই জালিয়াতি করে একাধিক মামলা করে উল্টো জেলে পাঠায় তাদেরকে। এই সুযোগে দখলে নেয় কারখানাটি।এতেই ক্ষান্ত হয়নি মমিন। ব্ল্যাকমেইল আর নানা কৌশলে হাতিয়ে নেয় বিপুল অর্থ। একদিকে জায়গা-জমি হারিয়ে আবার ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে গিয়ে পথে বসেছে ভুক্তভোগীদের পরিবার।

পরবর্তীতে প্রতারক মমিনের বিরুদ্ধে তারা প্রতারণার মামলা করে। কিন্তু অর্থের অভাবে সে মামলা চালানো কঠিন হয়ে যায়। জানা যায়, রাস আল খাইমা শহরে একটি চক্র গড়ে তুলেছে প্রতারক মমিন। একটি মোটর গ্যারেজের কর্মচারি হয়েও প্রতারনা করে মালিককেই সরিয়ে দেয় সে।এভাবে টাকার নেশায় অনেককেই টার্গেট করে ফাঁদে ফেলে সে।

মমিনসহ এই সিন্ডিকেটের নানা কর্মকান্ডের তথ্য বেসরকারি যমুনা টেলিভিশনসহ বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।
ভূক্তভোগীরা এ বিষয়ে প্রথমে বাংলাদেশ কমিউনিটির নেতাদের কাছে অভিযোগ,পরবর্তীতে দুবাই কনস্যুলেট জেনারেলে চিঠিসহ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েও অভিযোগ দাখিল করেন।তারা প্রতারক মমিনের শাস্তি এবং অর্থ সম্পদ ফিরে পাওয়ার দাবি জানান।
এত কিছুর পরও সমাধান না পেয়ে গত দুই বছরের বেশি সময় ধরে ন্যায়বিচারের আশায় ঘুরছেন ভুক্তভোগীরা। তারা জানেন না কোথায় গেলে পাবেন বিচার?




স্মৃতি ও স্মরণ

ছবি