৩রা অক্টোবর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১৮ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশের ডিবি পুলিশ

আপডেট : আগস্ট ২, ২০২১ ১:৩৮ অপরাহ্ণ

394

মাসুদুল হাসান রনি

কাউকে গ্রেফতার করার পূর্বে ডিবি পুলিশ বাড়িঘর তছনছের পর আবিস্কার করে মদের বোতল। এরপর জনার্কীন সাংবাদিক সম্মেলন করে জানান দেয়, ‘অমুকের গ্রেফতারের সময় বাসায় এতো বোতল বিদেশী মদ পাওয়া গেছে! কিংবা সাথে কয়েক শত ইয়াবা, গাঁজা। ‘

কোন তরুনকে গ্রেফতার করলে থানা হাজতে নেয়ার সময় কোত্থেকে যেন ভাঙ্গা পিস্তল হাজির করা হয়। বলা হয়, ‘এই তরুন ভয়ংকর সন্ত্রাসী এবং অবৈধ অস্ত্র রাখার দায়ে গ্রেফতার! ডিবি পুলিশের এই চার্তুযতায় সেই তরুনের জীবন যেমন শেষ হয় , তেমনি পুরো পরিবারকে পথের ফকির হতে হয় অস্ত্র মামলার টাকার জোগান দিতে গিয়ে।

মানুষকে সবার সামনে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য বাংলাদেশের ডিবি পুলিশের কাছে মোক্ষম অস্ত্র হচ্ছে মাদকদ্রব্য। অনেকের বাসায় অভিযান চালানোর সময় কিছু না পাওয়া গেলেও থানায় সাংবাদিক ডেকে দেখানো হয়, সারি সারি মদের বোতল।

একটু ভেবে দেখুন, দেশে যতো ক্রসফায়ার হয়েছে তার কাহিনীগুলো কি রকম ছিল। এক্ষেত্রেও তাই। এগুলো যে মিথ্যা ও সাঁজানো নাটক এবং দূর্বল স্ক্রীপ্টের চিত্রায়ন তা আমজনতাও বোঝে।

এ প্রসঙ্গে মনে পড়ে, ১/১১ এর সময় প্রয়াত ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদের বাসায় কিছু না পেয়ে ডিবি পুলিশ ৬ বোতল মদ উদ্ধার করেছিল। তার বিরুদ্ধে বাসায় অবৈধ মাদকদ্রব্য রাখায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এ ঘটনায় মওদুদ আহমেদকে যতোটা হেয় করা হয়েছে তারচেয়ে বেশী ওয়ান ইলেভেনের সরকার সমালোচিত হয়েছে।

এবার  অভিজ্ঞতার কথা বলি।

আমি তখন টেলিভিশনে কাজ করি। প্রতিদিন গভীর রাতে গুলিস্তান হতে বাসে নারায়ণগঞ্জে ফিরতাম। প্রায় রাতে ঢাকা – নারায়ণগঞ্জের লিংক রোডে টহল পুলিশ বাস থামিয়ে তল্লাশির নামে মানুষকে হয়রানি করতো। পুলিশ কখনো আমাকে কিছু জিগেস করতো না। জিজ্ঞাসাবাদ করতো নিরীহ গোবেচারা টাইপের সাধারণ যাত্রীদের। তাদের পকেট, ম্যানিব্যাগ চেকিংয়ের নামে বাস থেকে নামিয়ে অন্ধকারে নিয়ে যেত। এরপর শুনতাম অই যাত্রীর পকেটে ইয়াবা বা গাঁজা পাওয়া গেছে! 

ঘটনার সত্য মিথ্যা জানা যেত লোকটি যখন কিছু অর্থ পুলিশের হাতে দিয়ে ৮/১০ মিনিট পর বাসে ফিরে আসতো। এরকম অসংখ্য ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ছিলাম। যেখানে বাসের ভিতর আলোয় লোকটির সারা শরীর তল্লাশি করে কিছু পাওয়া যায়নি কিন্তু বাস থেকে নামিয়ে অন্ধকারে নিয়ে যাবার পর আবিস্কার হতো তার সাথে ইয়াবা পাওয়া গেছে! 

কি অদ্ভুত আমাদের আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারি বাহিনীর দক্ষতা!

২.

দেশে অসংখ্য বৈধ মদের বার আছে। লাখো মানুষের মদ্যপানের বৈধ লাইসেন্স আছে। ওয়্যারহাউজে মদ বিক্রিও হয়। বিভিন্ন ক্লাব,বারে গিয়ে যদি মদ্যপান করা যায়, তাহলে বাসায় বসে পান করলে সমস্যা কি?  মদ্যপানতো  ব্যক্তির ইচ্ছা অনিচ্ছা বা স্বাধীনতা। যদি কেউ মদ্যপান করে কাউকে বিরক্ত না করেন,  সামাজিক বিশৃংখলা ও শান্তি বিনস্ট না করেন তাতে কারো সমস্যা হবার কথা নয়। সেই কারনে বাসায় দু’এক বোতল মদ কেউ যদি রাখে তা ফলাও করে প্রচারের কি আছে?

হ্যা আমিও চাই,  প্রকৃত অপরাধী যেই হোক , যতো ক্ষমতাধরই হোক সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে  গ্রেফতার করা হোক এবং সাক্ষী প্রমান সাপেক্ষে মালামাল জব্দ করে জনসম্মুখে প্রকাশ করা নিয়ে কোন বির্তক নেই।

৩.

আচ্ছা দেশে কি ইসলামী শাসন ব্যবস্থা কায়েম হয়েছে?সৌদি আইন কানুনে দেশ পরিচালিত হচ্ছে? 

যদি নাই বা হয়, তাহলে মদ বিক্রির বৈধতা দেয়া উচিত। এতে সরকার লাভবান হবে। বিপুল পরিমান রাজস্ব আসবে। ডিবি পুলিশের হয়রানি থেকে মানুষ বাঁচবে। এক ব্যক্তির কাছে নির্দিস্ট পরিমানের বেশী বোতল বিক্রি যেমন করা যাবে না,তেমনি কেউ নির্দিস্ট পরিমানের বেশী বোতল বহন ও সংরক্ষন করতে পারবে না। প্রকাশ্যে পানাহার ও বিশৃংখলা তৈরি করলে গ্রেফতার, শাস্তি ও জরিমানা রাখা উচিত। 

এতে অন্তত দেশে নিষিদ্ধ মরণনেশা ইয়াবা, ফেন্সিডিল বা অন্যান্য মাদকদ্রব্যের ব্যবহার নিয়ন্ত্রনে আনা সম্ভব।

(ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে)




স্মৃতি ও স্মরণ

ছবি