৩রা অক্টোবর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১৮ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

রপ্তানি বন্ধ, তাই ভারতের কাছে টিকা উপহার চেয়েছি: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট : মে ২০, ২০২১ ৫:৪৭ অপরাহ্ণ

125

ভয়েস বাংলা ডেস্ক

ত্রিপক্ষীয় চুক্তির আওতায় ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী টিকা দিতে না পারায় বাংলাদেশের অন্তত ১৫ লাখ মানুষের অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার দ্বিতীয় ডোজ নিয়ে অনিশ্চয়তা চলছে। সেরাম টিকা রপ্তানি বন্ধ রেখেছে। এ পরিস্থিতিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন গত মঙ্গলবার ফোনে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করকে প্রয়োজনে উপহার হিসেবে টিকা দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।

আজ বৃহস্পতিবার (২০ মে) দুপুরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এ কথা জানান আব্দুল মোমেন। দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের পর তিনি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন।

আব্দুল মোমেন বলেন, ‘আমি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করকে ফোন করেছিলাম। ভারত কখনোই বলেনি যে টিকা দেবে না। তবে তারা দিতে পারছে না। আমি এর আগে চিঠিও দিয়েছি। আমি ওই দিন বলেছি যে আমরা ঝামেলায় পড়েছি। আমাদের ১৫ লাখ লোক দ্বিতীয় ডোজ টিকার জন্য আটকে গেছে। টিকা রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা থাকলে প্রয়োজন হলে আমাদের উপহার হিসেবে দিন। কারণ, এর আগে আপনারা আমাদের উপহার দিয়েছিলেন।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘জয়শঙ্কর বললেন, “আমি আপনাদের অবস্থা জানি। আপনিও আমাদের অবস্থা জানেন। দিনে চার হাজারের বেশি লোক মারা যাচ্ছে। চার লাখের বেশি লোক সংক্রমিত হচ্ছে। সেরামের উৎপাদন করার ক্ষমতা ছিল ২০ কোটি। কিন্তু ১০ কোটিও উৎপাদন করতে পারছে না। আমাদের অবস্থা শোচনীয়।” আমি বললাম, আমাদের অবস্থা আরও খারাপ। কারণ, ১৫ লাখ লোক টিকা না পেলে সবকিছু নষ্ট হয়ে যাবে। যেকোনোভাবে টিকা সরবরাহ করার কথা বলেছি।’

আব্দুল মোমেন বলেন, ‘জয়শঙ্কর আমাকে জিজ্ঞাসা করেছেন, অন্য জায়গা থেকে আমরা টিকা আনার চেষ্টা করছি কি না। আমি বললাম, আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে বলেছি। কোভ্যাক্সকে আপনারা দিচ্ছেন না বলে সেখান থেকে পাচ্ছি না। যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ভারতের প্রভাব রয়েছে। আমি জয়শঙ্করকে অনুরোধ করেছি তাদেরকে আমাদের টিকা দেওয়ার জন্য বলতে।’

ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটে উৎপাদিত অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার করোনাভাইরাসের টিকা দিয়ে গত ৮ ফেব্রুয়ারি দেশে গণটিকাদান কর্মসূচি চালু করা হয়েছিল। সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে তিন কোটি ডোজ টিকা আনার বিষয়ে চুক্তি হয়েছিল। চুক্তি অনুযায়ী ছয় মাসে এসব টিকা আসার কথা ছিল। তবে সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে দুই চালানে মোট ৭০ লাখ টিকা পেয়েছে বাংলাদেশ। এর বাইরে ভারত সরকারের উপহার হিসেবে পাওয়া গেছে ৩৩ লাখ ডোজ টিকা। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ায় গত মার্চে টিকা রপ্তানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করে ভারত। এতে বাংলাদেশ টিকা পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছে। ইতিমধ্যে যাঁরা টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে প্রায় ১৫ লাখ মানুষের দ্বিতীয় ডোজ পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

সূত্র: প্রথম আলো




স্মৃতি ও স্মরণ

ছবি