২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

নাক থেকে নমুনা সংগ্রহ, মস্তিষ্কের কি ক্ষতি হচ্ছে?

আপডেট : জুলাই ১৯, ২০২০ ১২:১৯ অপরাহ্ণ

224

ভয়েস বাংলা ডেস্ক

করোনাভাইরাস পরীক্ষা মানুষের শরীরের ক্ষতি করে বিভিন্ন ভাষায় এমন দাবি ছড়িয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া এরকম কয়েকটি দাবি যাচাই করে এই প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন বিবিসির রিয়ালিটি চেক বিভাগের জ্যাক গুডম্যান ও ফিয়োনা কারমাইকেল।

নাক থেকে নমুনা সংগ্রহের পদ্ধতি মস্তিষ্কের ক্ষতি করে না কেন?
নাকের ভেতর থেকে সোয়াব বা নমুনা নেবার একটি ছবি ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে ব্যাপকভাবে শেয়ার হয়েছে । ছবির সাথে দাবি করা হয়েছে নমুনা নেয়া হচ্ছে “ব্লাড-ব্রেন-ব্যারিয়ার” থেকে।

রক্ত থেকে কোনরকম বিষাক্ত পদার্থ বা জীবাণু যাতে মস্তিষ্কে ঢুকতে না পারে সেই কাজ করে এই ব্লাড-ব্রেন-ব্যারিয়ার অর্থাৎ এটি মস্তিষ্কের জন্য একটি সুরক্ষা দেয়াল।

নাকের ভেতর থেকে নমুনা নেবার সময় ওই দেয়াল পর্যন্ত পৌঁছানো একেবারেই অসম্ভব।

কেন সেটা অসম্ভব?
মস্তিষ্ককে রক্ষা করার জন্য তাকে ঘিরে রয়েছে বেশ কয়েকটি স্তর। প্রথম এবং সবচেয়ে পরিচিত সুরক্ষা স্তর হল মাথার খুলি। এই খুলির ভেতরেও মগজ বা মস্তিষ্ককে রক্ষা করছে সুরক্ষা ঝিল্লি এবং কিছু জলীয় পদার্থের আস্তরণ।

মস্তিষ্কের দেয়ালে যে রক্তনালীগুলো আছে, সেটার মধ্যে থাকা ব্লাড-ব্রেন-ব্যারিয়ার হল শক্তভাবে ঠাসা কোষের স্তর। এই সুরক্ষা স্তরের কাজ হল রক্ত থেকে ক্ষুদ্র অণুকে মস্তিষ্কে ঢুকতে বাধা দেয়া। কিন্তু রক্ত থেকে অক্সিজেন এবং পুষ্টি এই স্তর ভেদ করে মস্তিষ্কে ঢুকতে পারে।

কাজেই বুঝতেই পারছেন, নাকের ভেতর দিয়ে সোয়াব নেবার জন্য কাঠি ভেতরে ঢোকানো হলে, মস্তিষ্ক পর্যন্ত পৌঁছতে তাকে প্রথমে অনেকগুলো কোষের স্তর ভেদ করতে হবে, তারপর খুলির হাড়ের মধ্যে দিয়ে ঢুকতে হবে মস্তিষ্কের দেয়ালে রক্তনালীর ভেতর। সেখানে পাহারা দিচ্ছে ব্লাড-ব্রেন-ব্যারিয়ার। তাকে ডিঙিয়ে তবেই মস্তিষ্ককে জখম করার জায়গায় পৌঁছতে পারবে সোয়াব স্টিক!

সংবাদ সূত্রঃ বিবিসি




স্মৃতি ও স্মরণ

ছবি