২৫শে জুন, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

ক্রাইম রিপোর্টাররা ভালো না

আপডেট : জুন ১, ২০২০ ১১:৪২ পূর্বাহ্ণ

433

এস এম আবুল হোসেন

ক্রাইম রিপোর্টাররা ভালো না। একেবারে অবিশ্বাস্য এবং জঘন্য। ক্রিমিনালদের চেয়েও ক্রাইম রিপোর্টারা খারাপ। আজিজ মোহাম্মদ ভাই বেইলি রোডে সিটি এসবি অফিসে এএসপি খলিল ভাইয়ের রুমে বসে আমাকেউদ্দেশ্য করে কথাগুলো বলেছিলেন। সেখানে তখন আরো ছিলেন সিনিয়র এএসপি আতাহার ভাই এবং অতিরিক্ত এসপি জাবেদ পাটোয়ারী (আইজিপি)। আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের বর্তমান স্ত্রী নওরিনকে বিয়ে করা নিয়ে ঝামেলা হয়েছিল। পত্রিকায় তাকে নিয়ে নেগেটিভ নিউজ ছাপা হচ্ছিল। একদিন আমাদের পত্রিকার (বাংলার বাণী) ফটো সাংবাদিক শহীদুল্লাহ ভাই ( এ জেট এম শহীদুল্লাহ। আমার ফেসবুকে সংযুক্ত) এক রাতে চুপি চুপি বললেন ‘তোমার সাথে আজিজ মোহাম্মদ ভাই কথা বলবেন। সকাল দশটায় প্রেস ক্লাবে চলে এসো। পরদিন গেলাম প্রেস ক্লাব ।শহীদুল্লাহ ভাই এবং ফটো সাংবাদিক বাবু ভাই ক্লাব থেকে বের হয়ে একটা বিলাসবহুল গাড়িতে নিয়ে বসালেন।

গাড়িতে বসে জানলাম আজিজ মোহাম্মদ ভাই পাঠিয়েছেন। পনের বিশ মিনিটের মধ্যে পৌছে গেলাম গুলশান আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের বাড়িতে। আমাদের বাড়ির ভিতরে একটা সুসজ্জিত ও সুরভিত কক্ষে নিয়ে বসানো হলো। কিছু সময় পর এলেন লেডি কিলার আজিজ মোহাম্মদ ভাই। তাকে দেখে মুগ্ধ হয়ে গেলাম। সুদর্শন কাকে বলে! কেন মেয়েরা তার প্রতি দিওয়ানা বুঝতে পারলাম। তিনি বসতে বসতে বাড়িয়ে দিলেন হাভানার চুরুট। সাথে সুরার গ্লাস। জীবনে প্রথম হাভানা চুরুটের স্বাদ নিলাম। ঘন্টা খানেক সময় আলোচনার পর আজিজ মোহাম্মদ ভাই আমাকে বলিউড অভিনেত্রী রেখা, জয়া প্রদা, আয়শা জুলখার সাথে তার কিছু ঘনিষ্ঠ ছবি দেখান এবং কয়েকটা ছবি আমাকে দেন। সাথে তাকে লেখা জয়া প্রদা ও আয়শা জুলখার লেখা রোমান্টিক চিঠি। জয়া পর্দা আবার চিঠিটা লিখেছিলেন বিধানসভার প্যাডে। কেননা তিনি তখন অন্ধ্র প্রদেশ থেকে তেলেগু দিশম পার্টির নির্বাচিত বিধানসভার সদস্য। এই নায়িকারা সবাই আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের গুলশানের বাসায় এসেছেন বিভিন্ন সময় চাটার্ড বিমানে। আজিজ ভাই বলেন বলিউডের এই নায়িকাদের সামনে নওরিন কি? আজিজ মোহাম্মদ ভাই আমাকে ছবি ও চিঠি আমার কাছে রেখে দিতে বলেন।ছবি এবং চিঠি আমার কাছে থেকে যায়। আটানব্বই সালের ডিসেম্বর মাসে চিত্র নায়ক সোহেল চৌধুরীকে হত্যার পর আজিজ মোহাম্মদ ভাইকে গ্রেফতার করা হয়। আমি তখন আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের চরিত্র হনন করতে তারই দেওয়া ছবি ও চিঠিগুলো নেগেটিভ সেন্সে রিপোর্টটিং এ কাজে লাগাই। ফটো সাংবাদিক শহীদুল্লাহ ভাইকে সাথে নিয়ে আমি আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের গাজীপুর হোতাপাড়ার বাগান বাড়িতে গিয়ে দেওয়াল টপকে ভিতরে ঢুকে ছবি তুলে আনি।

সে সময় আমাদের বিনোদন রিপোর্টার ছিলেন চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজার। এসাইনমেন্টটা তাকে দেয়া হয়েছিল। তিনি ফেল করায় আমার ওপর দায়িত্ব পড়ে। প্রয়াত কন্ঠ শিল্পী শাহনাজ রহমতুল্লার অনুরোধে এই মিশন। শাহনাজ রহমতুল্লার অভিযোগ ছিল আজিজ মোহাম্মদ ভাই তার মেয়েকে গুম করেছে বা বিদেশে পাচার করেছে। এ কারণে আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের চরিত্র হননে নেমেছিলাম।
আজিজ মোহাম্মদ ভাই এস বি অফিসে আমাকে দেখেই কথাগুলো বলেছেন।
পাদটীকা: আজিজ মোহাম্মদ ভাই নিজেকে আইনের উর্ধে ভাবতেন। একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের হওয়ার সুযোগ নিতেন। কিন্তু তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে ছাড় দেন নাই। গুলশান থানার তৎকালীন ওসি আওরঙ্গজেব আমাকে জানিয়েছেন আজিজ মোহাম্মদ ভাই গ্রেফতার হবে এটা কখনো ভাবতেই পারিনি।

গণমাধ্যম কর্মী,
(ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে)




স্মৃতি ও স্মরণ

ছবি