১৪ই জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৩০শে পৌষ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

হাজী দানেশ বিশ্ববিদ্যালয়: সবার অগোচরে বাসভবন ছাড়লেন উপাচার্য

আপডেট : জানুয়ারি ১৩, ২০২১ ৮:৩৮ অপরাহ্ণ

3

ভয়েস বাংলা ডেস্ক

ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মঙ্গলবার রাতে বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে আলোচনা করেছেন দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মু. আবুল কাসেম। আজ বুধবার ট্রেজারারকে চিঠি লিখে সবার অগোচরে সস্ত্রীক বাসভবন ছেড়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন তিনি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ট্রেজারার বিধান চন্দ্র হালদার বলেন, উপাচার্যের ক্যাম্পাস ত্যাগ করার বিষয়টি সরাসরি কিংবা মুঠোফোনেও জানাননি। সকালে অফিসে এসে উপাচার্যের সচিবের কাছ থেকে একটি চিঠি তিনি পেয়েছেন। সেই চিঠির মাধ্যমে জানতে পারেন, স্ত্রীর অসুস্থতার কারণে উপাচার্য ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। তাঁর অনুপস্থিতিতে চলতি দায়িত্ব পালনের জন্য বলে গেছেন।

উপাচার্য তাঁর ব্যবহারের জিনিসপত্র সঙ্গে নিয়েছেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রেজারার বলেন, এমন কিছু তিনি জানেন না। তবে তিনি যেহেতু এখনো দায়িত্বে আছেন, ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়ি নিয়েই গেছেন।

শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবিদাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। নিয়োগ পরীক্ষা গ্রহণের জন্য ট্রেজারার বিধান চন্দ্র হালদারকে আহ্বায়ক ও তাঁকে সদস্যসচিব করে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটিও করে দিয়েছেন।

-ফজলুল হক, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার

এর আগে মঙ্গলবার বেলা ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন দাবিতে উপাচার্যের বাসভবনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। একই সময় চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে উপাচার্যের বাসভবনে মাস্টাররোলে বিভিন্ন পদে কর্মরত ৭২ জন কর্মচারীও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। পরে রাত ১০টার দিকে ছাত্রলীগের ১৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন উপাচার্য আবুল কাসেম।

এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাগফুরুল হাসান আব্বাসী, সদর সার্কেল এএসপি সুজন সরকার, কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাফফর হোসেন, বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার ফজলুল হক, ট্রেজারার বিধান চন্দ্র হালদার, প্রক্টর খালেদ হোসেন, ছাত্র উপদেষ্টা ইমরান পারভেজ, আইআরটির পরিচালক তারিকুল ইসলাম।

ছাত্রলীগের প্রতিনিধিদলের সদস্য মোরশেদুল আলম ও রিয়াদ খান জানান, তাঁদের সঙ্গে উপাচার্যের ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। উপাচার্য জানিয়েছেন, শিগগিরই ক্লাস-পরীক্ষা চালু করা হবে। ঝুলে থাকা নিয়োগ পরীক্ষা ১৪ জানুয়ারি কার্ড ইস্যু করে ২২ জানুয়ারি পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে। তবে ঠিক কী কারণে উপাচার্য এমন আচরণ করে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চলে গেলেন, তাঁরা বুঝে উঠতে পারছেন না।

সবার অগোচরে উপাচার্যের চলে যাওয়াতে অবাক হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনও। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ফজলুল হক বলেন, শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবিদাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। নিয়োগ পরীক্ষা গ্রহণের জন্য ট্রেজারার বিধান চন্দ্র হালদারকে আহ্বায়ক ও তাঁকে সদস্যসচিব করে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটিও করে দিয়েছেন।

রেজিস্ট্রার ফজলুল হক আরও বলেন, ‘শুরু থেকে প্রশাসনিক সব কাজে উপাচার্যকে সহযোগিতা করে গেছি। প্রতিবার ক্যাম্পাস থেকে কোথাও গেলে তিনি অন্তত আমাকে আগে থেকেই জানাতেন। কিন্তু এবার রওনা হয়ে সকাল ৯টায় আমাকে ফোনে তাঁর স্ত্রীর অসুস্থতার কথা জানিয়েছেন। স্ত্রীর অসুস্থতার কারণে তিনি ঢাকা যাচ্ছেন। উপাচার্যের অনুপস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রমে স্থবিরতা আসবে।’

২০১৭ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি উপাচার্য হিসেবে আবুল কাসেম বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেন। চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি তাঁর মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। এই সময়ের মধ্যে তিনি বিভিন্ন বিভাগে ৪৩ জন শিক্ষক ও ২১ জন কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছেন। সর্বশেষ ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে দেড় শতাধিক শিক্ষক-কর্মকর্তা নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। কিন্তু বছর শেষ হলেও নিয়োগপ্রক্রিয়া বন্ধ ছিল।

সূত্র: প্রথম আলো




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *