১৭ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

স্বাস্থ্য ও পরিবেশ বিনাশী ব্যবসা এবং তামাক কোম্পানির গাছ লাগানোর গল্প

আপডেট : মার্চ ৩১, ২০২১ ১১:৪০ পূর্বাহ্ণ

31

ভয়েস বাংলা ডেস্ক

’সিএসআর’ বা করপোরেট সোস্যাল রেসপনসিবিলিটি কথাটি আমাদের সমাজে দিন দিন দৃশ্যমাণ হয়ে উঠছে। বড় বড় আর্থিক ও শিল্প প্রতিষ্ঠান সমাজ ও মানুষের উন্নয়নে নানা কর্মসূচি পালন করছে, নানাভাবে অসহায়দের পাশে দাঁড়াচ্ছে। অনেক প্রতিষ্ঠান প্রধানমন্ত্রীর তহবিলে অর্থ দিচ্ছে, অনেকে শীতকালে বস্ত্র বিতরণ করছে, কোন কোন প্রতিষ্ঠান আবার শিক্ষা ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছে, বৃত্তি দিচ্ছে।
ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর(বিএটি) সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে লাগাচ্ছে গাছ, মানুষকে গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতে গাছের চারা বিতরণ করছে তারা। বন ধ্বংসের এই আমলে, তামাক কোম্পানীর এধরনের প্রকল্প মানুষকে মুগ্ধ করতে বাধ্য। কিন্তু তামাক কোম্পানীর বনায়ন প্রকল্প আসলে কতটা যুক্তিযুক্ত। তা বুঝতে হলে প্রকল্পের ঊর্দ্ধে এবং প্রকল্পের পিছনের যে চিত্র দেখতে এবং বিশ্লেষন করতে পারতে হবে।
তামাক-ই হচ্ছে এই কোম্পানীটির ব্যবসার মূলধন। তামাকজনিত নানা কারণে প্রতিবছর মারা যায় প্রায় ১ লাখ ৬১ হাজার মানুষ। অনেককে ভুগতে হয় নানা রোগে। বলা হয়ে থাকে, তামাক কোম্পানী থেকে দেশ প্রতি বছর অনেক রাজস্ব আয় করে। কিন্তু বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটি তামাক থেকে পাওয়া রাজস্ব এবং তামাকের পিছনে স্বাস্থ্য খাতে ব্যয়ের একটি তুলনা করেছে যাতে দেখা গেছে তামাকের কারনে রাষ্ট্রের বার্ষিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা।
অন্যদিকে এই তামাক পাতা চাষ করতে গিয়ে উজাড় হয় বন, নষ্ট হয় মাটির উর্বরতা। এছাড়াও তামাক চাষে যে কীটনাশক ব্যবহার করা হয় তা অনেক সময় ক্যান্সারের মত মরনঘাতী রোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
মাটির গুণাগুনের কথা চিন্তা করে উন্নত দেশগুলো তামাক চাষ বন্ধ করে দিয়েছে বা দেয়ার চেষ্টা করছে। অথচ বাংলাদেশে বেড়ে চলেছে তামাক চাষ এবং তামাক কেন্দ্রিক ব্যবসা।
একদিকে বনায়ন প্রকল্প দিয়ে সকলের সুনজরে আসা এই কোম্পানীর হাত ধরেই একসময় বান্দরবানের লামায় শুরু হয় ক্ষতিকর তামাকের চাষ। এরপর একে একে আসতে থাকে আলফা টোব্যাকো, রানগুনিয়া টোব্যাকো, আবুল খায়েরের এর মত মহারথী কোম্পানীগুলো। বর্তমানে ১টি পৌরসভা ও ৭ টি ইউনিয়নের ৯০ শতাংশ জমি তামাক চাষীদের কবলে।
এইখানে তামাক চাষের পাশাপাশি তামাক পোড়ানোর জন্য বিশেষ চুল্লী তৈরী করা হয়েছে ৯ সহস্রাধিক। এইসব চুল্লীতে জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে আশেপাশের বনের কাঠ যার ফলে আবার উজাড় হচ্ছে বন।
এই অবস্থায় ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর মত নামকরা তামাক কোম্পানির বনায়নের মত প্রকল্প হাস্যকর দেখাতে পারে কেননা এই কোম্পানীর মুলধন তামাক এবং এটি জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি স্বরূপ।
দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনগুলো আইন সংশোধন করে তামাক কোম্পানীর কর্পোরেট সোশ্যাল রেস্পন্সিবিলিটি বা সি এস আর বন্ধের দাবি করে আসছে কেননা একে কার্যক্রমকে কাজে লাগিয়ে নানা সুবিধার পথ সুগম করে বলে দাবি তামাক বিরোধী সংগঠনগুলোর।

আহমেদ স্বপন মাহমুদ, নির্বাহী পরিচালক, ভয়েস

তামাকজাত দ্রব্য নিয়ন্ত্রণে গবেষণা ও এডভোকেসি সংগঠন ভয়েসের নির্বাহী পরিচালক আহমেদ স্বপন মাহমুদের বলেন“সরকার এবং জনগনের সুনজরে থাকতে বিএটি’র মত তামাক কোম্পানী গুলো নানান ধরনের কাজ করে থাকে যার আসল উদ্দেশ্য ভিন্ন”।
তিনি বলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ২০১৬ সালে দক্ষিন এশীয় স্পীকারস সম্মেলনে ২০৪০ সালের মাঝে দেশকে তামাকমুক্ত করার ঘোষনা দিয়েছিলেন। কিন্তু প্রচলিত আইনে তামাক কোম্পানী গুলোর সি এস আরের মত কার্যক্রমের অনুমতি থাকায় এগুলোকেই নানা ভাবে অপব্যবহার করছে কোম্পানীগুলো।
তিনি জানান তামাক কোম্পানীগুলো নানান সময়ে সরকারের কাজ থেকে কর মওকুফ বা কমানোর মতন সুবিধা ভোগ করে থাকে। তামাক চাষের কারণে পরিবেশের ক্ষতি হওয়া সত্ত্বেও তাদের বনায়ন প্রকল্প গ্রহণটাই একধরনের দ্বিচারিতা।আর এই বনায়ন প্রকল্পকে পুরষ্কৃত করা বা সিএসার এর অনুমতি রাখা তামাক কোম্পানীর প্রতি পক্ষপাতিত্বের উদাহরন এবং ২০৪০ সালের মাঝে দেশকে তামাকমুক্ত করার যে ঘোষনা দিয়েছেন তার সাথে সাংঘর্ষিক।