৪ঠা ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ১৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

সৌমিত্রর রাজনীতি, এবং সৌমিত্রকে নিয়ে রাজনীতি

আপডেট : নভেম্বর ১৮, ২০২০ ৪:০২ অপরাহ্ণ

20

পার্থ ব্যানার্জী

রাজনীতি নানারকমের হয়। নানা রঙের। নানা চরিত্রের। আমরা অনেক সময়ে বুঝি। আবার অনেক সময়ে চোখে আঙুল দিয়ে না বুঝিয়ে দিলে বুঝিনা।

সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়কে কলকাতা ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের জুরি থেকে বাদ দিয়ে দেওয়াটাও রাজনীতি। আবার তাঁর শেষযাত্রায় পা মিলিয়ে হাঁটাও রাজনীতি। মৃত্যুর পরে উত্তমকুমারকে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে শেষ মর্যাদা না দেওয়াটাও রাজনীতি। বীরেন্দ্রকৃষ্ণকে রাতারাতি বদলে দিয়ে উত্তমকুমারকে দিয়ে ধ্যানেশনারায়ণের ঢ্যাঁড়স মহালয়া রেডিওতে চাপিয়ে দেওয়াও রাজনীতি।

মনেপ্রাণে বামপন্থী ও সমাজবাদী সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের মৃত্যুর পরে প্রধানমন্ত্রীর প্রশস্তিবাক্যও রাজনীতি। দেবব্রত বিশ্বাসের গান রেকর্ড করতে না দেওয়াও রাজনীতি। বাংলা ভাষা, বাঙালি চেতনা ও মূল্যবোধকে সস্তা প্রজাতির হিন্দি বলয় ও বলিউডের আগ্রাসনের শিকার করে ফেলাটাও রাজনীতি।

বাংলা মিডিয়াম স্কুল বন্ধ করে দিয়ে হিন্দি ও ইংরিজি মিডিয়াম জোর করে চাপিয়ে দেওয়া এবং গাধা ও ঘোড়ার সংমিশ্রণে দেখতে ভীম নাগের সন্দেশ বাঙালি কিন্তু খেতে টিন্ডা প্রজাতির স্বাদহীন বর্ণহীন গন্ধহীন নতুন এক প্রজাতির সৃষ্টিও রাজনীতি।

সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় আর সত্যজিৎ আর রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে বছরে একবার দুবার কেঁদে ভাসানো, আর তার পরেই চরমপন্থী হিন্দুবাদ ও ইসলামবাদ কপচানো এই রাজনীতির বিষফুলের বিষফল। যা নিয়ে সৌমিত্র, তাঁর গুরু সত্যজিৎ, এবং তাঁর গুরু রবীন্দ্রনাথ অথবা নজরুল অথবা লালন আমাদের বাঙালিদের সারাজীবন সতর্ক করে দিয়ে গেছেন।

কিন্তু ভীমনাগ বাঙালি এখন টিন্ডা। মগজে গোবর। এবং কার্ফু। রক্তে গোমূত্র। ভাবতে ভয় হয়।

(লেখক- যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ভারতীয় বাঙালী। লেখকের ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে। )