২০শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

সোনাগলা রোদের এক বিকেলে

আপডেট : জানুয়ারি ১১, ২০২১ ৩:২৭ অপরাহ্ণ

5

বিভিন্ন সময়ে বিশ্বের অনেক দেশের বড় বড় মিউজিয়াম দেখার সুযোগ হয়েছে। আর্ট গ্যালারিতে এবস্ট্রাকট ফর্মের ছবি দেখে রঙের বাহার দেখা ছাড়া ছবির আগামাথা কিছুই বুঝিনি। স্কালপচার, নেচার , হিউম্যান ফিগার দেখে কিছুটা বুঝেছি বা বোঝার চেস্টা করেছি। যখনই আমেরিকা, কানাডা, ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে গিয়েছি তখন সময় সুযোগ মিলে গেলে খুঁজে বের করেছি আর্ট গ্যালারী, মিউজিয়াম । প্রত্যেকবারই একা একা ঘোরা হয়েছে।

দুই হাজার চৌদ্দ সালে সোনাগলা রোদের এক বিকেলে
আমেরিকায় নিউইয়র্কের মেট্রোপলিটন মিউজিয়াম দেখতে নিয়ে গিয়েছিলেন খ্যাতিমান প্রবাসী চিত্রশিল্পী আনোয়ার হোসেন। বলাবাহুল্য হবে না, সেবারই আনোয়ারভাইয়ের জন্য ছবির মর্ম বুঝতে কিছুটা সহজ হয়েছিল। তিনি আমাকে হেনরি মাঁতিস, ভ্যান গগাঁ, পিকাসোর ছবির খুটিনাটি ব্যাখা বিশ্লেষন করে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন।

বিশ্বের আর্ট মিউজিয়ামগুলোর মধ্যে অন্যতম সুন্দর একটি মিউজিয়াম হলো যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে অবস্থিত দ্য মেট্রোপলিটন মিউজিয়াম অব আর্ট।

ভৌগোলিক দিক থেকে ম্যানহাটনকে একটি দ্বীপ বলা যেতে পারে। কারণ, এর চারদিকেই রয়েছে নদী ও সমুদ্র। উত্তরে হারলেম রিভার, দক্ষিণে নিউইয়র্ক বে, পূর্বে ইস্ট রিভার এবং পশ্চিমে আছে হাডসন রিভার। ম্যানহাটনের আয়তন হলো প্রায় ৮০ বর্গকিলোমিটার অর্থাৎ প্রায় ৩১ বর্গমাইল। এখানে রয়েছে ছোট বড় ২৫০ টি আর্ট গ্যালারী ও মিউজিয়াম।তাই ম্যানহাটনকে বলা হয় চিত্রকর, শিল্পানুরাগী, শিল্পবোদ্ধা, শিল্প সংগ্রাহক এবং আর্ট ডিলারদের তীর্থকেন্দ্র।

ম্যানহাটনের ম্যাডিসন অ্যাভিনিউ এবং সোহো এলাকাতেই বেশিরভাগ আর্ট গ্যালারি অবস্থিত। সোহো এলাকাটি আবার সম-লিঙ্গ (গে ও লেসবিয়ান) দম্পতিদের আবাস বলেও পরিচিত।

মেট্রোপলিটন মিউজিয়ামটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম আর্ট মিউজিয়াম । প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ১৮৭০ সালে। পৃথিবীর যত রকম শিল্পমাধ্যম আছে এবং যত রকম কৃষ্টি আছে, তার প্রতিটি থেকেই কিছু না কিছু সংগ্রহ করে রাখা হয়েছে এই মিউজিয়ামে। এই মিউজিয়ামের সংগ্রহে আছে প্রায় ৩০ লাখ সামগ্রী। এতে ৫ হাজার বছরের পুরনো অনেক আর্ট রয়েছে।মিউজিয়ামটির সংগ্রহ এত ব্যাপক যে এর ৩০০ গ্যালারি এবং ৩২ একর বিশিষ্ট মেঝেতে একসঙ্গে শুধু পাঁচভাগের একভাগ সামগ্রী প্রদর্শন করা যায়। এটি হলো পৃথিবীর তৃতীয় বৃহত্তম আর্ট মিউজিয়াম। লন্ডনের ব্রিটিশ মিউজিয়াম এবং রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গের হারমিটেজ মিউজিয়ামের পরই এর অবস্থান।

নিউইয়র্ক মেট্রোপলিটন মিউজিয়াম দেখার অনেক আগেই দেখেছি প্যারিসের ল্যুভর মিউজিয়াম , রোমের আর্ট মিউজিয়াম, ভ্যাটিকান মিউজিয়াম,ব্রাসেলসের আর্ট মিউজিয়াম, তুলুজের মিউজিয়াম, আমাস্টারডাম, ওয়ারশ, পোজনান, ক্রাকোভ, ফ্রাংকফ্রুট,বার্লিন, বন, প্রাগ, বুখারেস্ট , সোফিয়া, বুদাপেস্ট, আলবেনিয়া, আন্টারপ্রেন , লুক্সেমবার্গ, টরেন্টো, মন্ট্রিয়েল, ওয়াশিংটনের ন্যাশনাল এয়ার অ্যান্ড স্পেস মিউজিয়াম, কুয়ালালামপুর, দিল্লি ও কোলকাতার মিউজিয়াম ।

ল্যুভর ও মেট্রোপলিটন মিউজিয়াম দু’টো ছাড়া সবগুলোই একা একা ঘুরে ঘুরে দেখেছিলাম। দেখেছি বিশ্ববিখ্যাত সব মাস্টার চিত্রশিল্পীদের মুল আর্টওয়ার্ক । সাথে কোন চিত্রসমালোচক বা শিল্পবোদ্ধা না থাকায় বিস্মিত দু’ নয়নে শুধু ছবিই দেখেছি।শুরুতেই বলেছি, ছবির আগামাথা কিছুই বুঝতে পারিনি । কিন্তু দেখার রোমাঞ্চ ছিল ।

নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে মেট্রোপলিটন আর্ট মিউজিয়াম দেখার সময় চিত্রশিল্পী আনোয়ার হোসেনভাই আমাকে কোন ছবি অ্যাবস্ট্রাক্ট , রিয়েলিজম , সুরেলিজম, কিউবিজম , ইম্প্রেশনিজম, মডার্ন কিংবা ইউরোপীয় রেনেসাঁ’র সময়কার ছবি তা আমাকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখিয়েছেন , বুঝিয়েছেন।প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের ছবির পার্থক্য কি – সেই বিষয়েও আমাকে ধারনা দিয়েছেন ।

মেট্রোপলিটন মিউজিয়ামে প্রস্তরযুগের প্রায় সব শিল্পকর্ম থেকে শুরু করে পপ আর্টের উদাহরণ মিলবে। আফ্রিকা, ওশেনিয়ান ও মধ্যপ্রাচ্যের শিল্পকলার সংগ্রহশালা আছে এই মিউজিয়ামে । এর মিলনায়তনের বিশেষত্ব হলো, সাত শতাব্দীর পাঁচ মহাদেশের অধিবাসীদের পরা পোশাকের সম্মিলন। বিভিন্ন দেশের শিল্পকর্ম ও স্থাপত্যের পাশাপাশি মেট্রোপলিটন মিউজিয়াম অব আর্টে আছে বাদ্যযন্ত্র। অবশ্য আমেরিকার শিল্পকর্মই এর মূল আকর্ষণ।

আনোয়ারভাই আমার প্রিয় চিত্রশিল্পী হেনরি মাঁতিসের ছবির ফর্ম এত সুন্দরভাবে বুঝিয়েছেন যে সহজেই আমি মাঁতিসের উজ্জ্বল সব রঙের ব্যবহারে মুগ্ধ হয়ে যাই। মিউজিয়াম থেকে ফেরার পথে আনোয়ারভাই মাঁতিসের চিত্রকলা নিয়ে অসাধারন একটি বই গিফট করেছেন।

১১.০১.২০২১
মন্ট্রিয়েল




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *