১৪ই জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৩০শে পৌষ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

সন্তানদের মধ্যে তুলনা! হতে পারে হিতে বিপরীত

আপডেট : নভেম্বর ২৮, ২০২০ ১২:৪৬ পূর্বাহ্ণ

38

তমা সাহা

যারা একাধিক সন্তানের মাবাবা এবং যাদের সন্তানেরা প্রতিষ্ঠিত, প্রায় প্রতিষ্ঠিত অথবা শিশু বয়েসী..

আপনারা আপনাদের সন্তানদের সামনে যেমন family perspective তুলে ধরবেন তারা কিন্তু ঠিক তেমনি দেখবে. অনেক মায়েদের দেখি ছোট সন্তানের কাছে বড়ো সন্তানের বদনাম অথবা ভুল ত্রুটি ব্যক্ষা করেন. এতে আপনি কিছু সময়ের জন্য ছোট সন্তানের মনোযোগ ধরে রাখতে পারলেও এই ক্ষণিকের মনোযোগ এর ফল কিন্তু খুব খারাপ হয়…

আবার কোনো সন্তান খুব ভালো করছে ক্যারিয়ার এ , যা তার তুলনায় দুর্বল সন্তানকে সারাক্ষণ তুলনা করা যা একদম ঠিক না. আপনাকে বুঝতে হবে হাতের ৫টা আঙুল এক সমান না…

এখন বলতে পারেন “আমি ওদের ভালো চাইবো না কি তমা তুমি ভালো চাইবা, বাচ্চা গুলো আমার …

” অবশ্যই বাচ্চা গুলো আপনার. কিন্তু আপনার এই টুকিটাকি বেপার এর জন্য আপনার সন্তানদের মধ্যে ধীরে ধীরে একটা নীরব দূরত্ব তৈরী হচ্ছে … সেটা ভবিষ্যত এ এমন বিশাল আকার ধারণ করে যে ভুক্তভোগী হন আপনি .আপনি যতই সুশিক্ষায় লালন পালন করেন না কেন এই তুলনা মূলক নেতিবাচক কথা বার্তায় ওই সুশিক্ষার মূল্য হারিয়ে যায় …

একটা সময় সন্তানরা ক্যারিয়ার নিয়ে ব্যস্ত হয়ে যায়, সংসারী হয়, পরিবার বড় হয় ব্যস্ত হয়ে পরে নিজেদের জীবন নিয়ে আপনি আরো বেশি বেশি করে মনোযোগ পাবার আশায় ওর নাম এ তার নাম এ নেতিবাচক কথা বলে বলে আরো বিষিয়ে দিচ্ছেন. ফলে যখন আপনার আসলেই সন্তান দের দরকার তখন সন্তানরাও আপনাকে নিয়ে ছুরাছুরি করা শুরু করে দেয় ..নিজের মানসিক প্রশান্তির জন্য হলেও স্বভাব এ পরিবর্তন আনা দরকার. আপনার সন্তানেরা যখন আপনার বয়েসী হবে তারাও কিন্তু আপনার আচরণ গুলোই পুনরাবৃত্তি ঘটাবে. আপনি আপনার সন্তানদের জন্য কোটি কোটি টাকা রেখে গিয়েই যদি এইটুকু মূল্যবোধ না শিখিয়ে যেতে পারেন তাহলে দেখবেন এই কোটি কোটি সম্পদ ও তাদের কাছে, কিছু না , ও বেশি খেল, আমাকে দিলোনা মনে হবে তাই ছোট মুখে বড় কথা বলি,

১. ছোটদের সম্মুখে বড়োর নিন্দা নয়.

২. যে সন্তানের ভূমিকা পরিবারে বেশি তার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকতে শিখানো.

৩. যে দুর্বল তাকে অবহেলার মাধ্যমে না, বাকি ভাই বোন দের সহযোগিতা করার মনোভাব তৈরী করা,

৪. ” আরো ভালো বউ পাইতাম”

“আরো ভালো জামাই পাইতাম” এসব বলে পরিবারে আগত মানুষটির মন বিষিয়ে দিবেননা, মনে রাখবেন জন্ম মৃত্যু বিয়ে ৩ বিধাতা নিয়ে .

আপনার ক্যারিয়ার যতই উচ্চমানের হোকনা কেন, সারাদিন পর বাড়ি ফিরে যদি একটু শান্তি না পান ঐটা আসলে কোনো ক্যারিয়ার ই না. আপনি আপনার পরিবার কে যতটা সুস্থ ভাবে লালনপালন করবেন শেষ জীবন এ আপনিও খুব সুস্থ ভাবে retired life অতিক্রম করতে পারবেন. একদিন আপনি থাকবেন না কিন্তু আপনার গড়ে তোলা পরিবারটার মানসিক একতা থাকবে .. জীবনের আসল Goal কিন্তু এটাই…