২রা অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শেষ ঘটনার প্রতিশ্রুতি যেনো বাস্তবায়িত হয়

আপডেট : আগস্ট ৮, ২০২০ ৮:৪৬ অপরাহ্ণ

95

মোস্তফা ফিরোজ

অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহার হত্যাকান্ডের পর খুব দ্রুত প্রশাসন ব্যবস্থা নিয়েছে। আবার খুবই ইতিবাচক কথা উচ্চারিত হয়েছে। পুলিশ প্রধান বলেছেন, বাংলাদেশ আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। আইনের শাসন আছে। এই ঘটনার তদন্ত ও বিচার হবে। আর আইএসপির বলেছে, পুলিশ আশ্বস্ত করেছে,এটাই শেষ ঘটনা। আর পুনরাবৃত্তি হবে না। যদিও আর একটু খোলাসা করলে ভালো হতো। আরও ভালো হতো এসব কথা যদি সরকারের পক্ষ থেকে কেউ রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি দিতো। তারপরও এই বক্তব্য নিঃসন্দেহে ইতিবাচক।ইতিবাচক এজন্য যে অবসরে যাবার পর মেজর সিনহা একজন সাধারণ নাগরিক হবার কথা। কিন্তু তাকে সেনাবাহিনী তার সদস্য হিসেবে গণ্য করেছে। স্বয়ং সেনা প্রধান কক্সবাজারে পুলিশ প্রধানকে সাথে নিয়ে ছুটে গেছেন। এই বিষয়টি সবাইকে আশা জাগিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীও নিহত মেজর সিনহার পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলেছেন। ইতিমধ্যে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনী পদক্ষেপ শুরু হয়েছে। দেশে বিচার বহির্ভূত কোন হত্যাকান্ডের পর রাষ্ট্রের এমন রেসপন্স আগে কখনো দেখা যায়নি। এটাই হচ্ছে বড়ো পাওনা। ওই টেকনাফ এলাকায় ২শ’ উপরে এমন হত্যাকান্ড হয়েছে। আওয়ামী লীগ নেতা ইকরাম হত্যায় তোলপাড় হয়েছে। তার কন্যার আর্তনাদ এখনো কানে ভাসে। কিন্তু তাতেও রাষ্ট্র টলেনি। ২২ মাসে ২০৬ টি এমন হত্যাকান্ড হয়েছে। হত্যার পাশাপাশি চলেছে লুন্ঠন আর চাঁদাবাজি। এসব খবর এখন বের হচ্ছে।

এভাবে একের পর হত্যা চলতে থাকার এক পর্যায়ে মেজর সিনহার হত্যাকান্ডে ঘটনায় রাতারাতি দৃশ্যপট পরিবর্তন হয়ে গেলো। সেনা ও পুলিশ প্রধান বলেছেন, এটি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। হয়তো খুনের নেশায় উন্মত্ত ঘাতকরা ঘটনার গুরুত্ব বুঝতে না পেরে খুন করেছে। তাতেই হয়তো খুনের অসখ্য ঘটনা ফাঁস হয়েছে। এখন যদি আইএসপিআর এর কথা অনুযায়ী ‘এটাই শেষ ঘটনা, আর পুনরাবৃত্তি হবে না’ এটা যদি পুলিশের প্রতিশ্রুতি হয়ে থাকে তাহলে ধরে নেয়া যায় বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড আর হবে না। এমন প্রতিশ্রুতি কেবল পুলিশ কেন, সব বাহিনীর ক্ষেত্রেও হওয়া প্রয়োজন।

মনে রাখা দরকার, বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড যে কোন পর্যায়ে অন্যায় ও নিন্দনীয়। কখনো কখনো এতে সাময়িক সমাধানে সাধারণ মানুষের সমর্থন পাওয়া যায়। কিন্তু যারা রাষ্ট্র চালায় তাদের বোঝা উচিৎ এর ফলে আইন ও বিচার ব্যবস্থার দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি হয়। গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। নিয়মের বাইরে একটা অন্যায় কাজ করলে সুযোগ সন্ধানীরা একশটা অন্যায় করে নিজেদের ফায়দা লোটে। ওসি প্রদীপ হত্যাকান্ডকে অবৈধ উপার্জনের হাতিয়ারে পরিণত করেছে। সুতরাং বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ডের কালচার থেকে বেরিয়ে আসতে হবে যেকোন উপায়ে।মেজর সিনহার আগে যে ২শ’ জন এমন হত্যার শিকার হয়েছে, তারাও দেশের নাগরিক। বিচার পাবার সাংবিধানিক অধিকার সবারই আছে। পুলিশ প্রধান বেনজির আহমেদ বলেছেন, বাংলাদেশ আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। এখানে আইনের শাসন আছে। এই বক্তব্য বর্তমান প্রেক্ষাপটে খুবই প্রাসঙ্গিক।

গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় বিচার বহির্ভূত হত্যার কোন স্থান থাকতে পারে না। আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে আইনের শাসন ও বিচার ব্যবস্থা খুবই শক্তিশালী হয়। সেই কাজটি এখন করা দরকার।এখন মেজর সিনহা হত্যাকান্ডের ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে যদি সত্যি সত্যি বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড বন্ধ করা যায় এবং আইন ও বিচার ব্যবস্থাকে কার্যকর করা যায় তাহলেই দেশে ন্যায় বিচার নিশ্চিত হবে। এর বিকল্প যে কোন পথ নেই মেজর সিনহা জীবন দিয়ে তা দেখিয়ে দিয়েছে।