৬ই মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শরীরে অ্যান্টিবডি থাকার পরও আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কা

আপডেট : ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২১ ৮:১৭ অপরাহ্ণ

9

ভয়েস বাংলা ডেস্ক

ভারতে শনাক্ত করোনার নতুন ধরনগুলো অধিক সংক্রামক ও বিপজ্জনক হতে পারে। এমনকি কারও শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হওয়ার পরও নতুন এসব ধরনে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকতে পারে বলে সতর্ক করেছেন নয়াদিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসের পরিচালক রণদীপ গুলেরিয়া। এনডিটিভি অনলাইনের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।

রণদীপ গুলেরিয়া গতকাল শনিবার এনডিটিভিকে বলেন, ভারতে করোনার হার্ড ইমিউনিটি অর্জনের বিষয়টি একটি ‘মিথ’। হার্ড ইমিউনিটি অর্জনের জন্য মোট জনসংখ্যার অন্তত ৮০ শতাংশের শরীরে অ্যান্টিবডি থাকা দরকার। মহারাষ্ট্রে শনাক্ত করোনার নতুন ধরনের কারণে এই অ্যান্টিবডি অর্জন কঠিন হবে। করোনার এই ধরনটি অধিক সংক্রামক ও বিপজ্জনক হতে পারে। যাঁদের শরীরে ইতিমধ্যে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে, তাঁরাও নতুন ধরন থেকে আবার সংক্রমিত হতে পারেন।

ভারতে এখন পর্যন্ত করোনার ২৪০টি ধরন শনাক্ত হয়েছে। মহারাষ্ট্রের কোভিড টাস্ক ফোর্সের সদস্য ডা. শশাঙ্ক যোশি বলেছেন, গত সপ্তাহ থেকে রাজ্যটিতে নতুন করে করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধির পেছনে এই ধরনের ভূমিকা রয়েছে।

মহারাষ্ট্র ছাড়া আরও চারটি রাজ্যে করোনার সংক্রমণের বৃদ্ধির ধারা লক্ষ করা যাচ্ছে। এই রাজ্যগুলো হলো কেরালা, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড় ও পাঞ্জাব।

ঝুঁকিতে থাকা লোকজনকে গণটিকা দেওয়ার মাধ্যমে ভারত সরকার হার্ড ইমিউনিটি অর্জন করতে চায়। প্রথম পর্যায়ে ৩ কোটি স্বাস্থ্যকর্মী ও সম্মুখযোদ্ধাকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে ভারত সরকার। তারপর ৫০ বছরের বেশি বয়স্ক ব্যক্তিদের টিকা দেওয়া হবে।

কেন হার্ড ইমিউনিটি অর্জন করা সম্ভব নয়, তার একটি ব্যাখ্যা দিয়েছেন রণদীপ গুলেরিয়া। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভাইরাসটির রূপান্তরিত বা নতুন ধরনের প্রতিরোধক্ষমতা ফসকানোর কৌশল রয়েছে। সংক্রমিত হয়ে বা টিকার মাধ্যমে কেউ ইমিউনিটি অর্জন করলে তাঁকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে করোনার এই নতুন ধরন। শুধু তা-ই নয়, এটি নতুন করে সংক্রমিতও করতে পারে।

এ অবস্থায় করণীয় সম্পর্কে ধারণা দিয়েছেন রণদীপ গুলেরিয়া। তিনি বলেছেন, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে করোনা সম্পর্কিত স্বাস্থ্যবিধিসহ অন্যান্য নিয়মকানুন মেনে চলতে হবে।
রণদীপ গুলেরিয়া বলেন, করোনা পরীক্ষা, কন্টাক্ট ট্রেসিং, আইসোলেশনের মতো বিষয়ে ভারতকে আগ্রাসী পদক্ষেপে ফিরে যেতে হবে।

ভারতে করোনার যে টিকা দেওয়া হচ্ছে, তা নতুন ধরনের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে রণদীপ গুলেরিয়া বলেন, টিকা কার্যকর হবে। তবে টিকার কার্যকারিতা কম হতে পারে।

করোনার টিকা অবশ্যই নিতে হবে বলে জোরের সঙ্গে উল্লেখ করেন নয়াদিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসের পরিচালক।

সূত্র: প্রথম আলো




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *