৩১শে জুলাই, ২০২০ ইং | ১৬ই শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শবনমের অপরাধ কোথায়?

আপডেট : জুলাই ২১, ২০২০ ৯:৩১ অপরাহ্ণ

20

মোস্তফা ফিরোজ

পুরস্কার আর তিরস্কারের মাঝামাঝি কোন শব্দ হয় না। কোন সিদ্ধান্তও নেয়া যায় না। কিন্তু তেমনই কিছু দেখিয়ে ছাড়লো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। গত বছর ১১ মার্চ ডাকসু নির্বাচনে মেয়েদের কুয়েত মৈত্রী হলে নির্বাচনের আগের রাতে ভোটের বাক্সে জাল ব্যালট পেপার ভর্তি করা হয়েছিলো। হলের মেয়েরা টের পেয়ে রাতভর ঘেরাও করে পাহারা বসালো। সকালে একটি রুম থেকে উদ্ধার করা হলো বস্তা ভর্তি জাল ব্যালট পেপার। সেগুলো ছাত্রলীগ প্রার্থীদের পক্ষে সিল মারা ছিলো। এই ঘটনায় সরাসরি যার ভূমিকা ছিল তিনি হচ্ছেন ওই হলের প্রভোস্ট শবনম জাহান। ছাত্রীদের বিক্ষোভের মুখে তাকে সেদিন দায়িত্ব থেকে সরানো হলো। তদন্ত কমিটি হলো। সেই কমিটি দীর্ঘ এক বছরের বেশি সময় নিয়ে পর্বতের মুষিক প্রসবের মতো একটি রিপোর্ট দিলো। সেই রিপোর্টে শবনম জাহানকে অভিযুক্ত করা হলো। সাথো আরো দুই শিক্ষককে। শবনমকে সহযোগী থেকে সহকারী অধ্যাপক আর দুই শিক্ষককো সতর্ক করা হলো। কি ভয়ংকর শাস্তি!

অভিযুক্ত শবনম জাহানের অপরাধ প্রমাণিত হবার পর তাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিস্কার এবং দেশের প্রচলিত আইনে সোপর্দ করাই হতে পারতো সাধারণ পরিণতি। কিন্তু তার বদলে তার বিষয়ে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হলো এটা শাস্তিও বলা যায়। আবার কোন শাস্তি না সেটাও বলা যাবে। ওই যে বলেছি তিরস্কার আর পুরস্কারের মাঝামাঝি কোন শব্দ খুঁজে পাচ্ছি না।

শাস্তির এমন ধরণ দেখে প্রশ্ন জাগছে, এক বছর ধরে তদন্ত কমিটির আসলে এতো কষ্ট কসরত করার কি দরকার ছিলো? শবনম জাহানের আসলে অপরাধটা কি? যদি সত্যিই জাল ভোটের ঘটনা ধরা পড়ে তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় এমন কলঙ্ক কেন বয়ে বেড়াবে? তার স্থান কেন একটু পদের হেরফের করে বিশ্ববিদ্যালয়ে রাখা হলো। এমন লোকহাসানো বিষয়ে না গিয়ে যেমন ছিলো তেমনই চলতে পারতো। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন অনেক ঘটনা আছে যার তদন্ত রিপোর্ট আর আলোর মুখ দেখেনি। সেই তালিকায় ডাকসু নির্বাচনের জাল জালিয়াতি তদন্ত রিপোর্টও স্থান পেলে কেউই অবাক হতো না। এইতো কিছুদিন আগে ডাকসু ভবনে ভিপির ওপর হামলার সেই সিসিটিভির ফুটেজ কোথায় হারালো? তদন্ত কি হয়েছিলো। ভিসির বাসভবনে হামলার তদন্ত কি হলো? এমন আরো অনেক ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় নির্বিকার। এই অবস্থায় শবনম জাহানকে কেন ধুম করে সামনে আনা হলো। সে হল পর্যায়ে না হয় ভোটে জাল জালিয়াতি করেছে। এর থেকেও গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় পর্যায়ের অনেক নির্বাচনেও তো এমন গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। সেগুলো নিয়ে তো কোন উচ্চবাচ্য নেই। এমনকি, ডাকসু নির্বাচনের জাল জালিয়াতির ঘটনা নিয়েও কোন আন্দোলন হচ্ছে না। তাহলে কোন নৈতিক চাপ থেকে এমন তদন্ত ও শাস্তি দেয়া হলো সেটা বোধগম্য হচ্ছে না।

আর শবনম জাহান এমন শাস্তির জন্য কি খুব বেশি আহত বা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন? আমার তা মনে হয় না। অনেকে এটা কিছু না বলে তাকে সান্ত্বনা দেবেন। এমন লোকের অভাব নেই দেশে। আশ্বাস দেবেন যে কিছুদিন পর তিনি আবার আগের অবস্থান ফিরে পাবেন। বিদ্যমান বাস্তবতায় সেটা হওয়া খুব কঠিন কাজও না।
এমন পরিবেশে শবনমও ভাববেন,খুব বেশি অন্যায় তিনি করেননি। খামোখা তাকে ভিকটিম করা হলো। হয়তো তিনি কে এটা করলো সেই ভিলেন খুঁজতে খুঁজতে নিজের অপরাধ বেমালুম ভুলে যাবেন। বরং বলতে হয়তো পারেন, দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে তিনি এটা করেছেন। এর জন্য তিনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তখন এই ক্ষতি পুষানোর জন্য কেউ কেউ তৎপর হবেন।

মোট কথা,ডাকসু নির্বাচনে জাল জালিয়াতির ঘটনা প্রমাণিত হবার পরও বড়ো ধরনের শাস্তির নজির না হওয়ায় এর কোন প্রভাব পড়বে না। ফলে,নির্বাচন কারচুপি ও জাল জালিয়াতির যে ধারাবাহিকতা সেটিই অক্ষুণ্ণ থাকলো শেষমেশ।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *