১৪ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৩১শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

লকডাউন: বিপর্যস্ত পরিবহন শ্রমিকদের কথা ভাবুন

আপডেট : মে ১, ২০২১ ১১:২১ পূর্বাহ্ণ

29

পথহারা পথিকের কথা

দেশে চলমান লকডাউনে সবচে’ ক্ষতিগ্রস্ত গোষ্ঠীটি হচ্ছে গণপরিবহন সংশ্লিষ্টরা। দূরপাল্লা, স্বল্পপাল্লা, আন্ত:জেলা সব ধরণের গণপরিবহন বন্ধ ১৪ এপ্রিল থেকে। শুধু সড়ক পথের নয় বন্ধ রয়েছে নৌপথের গণপরিবহন, ট্রেন ও বিমান চলাচলও। বিমান চলাচল অবশ্য সীমিত আকারে চালু রয়েছে। বাংলাদেশে গণপরিবহন সংশ্লিষ্ট মানুষ অর্থাৎ বাস, লঞ্চ, ট্রেন চলাচলের ওপর নির্ভর করে রুটি-রুজি এমন মানুষের সংখ্যা প্রায় ৭০ লাখ।
মার্কেট, হোটেল ও দোকানপাটের মতো কিছু কিছু ক্ষেত্রে সরকার লকডাউন শিথিল করায় এসব ক্ষেত্রে কিছুটা প্রাণসঞ্চার হয়েছে, টুকটাক আয়-উপার্জণ করতে পারছেন অনেকে, কিন্তু গণপরিবহন চালুর ব্যাপারে এখনো কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। অর্থাৎ লকডাউনকালে গণপরিবহন বন্ধই থাকছে, চলমান লকডাউন থাকবে ৫ মে পর্যন্ত, নানা সূত্র বলছে এই মেয়াদ আরও বাড়তে পারে।

লকডাউনে দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে গণপরিবহন সংশ্লিষ্টদের জীবন। বেশিরভাগ পরিবহন শ্রমিকই অনেকটা দিন মজুরের মতোই আয় করেন অর্থাৎ কাজ করলে টাকা আছে, কাজ নেই তো টাকাও নেই। আয়ের পরিমাণে হয়তো কিছুটা পার্থক্য রয়েছে, কিন্তু আয়ের বৈশিষ্ঠ্যের দিক থেকে পরিবহন শ্রমিকরা কার্যত: দিনমজুরই। এসব শ্রমিকের সঞ্চয়ও খুব একটা থাকে না। দিন এনে দিন খায় এমন মানুষদের যদি ১৫ দিন বা তারও বেশি সময় আয় বন্ধ থাকে তাহলে তাদের অবস্থা কতটা শোচনীয় হতে পারে তা হয়তো মাস গেলে কম-বেশি বেতন নিশ্চিত এমন মানুষেরা কল্পনাও করতে পারবে না। তাই দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া পরিবহন শ্রমিকরা মাঠে নামার ঘোষণা দিয়েছেন। গণপরিবহন চালুর দাবিতে রোববার সারা দেশে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন। এ ছাড়া আগামী মঙ্গলবার সারা দেশে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি করবেন বলেও ঘোষণা দেন পরিবহন শ্রমিকেরা।
গণজমায়েত করোনা ছড়ানোর সবচে’ বড় কারণ। এখন যদি রবিবার এবং তারপরে বিভিন্ন স্থানে হাজার হাজার পরিবহন শ্রমিক জমায়েত করেন তাহলে নিশ্চিতভাবেই স্বাস্থ্যবিধি মানা সম্ভব হবে না। তাই পরিবহন শ্রমিকদের যাতে রাস্তায় নামতে না হয় সেজন্য খুব দ্রুত তাদেরকে ইতিবাচক কোন একটি বার্তা দিতে হবে। আন্দোলনের মুখে দাবি মেনে নেয়ার প্রথাগত সংস্কৃতি নয়, এবার রাস্তায় নামার আগেই দাবি মেনে নেয়ার ব্যাপারে সরকারকে ভাবতে হবে।
দেশের সব গণপরিবহন একত্রে ছাড়ার দরকার নেই। ধীরে ধীরে ও ক্রমান্বয়ে চালু করা যেতে পারে। রাজধানী ঢাকাসহ বড় শহরগুলোর গণপরিবহন রোস্টার ভিত্তিতে চালানো। অর্থাৎ একটি কোম্পানির যত গাড়িই থাকুক না কেন তার এক তৃতীয়াংশ আগামী ২ মে থেকে চলার অনুমতি দেয়া হোক।
আন্ত:জেলা ও আন্ত:নগর বাসগুলো (দূরপাল্লার বাস) ও অনুরূপভাবে চলার অনুমতি দেয়া। অর্থাৎ প্রতিটি কোম্পানির গাড়ি এক তৃতীয়াংশ করে চলাচলের অনুমতি দেয়া।

গাড়িতে প্রতি ২ আসনে এক যাত্রীর নিয়ম মানতে বাধ্য করা। এক্ষেত্রে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম জোরদার করা।
পরিবহন শ্রমিকদের সবাই যাতে কম-বেশি আয় করতে পারেন সেজন্য শ্রমিকদের কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে শ্রমিক নেতা ও যানবাহনের মালিকদের উদ্যোগী হতে হবে। একদল শ্রমিক একবেলা কাজ করলে, অপরবেলায় কাজ করবেন অন্য একদল শ্রমিক। দূরপাল্লার গাড়ির ক্ষেত্রে ট্রিপ ও রিটার্ন ট্রিপ পর্যায়ক্রমে করলেই সবাই কম বেশি আয় করার সুযোগ পাবেন। অর্থাৎ আজ যে গাড়িটি চলবে, কাল সে গাড়িটি বন্ধ থাকবে। এতে শুধু শ্রমিকরাই নয় রুটে চলাচলকারী গাড়ির সব মালিকও কমবেশি আয় পাবেন। একই অবস্থা চালু করতে হবে লঞ্চ চলাচলেও।
পরিবহন শ্রমিকদের জন্য ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রির দাবি জানিয়েছে শ্রমিক ফেডারেশন। ১০ টাকা কেজি দরে না হোক ২০ টাকা কেজি দরে চাল এবং তার সাথে যদি ডাল, তেল, লবন ও আলু দেয়া হয় তাতেও পরিবহন শ্রমিকরা লাভবান হবেন। প্রতিটি বাস টার্মিনাল, বাস স্টেশন ও লঞ্চঘাটে এই ধরনের পণ্য বিক্রির ব্যবস্থা করা যেতে পারে। শ্রমিকরা তাদের কর্মক্ষেত্রের পরিচয়পত্র দেখিয়ে এসব পণ্য কিনবেন।
আজ ১ মে বিশ্ব শ্রমিক দিবস। শ্রমিক দিবসে শ্রমিকদের একটি বড় অংশ কঠিন দু:সময় পার করছে। তাদের ব্যাপারে সরকার নির্লিপ্ত থাকতে পারে না, সর্বোচ্চ স্বাস্থ্যবিধি মেনে, আইনের কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে বাস, লঞ্চের মতো গণপরিবহন সীমিত সংখ্যক হলেও চালু করা দরকার পরিবহন সংশ্লিষ্ঠদের স্বার্থে, একই সাথে সর্বস্তরের মানুষের স্বার্থেও।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *