৪ঠা ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ১৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

রাতেই দুবাই পালাতে চেয়েছিলেন ‘গোল্ডেন মনির’

আপডেট : নভেম্বর ২১, ২০২০ ৯:৪৮ অপরাহ্ণ

42

ভয়েস বাংলা ডেস্ক

অবৈধ অর্থ উপার্জনের মাধ্যমে হাজার কোটি টাকার মালিক বনে যাওয়া গ্রেফতার মনির হোসেন ওরফে গোল্ডেন মনিরের আজ রাতেই দেশ ছেড়ে দুবাই যাওয়ার কথা ছিল। সে জন্যই ফ্লাইট ও টিকিট কনফার্ম ছিল। র্যাব সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, আজই মনির দুবাইতে পালিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। এজন্য তার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন ছিল। রাতে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের (ইকে-৫৮৫) ফ্লাইটে মনিরের দুবাই যাওয়ার কথা ছিল।

মনিরের ছেলে মোহাম্মদ রাফি হোসেন বলেন, বাবা প্রায়ই চিকিৎসার জন্য দুবাই যান। এবারও চিকিৎসার জন্য যাচ্ছিলেন, এজন্য তার ফ্লাইট ও টিকিট কনফার্মড ছিল। তবে মনিরের শারীরিক সমস্যা বা চিকিৎসার বিষয়ে জানতে চাইলে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য বা কাগজপত্র দেখাতে পারেননি তিনি।

শনিবার সকালে গ্রেফতারের সময় মনিরের বাড়ি থেকে ৬০০ ভরি স্বর্ণ, বিদেশি পিস্তল-গুলি, মদ, বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ও নগদ ১ কোটি ৯ লাখ টাকা জব্দ করা হয়। এছাড়াও তার বাড়ি থেকে অনুমোদনহীন দুটি বিলাসবহুল গাড়ি জব্দ করা হয়, যার প্রতিটির বাজারমূল্য প্রায় তিন কোটি টাকা করে।

র্যাব জানায়, ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় দুই শতাধিক প্লট, ফ্ল্যাটের মালিক গোল্ডেন মনির। রাজউকের কতিপয় কর্মকর্তার যোগসাজশে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে অসংখ্য প্লট হাতিয়ে নেন তিনি। প্রাথমিকভাবে ৩০টি প্লট ও ফ্ল্যাটের কথা স্বীকার করেছেন মনির।
জানা গেছে, গোল্ডেন মনির নিজের নিরাপত্তায় লাইসেন্সকৃত দুটি আগ্নেয়াস্ত্র সঙ্গে রাখতেন। এর মধ্যে একটি পিস্তল ও একটি শর্টগান। তবে বৈধ দুটি অস্ত্রের পাশাপাশি একটি অবৈধ পিস্তলও তার দখলে ছিল।

যেটি তাকে গ্রেফতারের সময় তার বাসা থেকে উদ্ধার করা হয়। র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ জানান, গোল্ডেন মনিরের বিরুদ্ধে বাড্ডা থানায় মাদক নিয়ন্ত্রণ আইন, অস্ত্র আইন ও বৈদেশিক মুদ্রা রাখায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে পৃথক তিনটি মামলা করবে র্যাব।

গোল্ডেন মনিরের উত্থান

মনির ’৯০ দশকের দিকে গাউছিয়া মার্কেটে একটি কাপড়ের দোকানের সেলসম্যান হিসেবে কাজ করতেন। পরবর্তীতে কোকারিজের ব্যবসা এবং লাগেজ ব্যবসায় যুক্ত হন। ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন মাল দেশে আনার কাজ শুরু করেন। এক পর্যায়ে স্বর্ণ চোরাকারবারিদের সঙ্গে নিজেকে জড়িয়ে ফেলেন এবং বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ অবৈধভাবে বিদেশ থেকে বাংলাদেশে নিয়ে আসেন। তার স্বর্ণ চোরাচালানের রুট ছিল ঢাকা-সিঙ্গাপুর এবং ভারত। এসব দেশ থেকে সে ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ বাংলাদেশের নিয়ে আসতো। এর পরিপ্রেক্ষিতে তার নাম হয়ে যায় গোল্ডেন মনির।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *