৩রা আগস্ট, ২০২০ ইং | ১৯শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

মালিক যে কেউ হতে পারেন, কিন্তু সম্পাদক নয়

আপডেট : আগস্ট ১, ২০২০ ১:১০ পূর্বাহ্ণ

6

শংকর মৈত্র

গোয়েন্দা রিপোর্টের ভিত্তিতে যেসব অনলাইন নিউজ পোর্টালের নিবন্ধন দিয়ে ঘরে ঘরে সম্পাদক, সাংবাদিক বানাতে চাচ্ছে তথ্য মন্ত্রণালয়, তার মানদণ্ড কি?
অর্থাৎ অনলাইন পত্রিকার সম্পাদক হতে কোনো যোগ্যতা ঠিক করা হয়েছে কি না? কতো বছর, কোন স্তরে সাংবাদিকতা করলে একজন ব্যক্তি সম্পাদক হতে পারবেন তার নীতিমালা করা হয়েছে কি না? তা ঠিক না করে এ ভাবে নিবন্ধন দিয়ে সম্পাদক বানিয়ে ফেলায় ভবিষ্যতে সাংবাদিকতার জন্য বিপদ হতে পারে।

আমি মনে করি প্রতিষ্ঠানের মালিক যে কেউ হতে পারেন, কিন্তু যে কেউ সম্পাদক হয়ে যেতে পারেন না। সেটা অনলাইনই হউক আর পত্রিকাই হউক। সম্পাদক হতে হলে শুধু শিক্ষাই নয়, মূলধারায় সাংবাদিকতায় তার অভিজ্ঞতা বিবেচ্য হতে হবে। আশা করি চূড়ান্ত নিবন্ধনের সময় নীতিমালা তৈরী করে তার ভিত্তিতেই নিবন্ধন দেয়ার প্রক্রিয়া করবে তথ্য মন্ত্রণালয়।

নিবন্ধিত হলে অনলাইনগুলোকে শ্রম আইন এবং সংবাদপত্রের আইনের আওতায় চলতে হবে এটাই স্বাভাবিক। তার মানে হলো তাদেরকে সরকারি বিধি ও ওয়েজবোর্ড অনুযায়ী কর্মিদের বেতনভাতা ও সুযোগ সুবিধা দিতে হবে। সরকারও তাদের সুযোগ সুবিধা দেবে। সাংবাদিকতার নীতিমালাও নিশ্চিত করতে হবে। শুরুতেই সরকার এ ক্ষেত্রে কঠোর নজরদারি না করলে সাংবাদিকতার নামে প্রতারণা বাড়বে। সাংবাদিক ইউনিয়নকেও শুরুতেই কঠোর নজরদারি রাখতে হবে এসব অনলাইনের ওপর। তারা যে সব সাংবাদিক কর্মচারি নিয়োগ করবে তাদের আইন অনুযায়ী বেতন ভাতা দিচ্ছে কি না, তা নজরদারিতে রাখতে হবে সাংবাদিক ইউনিয়নকে। সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরকেও।
না হলে অনলাইনের ক্ষেত্রেও আন্ডারগ্রাউন্ড পত্রিকার মতো জুচ্চুরি শুরু হবে।
আমরা চাই মানসম্মত অনলাইন সংবাদ মাধ্যম বিকশিত হউক। আগামি দুনিয়া হবে অনলাইন ও ডিজিটালের। পৃথিবীর বড় বড় সংবাদ মাধ্যম অনলাইনের দিকে আগাচ্ছে। বাংলাদেশও সে দিকে যাচ্ছে। তাই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েই আগাতে হবে। শ’য়ে শ’য়ে নিবন্ধনের দরকার নেই। দেশের চাহিদা অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় মানদণ্ড যাদের থাকবে তাদেরকেই নিবন্ধন দেয়া হউক। এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

(লেখক- সাংবাদিক। লেখকের ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে।)




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *