২১শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

ভারতে শুরু হচ্ছে ‘স্পুটনিক ভি’-র ট্রায়াল, অনুমোদন রাশিয়াকে

আপডেট : অক্টোবর ১৮, ২০২০ ১:১০ পূর্বাহ্ণ

15

ভয়েস বাংলা ডেস্ক

দীর্ঘ টানাপড়েনের পর ভারতে সম্ভাব্য করোনা টিকা ‘স্পুটনিক ভি’-র পরীক্ষামূলক প্রয়োগে অনুমতি পেল রাশিয়া। হায়দরাবাদের ডক্টর্স রেড্ডিজ ল্যাবরেটরি লিমিটেডের সঙ্গে যৌথ ভাবে ভারতে এই পরীক্ষা শুরু করতে চলেছে তারা। শনিবার ড্রাগ কন্ট্রোল জেনারেল অব ইন্ডিয়া (ডিসিজিআই)-র তরফে এ ব্যাপারে অনুমোদন মিলেছে বলে জানিয়েছে তারা।

পরীক্ষার সব ক’টি ধাপ পেরনোর আগেই রাশিয়ার তরফে ‘স্পুটনিক ভি’-কে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। ওই প্রতিষেধক মানব শরীরের পক্ষে আদৌ নিরাপদ কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে সর্বত্র। তা সত্ত্বেও ভেনিজুয়েলা, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, বেলারুস-সহ একাধিক দেশে প্রতিষেধকটির পরীক্ষামূলক পরীক্ষা শুরু হয়ে গিয়েছে।

বাইরের দেশগুলিকে প্রতিষেধকটির পরীক্ষামূলক প্রয়োগে রাজি করানোর ভার রয়েছে রাশিয়ান ডায়রেক্ট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের (আরডিআইএফ) হাতে। ভারতে ডক্টর রেড্ডিজ-এর সঙ্গে এ নিয়ে চুক্তি করে তারা। সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে তা নিয়ে ভারতীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছ থেকে অনুমোদনও জোগাড় করে ফেলে তারা।

কিন্তু রাশিয়ায় প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রতিষেধকটি নিয়ে যে পরীক্ষা চালানো হয়, তা যথেষ্ট নয় বলে পরবর্তী কালে অনুমোদন প্রত্যাহার করা হয়। বলা হয়, ফের এক বার প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ের পরীক্ষা সম্পূর্ণ করতে। এ নিয়ে এত দিন দু’পক্ষের মধ্যে আলাপ আলোচনা চলছিল। অবশেষে ঠিক হয়, ভারতে দ্বিতীয় এবং তৃতীয় পর্যায়ে ‘স্পুটনিক ভি’-র পরীক্ষামূলক প্রয়োগ হবে।

তার পরেই এ দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে আরডিআইএফ। জানা গিয়েছে, আপাতত ১,৫০০ জনের উপর এই পরীক্ষা চালানো হবে। চুক্তি অনুযায়ী, এই পরীক্ষার দায়িত্বে থাকবে ডক্টর রেড্ডিজ। তা যদি সফল হয়, সে ক্ষেত্রে ছাড়পত্র জোগাড় থেকে প্রতিষেধক বিতরণ, তারাই সব কিছু সামলাবে। তাদের প্রতিষেধকের ১০ কোটি ডোজ সরবরাহ করবে আরডিআইএফ। সব মিলিয়ে ভারতে ৩০ কোটি ডোজ সরবরাহ করতে রাজি হয়েছে তারা।

দেশের বিভিন্ন রাজ্যে র‌্যান্ডমাইজড কন্ট্রোল পদ্ধতিতে এই পরীক্ষা চালানো হবে। অর্থাৎ পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের আলাদা আলাদা দলে ভাগ করে কিছু জনকে এই প্রতিষেধক দেওয়া হবে এবং কিছু জনকে তা দেওয়া হবে না। যাঁদের উপর প্রতিষেধক প্রয়োগ করা হবে, বাকিদের তুলনায় তাঁদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কতটা বাড়ছে, তা পর্যবেক্ষণ করবেন বিশেষজ্ঞরা। প্রতিষেধকটির কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে কি না, তা দেখে তবেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এই মুহূর্তে রাশিয়ার মস্কোয় ৪০ হাজার মানুষকে নিয়ে তৃতীয় পর্যায়ে ‘স্পুটনিক ভি’-র পরীক্ষামূলক প্রয়োগ চলছে। করোনার বিরুদ্ধে প্রতিষেধকটি কার্যকর কিনা দেখতে, দু’টি ডোজই যথেষ্ট বলে জানা গিয়েছে। মস্কোয় ইতিমধ্যেই ১৬ হাজার মানুষকে প্রতিষেধকটির প্রথম ডোজ দেওয়া হয়েছে। নভেম্বরের শুরুর দিকে তার অন্তর্বর্তীকালীন ফলাফল জানা যাবে। মস্কোয় পরীক্ষা কোন পথে এগোচ্ছে, প্রত্যেক সপ্তাহে ভারতীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে তার রিপোর্ট পাঠানো হচ্ছে।

সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *