৪ঠা ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ১৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

‘বিভক্তি হলে আমাকে বাদ দিয়ে দল করো’ ড. কামালের সাফ কথা

আপডেট : নভেম্বর ২১, ২০২০ ১২:১৩ পূর্বাহ্ণ

41

ভয়েস বাংলা রিপোর্ট

গণফোরামের ভাঙন রোধ হয়েছে। জানা গেছে, দলটির নেতারা বিভক্তি নয় ঐক্যের পথ ধরে হাটছেন আর এসবই হয়েছে ড. কামাল হোসেনের কঠোর অবস্থানে, তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন ‘বিভক্তি হলে আমাকে বাদ দিয়ে দল করো’। তার এ কথায় টনক নড়ে দলটিতে দৃশ্যমাণ দুই পক্ষেরই। তারা এক কথায় বলেছেন, গণফোরাম মানে ড. কামাল হোসেন। দল হিসেবে গণফোরামের যে অবস্থান আর উপস্থিতি তা ড. কামাল হোসেনের কারণে আর তাকে ঘিরেই। তাই বিভক্তি নয় ঐক্যের সুর বাজছে দলটিতে।
দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মূলত: ড. কামাল হোসেনের অনমনীয় অবস্থানের কারণে বিভক্তির সঙ্গে জড়িত নেতাদের কেউই এ বিষয়ে তার কাছে গিয়ে সুবিধা করতে পারেননি। দু’পক্ষই ড. কামাল হোসেনকে রেখে এগিয়ে যাওয়ার কথা বললেও, এ ব্যাপারে তার অবস্থান ছিল, হয় ঐক্যবদ্ধ গণফোরাম নয়তো তিনি কারো সাথেই নেই, প্রয়োজনে রাজনীতি থেকে সরে যাবেন। ড. কামাল হোসেনের এই মনোভাব বুঝতে পেরে মোস্তফা মোহসিন মন্টু, সুব্রত চৌধুরী, আবদুল্লাহ আবু সাইয়িদের পক্ষ এবং ড. রেজা কিবরিয়ার সমর্থকরা নুতন করে কোন পদক্ষেপ নেয়া থেকে বিরত থাকেন।

ডিসেম্বরে দু’পক্ষ কাউন্সিল করার কথা ঘোষণা করলেও এরইমধ্যে রেজা কিবরিয়া তার ঘোষিত কাউন্সিল স্থগিত ঘোষণা করেছেন। মোস্তফা মোহসিন মন্টুর অংশ আনুষ্ঠানিকভাবে কাউন্সিল স্থগিত না করলেও তা হচ্ছে না বলেই সবাই ধরে নিয়েছেন। তারা ড. কামাল হোসেনসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের জানিয়ে দিয়েছেন, ড. কামাল হোসেনের অনুমতি বা অংশগ্রহণ ছাড়া কাউন্সিল বা কোন কর্মসূচি করবেন না তারা।
জানা গেছে, বিভক্তি দূর করে গণফোরামের ঐক্য ধরে রাখতে কাজ করে যাচ্ছেন দু’পক্ষের কাছেই গ্রহণযোগ্য মোকাব্বির খান। সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য ও গণফোরামের প্রেসিডিয়াম মেম্বার মোকাব্বির খান দু’পক্ষের নেতাদের সাথে কথা বলে দূরত্ব কমিয়ে এনেছেন, সব বিভেদ-বিসম্বাদ ভুলে গণফোরামের নেতাদের ফের একই ছাতার নিচে আসা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।

দলের ঐক্য সম্পর্কে মোকাব্বির খান বলেন, গণফোরাম ২৮ বছরের একটি দল। এ দলের কাণ্ডারী ড. কামাল হোসেন। তাকে কেন্দ্র করেই যাতে দল পরিচালিত হয় সে লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। মোকাব্বির খান বলেন, দলে বিরোধ নেই, কিছুটা মতবিরোধ ছিল তাও দূর হয়েছে, সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধ কাউন্সিল করে জাতীয় কমিটি গঠন করা হবে।
এদিকে দলের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, গণফোরামের দু’পক্ষের একটি অনানুষ্ঠানিক বৈঠক আগামী সোমবার হতে পারে। ড. কামাল হোসেনের উপস্থিতিতে ওই বৈঠকে কাউন্সিল আয়োজনে একটি আয়োজক কমিটি গঠন করা হতে পারে। তবে কাউন্সিল কবে হবে তা এখনো নিশ্চিত নয়, তা নির্ভর করছে করোনা পরিস্থিতির ওপর। ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে দেশে করোনা পরিস্থিতি যদি নাজুক না হয় তা হলে জানুয়ারিতেই আয়োজন করা হতে পারে জাতীয় কাউন্সিল।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *