১লা আগস্ট, ২০২০ ইং | ১৭ই শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

বাংলা সাহিত্যের বরপুত্র হুমায়ূন আহমেদের অষ্টম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

আপডেট : জুলাই ১৯, ২০২০ ১১:১২ পূর্বাহ্ণ

277

ভয়েস বাংলা ডেস্ক

নন্দিত কথাশিল্পী ও নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদের অষ্টম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ১৯ জুলাই। ২০১২ সালের এই দিনে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান সমকালীন বাংলা সাহিত্যের সবচে’ জনপ্রিয় এ সাহিত্যিক।
২০১২ সালের এইদিনে ক্যান্সারে ভুগে নিউইয়র্কের একটি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন সমসাময়িক বাংলা সাহিত্যের সবচে’ জনপ্রিয় এ ঔপন্যাসিক। পরে তার মরদেহ দেশে এনে সমাহিত করা হয় তার নিজের হাতে গড়া গাজীপুরের নুহাশ পল্লীতে।
প্রতি বছরের মতো না হলেও, সীমিত আকারে পরিবার ও ভক্তরা দিনটিতে স্মরণ করবে নানা আয়োজনের মধ্যদিয়ে, দেশজুড়ে। জানা গেছে, করোনাকালের কারণে এবার সীমিত আকারে দোয়ার আয়োজন থাকছে হুমায়ূন আহমেদের জন্মস্থান নেত্রকোনা এবং লেখকের সবচেয়ে প্রিয় স্থান গাজীপুরের নুহাশপল্লীতে। টিভি চ্যানেলগুলোতেও থাকছে তার নাটক, চলচ্চিত্র, গান ও সাহিত্য নিয়ে দিনভর বিশেষ অনুষ্ঠানমালা।
১৯৭২ সালে প্রকাশিত তার প্রথম উপন্যাস ‘নন্দিত নরকে’ তাকে এনে দেয় পরিচিতি। এরপর লিখেছেন তিন শতাধিক গ্রন্থ। যার প্রায় সবই সাড়া ফেলেছে দেশ-বিদেশের পাঠকমহলে।
হুমায়ূন আহমেদ একদিকে সাহিত্য দিয়ে মন্ত্রমুগ্ধ করেছেন পাঠককে, অন্যদিকে নির্মাণ করেছেন অনন্য সব নাটক, চলচ্চিত্র ও গান। তার হাত ধরেই তারকার সম্মান পেয়েছেন এ দেশের অনেক শিল্পী।

টেলিভিশনের জন্য একের পর এক দর্শকনন্দিত নাটক রচনা ও পরিচালনার পাশাপাশি হুমায়ূন আহমেদ ১৯৯০-এর গোড়ার দিকে চলচ্চিত্র নির্মাণ শুরু করেন। তার পরিচালনায় প্রথম চলচ্চিত্র ‘আগুনের পরশমণি’ মুক্তি পায় ১৯৯৪ সালে। ২০০০ সালে ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’ ও ২০০১ সালে ‘দুই দুয়ারী’ দর্শকদের দারুণ গ্রহণযোগ্যতা পায়। ২০০৩-এ নির্মাণ করেন ‘চন্দ্রকথা’।
১৯৭১-এ বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ২০০৪ সালে হুমায়ূন আহমেদ নির্মাণ করেন ‘শ্যামল ছায়া’। এটি ২০০৬ সালে অস্কারের সেরা বিদেশি ভাষার চলচ্চিত্র বিভাগে বাংলাদেশ থেকে অংশ নিয়েছিল। চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্যই তিনি তার দীর্ঘদিনের কর্মস্থল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপনা থেকে অবসর নেন।
কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ একুশে পদক, বাংলা একাডেমি পুরস্কারসহ দেশে-বিদেশে বিভিন্ন পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন হুমায়ূন আহমেদ।
১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনার কুতুবপুরে জন্মেছিলেন হুমায়ূন আহমেদ। বাবা ফয়জুর রহমান আহমেদ ছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা। তিনি মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাতে শহীদ হন। হুমায়ূনের মায়ের নাম আয়েশা ফয়েজ। তার দুই ভাই মুহাম্মদ জাফর ইকবাল ও আহসান হাবীবও জনপ্রিয় লেখক।
হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যু হয়েছে, তবে এখনো বইয়ের বাজারে একচ্ছত্র আধিপত্য হুমায়ূন আহমেদের রচনারই। প্রতিটি বইমেলায়ই বিষাদ ভরে উচ্চারিত হয় বাংলা সাহিত্যের এ বরপুত্রের নাম।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *