১লা আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশ-কাতারের মধ্যে নতুন দিগন্তের সূচনা

আপডেট : জুলাই ১৫, ২০২১ ১০:০৫ অপরাহ্ণ

31

কাজী শামীম, কাতার

বাংলাদেশ থেকে প্রথমবারের মতো সমুদ্রপথে বাণিজ্যক ভাবে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারে বিভিন্ন ধরনের ফলজ ও বনজসহ ৩ হাজার পাঁচ শতাধিক গাছের চারা আমদানি করার মধ্যে দিয়ে দুই দেশের নতুন দিগন্তের সূচনা হয়েছে। এসবের মধ্যে রয়েছে মাল্টা, লেবু, আম, জাম, কাঁঠাল, কাঠবাদাম, নিম, বটগাছ, বাউকুলসহ বিভিন্ন ধরনের চারা গাছ।

২০২২ সালে অনুষ্ঠিতব্য কাতারে ফুটবল বিশ্বকাপ টুর্নামেন্টকে ঘিরে পুরো দেশকে সবুজায়ন করার পদক্ষেপ নিয়েছে কাতার সরকার। এতে বাংলাদেশি নার্সারি ব্যবসায়ীরা কাতার সরকারের সবুজায়ন প্রকল্পে অংশ নিচ্ছেন। এছাড়া কাতারে অবস্থিত বিভিন্ন দেশের ব্যবসায়িদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা দিয়ে ব্যবসা বাণিজ্য সম্প্রসারণে এগিয়ে যাচ্ছে প্রবাসী বাংলাদেশিরা। কাতার প্রবাসীরা বলছেন, প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ থেকে সমুদ্র পথে চারা রপ্তানির মাধ্যমে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করলো বাংলাদেশ। ফলে দু’দেশের ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কের পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের নতুন পথ উন্মোচিত হল।

কাতারের রাজধানী দোহায় নার্সারি ব্যবসায় সফল বাংলাদেশিদের মধ্যে তেমনি একজন কুমিল্লা লাকসাম উপজেলা বাকই ইউনিয়নের বাসিন্দা মোঃ রাকিবুল হাসান। রাজধানী দোহার নিকটে আইন খালেদ এলাকায় নার্সারি বিক্রয় কেন্দ্রসহ সেহেলিয়ার ৮০ একর জমিতে একটি নার্সারিতে পিতার হাত ধরে এই ব্যবসায় আগমন হলেও দীর্ঘ ১০ বছরে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে। তার এই নার্সারিতে বর্তমানে অনেক প্রবাসীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।

বাংলাদেশি উদ্যোক্তা রাকিবুল হাসান বলেন, গত তিন বছরের প্রচেষ্টার ফলে কাতারে এই প্রথম সমুদ্র পথে বাংলাদেশের বিভিন্ন জাতের গাছের চারা আমদানি করতে সক্ষম হয়েছি। এছাড়া আমরা নিয়মিত এয়ার কার্গোতে বিভিন্ন জাতের চারা গাছ নিয়ে আসতাম। এখন থেকে আরও বড় পরিসরে সমুদ্র পথে চারা গাছ আমদানি করতে পারবো। তিনি আরো বলেন, বিশ্বকাপ আসর উপলক্ষে কাতার সরকার ফুটবল স্টেডিয়ামগুলোর আসপাশ, রাস্তার দু’ধারে সবুজায়ন করতে বিভিন্ন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। তাই গাছের চারা আমদানির মাধ্যমে কাতার সবুজায়নে ব্যাপক ভূমিকা পালন করবে বাংলাদেশ।

সমুদ্র পথে চারা গাছের প্রথম চালান কাতারে এসে পৌঁছালে পরিদর্শনে আসেন দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোঃ জসিম উদ্দিন। পরিদর্শনে এসে রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ থেকে চারা গাছ আমদানির মাধ্যমে দু’দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে। আগামীতে যাতে ব্যাপক পরিসরে গাছ আমদানি করা যায় সেক্ষেত্রে সব ধরনের সরকারি সহযোগিতার আশ্বাস দেন রাষ্টদূত।

বাংলাদেশ থেকে কৃষি খাতে প্রচুর পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও পিছিয়ে ছিল বাংলাদেশ। আগামীতে সকল জটিলতা কাটিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হবে বাংলাদেশের চারা গাছসহ সকল কৃষি ও কৃষিজাত পণ্য।




ছবি