২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশি-মার্কিনি ড. রুহুল আবিদ নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনীত

আপডেট : সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২০ ২:০৭ অপরাহ্ণ

21

ভয়েস বাংলা ডেস্ক

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের আলপার্ট মেডিকেল স্কুলের অধ্যাপক ড. রুহুল আবিদ এবং তার অলাভজনক সংস্থা হেলথ অ্যান্ড এডুকেশন ফর অল (হায়েফা) নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন।
২০২০ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত ২১১ ব্যক্তির মধ্যে ড. আবিদ একজন।
জাগো নিউজ জানায়, ড. আবিদ ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে স্নাতক এবং জাপানের নাগোয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মোলিকুলার বায়োলজি ও জৈব রসায়নে পিএইচডি অর্জন করেছেন। পরে তিনি ২০০১ সালে হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুল থেকে ফেলোশিপ সম্পন্ন করেন। তিনি ব্রাউন গ্লোবাল হেলথ ইনিশিয়েটিভের একজন নির্বাহী সদস্য।

তার অলাভজনক সংস্থা হায়েফা বাংলাদেশের সুবিধাবঞ্চিতদের বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসছে। গত তিন বছরে এই প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৩০ হাজার পোশাক শ্রমিককে বিনামূল্যে চিকিত্সাসেবা দিয়েছে।
প্রায় ৯ হাজার সুবিধাবঞ্চিত নারী ও পোশাক শ্রমিককে জরায়ু ক্যানসার স্ক্রিনিং ও চিকিৎসা এবং কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরের দেড় হাজারেরও বেশি মানুষকে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা দিয়েছে।
২০১৩ সালে রানা প্লাজা ধসের পর ড. আবিদ সারাদেশে তৈরি পোশাক শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসেবা দিতে হায়েফা প্রতিষ্ঠা করেন। সে সময় হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের ডা. রোজমেরি দুদার সঙ্গে তিনি ঢাকা, গাজীপুর এবং শ্রীপুরের তিনটি কারখানায় পোশাককর্মীদের বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করেন।
গত ছয় মাস ধরে, ঘনবসতিপূর্ণ শরণার্থী ক্যাম্পগুলোতে সম্ভাব্য রোগ মোকাবিলাসহ করোনা মহামারি ঠেকাতে কাজ করেছে হায়েফা।
২০২০ সালের এপ্রিলে ব্রাউন ইউনিভার্সিটি এবং আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যসেবা সংস্থা প্রজেক্ট হোপের সঙ্গে একটি সহযোগিতামূলক কার্যক্রম শুরু করে হায়েফা। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ জুড়ে বড় বড় সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য একটি বিশ্বমানের চার দিনের কোভিড-১৯ দক্ষতা প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
এপ্রিল থেকে আগস্ট পর্যন্ত ডা. আবিদ ও হায়েফা ৩৫টি সংস্থার প্রায় এক হাজার ২০০ জনেরও বেশি বাংলাদেশি স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ দিতে সহায়তা করেছে।
২০২০ সালের অক্টোবরের মধ্যে আরও তিন হাজার ৬০০ জন স্বাস্থ্যসেবা কর্মীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার আশা জানিয়েছে হায়েফা।
ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ে ডা. আবিদের শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের সুরক্ষায় পিপিইর জন্য তহবিল সংগ্রহ করতে সহায়তা করেছিল। বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের জন্য ১০ হাজার কেএন-৯৫ মাস্ক, পালস অক্সিমিটার ও হাঁপানির জন্য ইনহেলারের মতো প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করা হয় এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে।
ডা. আবিদ তার প্রতিষ্ঠান থেকে কাজের জন্য কোনো বেতন বা পারিতোষিক নেন না। ডা. আবিদ এবং তার সংস্থা জনকল্যাণমূলক কাজের জন্য ২০১৮ সালে গ্র্যান্ড চ্যালেঞ্জস কানাডার ‘স্টারস ইন গ্লোবাল হেলথ’ পুরষ্কার পায়।
নোবেল পুরস্কার ওয়েবসাইটের তথ্যমতে, ২০২০ সালের পুরস্কারের জন্য মনোনীতদের মধ্য থেকে আগামী অক্টোবরে বিজয়ী ঘোষণা করা হবে।
২০০৬ সালে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও গ্রামীণ ব্যাংক।