৮ই আগস্ট, ২০২০ ইং | ২৪শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

বরিশালের শিল্পায়নের পথিকৃতৎ দানবীর অমৃত লাল দে

আপডেট : জুন ১৪, ২০২০ ৬:৫২ অপরাহ্ণ

27

আব্দুর রহমান

বরিশাল বরাবরই ছিল শিল্পে পশ্চাৎপদ একটি এলাকা। এখনো যে খুব একটা শিল্প কল-কারখানা আছে তা নয়, তবে এরই মাঝে সরকারি বেসরকারি উদ্যোগে কিছু কলকারখানা হচ্ছে। বরিশালে বেসরকারি শিল্পোদ্যোক্তাদের অন্যতম ছিলেন অমৃত লাল দে। শুধু শিল্প কারখানা নয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও গড়ে তোলেন তিনি, শিল্প সাহিত্যের পৃষ্ঠপোষকও ছিলেন এই গুণী ব্যক্তি। আজ তার ২৭তম মৃত্যুবার্ষিকী।
অমৃত লাল দে ছিলেন প্রতিষ্ঠান পরিচালনার গুন,ব্যাক্তিত্ব, দরদী মন ও শ্রমিক-কর্মচারিদের প্রতি সৌভ্রাতৃত্ববোধের জন্য তিনি সকলের অমৃত দা বা বড়কাকু হিসেবে পরিচিত ছিলেন ।
তাঁর প্রচেষ্টা য় বৃহত্তর বরিশালের বিভিন্ন অঞ্চলে অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নতির জন্য অনেক আর্থিক অনুদান করেছেন । এ ছাড়াও তিনি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নতিকল্পে অকাতরে দানের মধ্য দিয়ে সকল সম্প্রদায়ের মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালবাসায় অর্জন করেছিলেন ।
অমৃত লাল দে অনেক জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ পদে আসীন ছিলেন ।বরিশাল শহরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আর্থিক অনুদান করেছেন যেমন-বরিশাল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, রামকৃষ্ণ মিশনে চানু স্মৃতি দাতব্য চিকিৎসালয় স্থাপন, সারদা ভবন, সারদা ঘাটলা নির্মান, মমতাজ মজিদুন্নেছা গার্লস স্কুল, জগদীশ সারস্বত গার্লস স্কুলের অমৃত ভবন, ও যোগমায়া ভবন নির্মাণ, কাউনিয়া উচ্চ গার্লস স্কুল নির্মানে আর্থিক সহায়তা, বরিশাল পাবলিক লাইব্রেরির নতুন ভবন নির্মাণে,মুকুল স্মৃতি প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্মানে ,বরিশাল ক্লাবের অমৃত লাল দে মিলনায়তন নির্মান, বাকেরগনজের সাহেব গন্জ নাজমুল করিম উচ্চ বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণ সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মাণে আর্থিক সহায়তা করেন ।

দানবীর অমৃত লাল দে এর নামে আয়ুর্বেদ মহাবিদ্যালয়, একটি শিশু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অমৃত লাল দে সংগীত একাডেমীসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান উঠেছে ।এই দানবীর মৃত্যুর আগ মুহূর্তে বরিশাল নগরীতে অমৃত লাল দে মহাবিদ্যালয় প্রতিষঠা করেন ।যা দক্ষিণান্চলের অন্যতম বিদ্যাপীঠ হিসেবে পরিচিত ।তিনি দুঃখী অভাব মোচনে তাঁর উদার চিত্তে দান তাকে দানবীরের মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছে।
তিনি বরিশালের লোকসাহিত্য, অশ্বিনী কুমার রচনা সমগ্র, আচার্য জগদীশ কথা মৃতু,বরিশাল ধর্মরক্ষিনী সভা কামিনী সুন্দরী চতুষ্পাঠী: ইতিহাস ও বিকাশ, বাখরগঞ্জ জেলার ইতিহাস প্রভৃতি গ্রন্থের তিনি প্রকাশক। অমৃত পরিবারের পৃষ্ঠপোষকতায় সম্প্রতি আরো কয়েকটি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে । অমৃত লাল দে মহাবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার একপর্যায়ে ১৯৯৩ সালের ১৪ জুন,এই ক্ষনজন্মা দানবীর মানুষটি হৃদযন্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে অসুস্থ অবস্থায় কোলকাতায় ইহলোক ত্যাগ করেন। তাকে অমৃত লাল দে মহাবিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সমাধিস্থ করা হয়। আজও বরিশালের সর্বত্র এ মানুষটির নাম উচ্চারিত হয় শ্রদ্ধাভরে। বরিশালে গেলেই দেখা মেলে তার নানা কীর্তির।