২৫শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

ফেসবুকে খবর দেখা ও শেয়ার করা অস্ট্রেলীয়দের জন্য বন্ধ

আপডেট : ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২১ ১১:৩৩ পূর্বাহ্ণ

10

ভয়েস বাংলা ডেস্ক

ফেসবুক কর্তৃপক্ষ সামাজিক যোগাযোগের এই মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ার ব্যবহারকারীদের জন্য কোনো সংবাদ আধেয় (নিউজ কনটেন্ট) দেখা বা তা শেয়ার করার সুযোগ আটকে দিয়েছে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানার ক্ষেত্রে দেশটির নাগরিকদের সুযোগ পাওয়ার বিষয়ে সৃষ্টি হয়েছে বেশ খানিকটা উদ্বেগ। খবর বিবিসির।

সপ্তাহের অন্যান্য আর কয়টা দিনের মতোই আজ বৃহস্পতিবারও সাতসকালে ঘুম থেকে ওঠেন অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকেরা। কিন্তু এদিনের সকালটা ছিল তাঁদের জন্য খানিকটা ব্যতিক্রমই। ফেসবুকে ঢুকে দেশীয় ও বিদেশি সংবাদ সাইটগুলোর ফেসবুক পেজ খুঁজতে গিয়ে দেখেন, সেগুলো বন্ধ। অর্থাৎ, তাঁরা কোনো দেশি-বিদেশি খবর ফেসবুকে দেখতে পাচ্ছেন না।

অস্ট্রেলিয়ার প্রকাশকেরাও তাদের ফেসবুক পেজে কোনো সংবাদ আধেয় প্রকাশ বা শেয়ার করতে পারছেন না। প্রসঙ্গত, ফেসবুকে দেশটির জাতীয় সম্প্রচারমাধ্যম এবিসি এবং সিডনি মর্নিং হেরাল্ড ও দ্য অস্ট্রেলিয়ানের মতো সংবাদমাধ্যমগুলোর কোটি কোটি অনুসারী রয়েছেন।

পাশাপাশি গতকাল থেকেই বন্ধ হয়ে যায় অস্ট্রেলিয়ার স্বাস্থ্য, জরুরি সেবা ও অন্যান্য খাতের বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের ফেসবুক পেজ। তবে পরে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটি জানায়, এ ক্ষেত্রে তাদের কিছুটা ত্রুটি আছে। ওই সব পেজ তারা বন্ধ করতে চায়নি। ভুল করে হয়ে গেছে।বিজ্ঞাপন

এ ছাড়া অস্ট্রেলিয়ার বাইরে থেকেও কেউ ওই দেশের কোনো সংবাদ প্রতিষ্ঠানের পেজ দেখতে পাবেন না। ফেসবুকের এই পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় অস্ট্রেলীয় সরকার বলেছে, এ নিষেধাজ্ঞা ফেসবুকের গ্রহণযোগ্যতাকে হুমকিতে ফেলেছে।

নিজের সুনাম ও অবস্থানের ক্ষেত্রে ফেসবুকের ওই পদক্ষেপ কী প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে খুব মনোযোগের সঙ্গে ভাবা উচিত।

-পল ফ্লেচার, অস্ট্রেলিয়ার যোগাযোগমন্ত্রী

সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ায় প্রস্তাবিত এক আইনে কোনো সংবাদ আধেয় প্রকাশ করার জন্য ফেসবুককে অর্থ পরিশোধ করতে বলা হয়েছে। ফেসবুকের ওই পদক্ষেপকে অস্ট্রেলিয়ার এই প্রস্তাবিত আইনেরই পাল্টা জবাব হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে বিরোধটা কী নিয়ে
গুগল ও ফেসবুকের মতো বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর যুক্তি, ইন্টারনেট দুনিয়া কীভাবে কাজ করে, সেই বিষয়টি অস্ট্রেলিয়ার ওই আইনে প্রতিফলিত হয়নি এবং সামাজিক যোগাযোগের এসব প্ল্যাটফর্মকে অন্যায্যভাবে ‘সাজা’ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে অস্ট্রেলিয়ার সরকার জানায়, তারা আইনটি পাস করার কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছে। গত বুধবার এটি পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে পাস হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার যোগাযোগমন্ত্রী পল ফ্লেচার অস্ট্রেলীয় ব্রডকাস্টিং করপোরেশনকে (এবিসি) বলেন, নিজের সুনাম ও অবস্থানের ক্ষেত্রে ফেসবুকের ওই পদক্ষেপ কী প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে খুব মনোযোগের সঙ্গে ভাবা উচিত।

ফেসবুকের ওই পদক্ষেপের কয়েক ঘণ্টা আগে গুগল তার প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন সংবাদ ওয়েবসাইট থেকে পাওয়া আধেয় প্রকাশ করার জন্য মিডিয়া মোগল রুপার্ট মারডকের নিউজ করপোরেশনকে অর্থ দিতে রাজি হয়।

অস্ট্রেলিয়ার বাজার প্রতিযোগিতা নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান বলছে, বৃহৎ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো ও প্রকাশকদের মুনাফায় লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বা সমতার সুযোগ প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যেই তারা এ রকম একটি আইনের রূপরেখা তৈরি করেছে।

অস্ট্রেলিয়ার বাইরে থেকেও কেউ ওই দেশের কোনো সংবাদ প্রতিষ্ঠানের পেজ দেখতে পাবেন না। ফেসবুকের এই পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় অস্ট্রেলীয় সরকার বলেছে, এ নিষেধাজ্ঞা ফেসবুকের গ্রহণযোগ্যতাকে হুমকিতে ফেলেছে।

তবে ফেসবুক বলেছে, ‘আইনটিতে দুটি তিক্ত বিকল্প বেছে নিতে বলা হয়েছে। এর একটি হলো ওই আইনকে মেনে নেওয়া, যেখানে পারস্পরিক সম্পর্কের বাস্তবতাকে অবজ্ঞা করা হয়েছে। অন্যটি হলো অস্ট্রেলিয়ায় আমাদের কার্যক্রম থেকে সংবাদ আধেয় প্রদর্শন বন্ধ করা। ভারাক্রান্ত হৃদয়ে আমরা পরেরটি বেছে নিয়েছি।’

এদিকে অস্ট্রেলিয়ার প্রকাশকেরাও তাদের ফেসবুক পেজে কোনো সংবাদ আধেয় প্রকাশ বা শেয়ার করতে পারছেন না। প্রসঙ্গত, ফেসবুকে দেশটির জাতীয় সম্প্রচারমাধ্যম এবিসি এবং সিডনি মর্নিং হেরাল্ড ও দ্য অস্ট্রেলিয়ানের মতো সংবাদমাধ্যমগুলোর কোটি কোটি অনুসারী রয়েছেন।

সূত্র: প্রথম আলো




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *