৬ই মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

প্রসঙ্গ নাসিরের বিয়েঃ প্রযুক্তি সবার হওয়া উচিৎ না

আপডেট : ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২১ ৯:৫১ অপরাহ্ণ

15

রেহনুমা মোস্তফা

প্রযুক্তির সবার জন্য নয় তা আরেকবার বুঝলাম। ক্রিকেটার নাসিরের বউ আগের স্বামী কে তালাক না দিয়ে নাসিরকে বিয়ে করেছে কিংবা মাঝে তার আরেকটা সংসার ছিল এই শিরোনামের নিউজ গুলো দেখে ও নিউজ এর নিচে আমাদের গণমানুষের মন্তব্য কিংবা এই নিউজগুলো আমার ফ্রেন্ডলিস্টের তথাকথিত কিছু শিক্ষিত মূর্খের শেয়ার করা দেখে মনে হচ্ছে আসলেই প্রযুক্তি সবার জন্য নয়। সমস্যা হচ্ছে একটা সুন্দর স্বনির্ভর মেয়ের নিজের খুশি খুঁজে নেওয়া সহ্য হচ্ছে না। অন্যের সুন্দরী স্বনির্ভর বউ সবার সহ্য হয় না। অন্যের সুন্দর বিয়ের ভিডিও বা বিয়ের ছবি সহ্য হয় না। সমস্যা হচ্ছে নিজের পছন্দ না হওয়া স্বামী বা স্ত্রীর সাথে সামাজিক ভয়ের কারণে সারা জীবন একসাথে থাকতে হচ্ছে তাই অন্যের খুশির মুহূর্ত সহ্য হয় না। যেসব আপু ভাইয়েরা নাসিরের বউ এর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ও নাসিরের বউয়ের আগের ঘরের সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তায় মরে যাচ্ছেন তাদের কখনো দেখি না কোন একটা মেয়ের বিপদে পড়লে তার পাশে দাঁড়াতে, কোন একটা মেয়েকে রাস্তায়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বা অফিসে harassment এর শিকার হতে দেখলে সেখানে প্রতিবাদ করতে, কোন নারীকে তার পিতার সম্পত্তি থেকে অন্য ভাই ও বোনেরা বঞ্চিত করছে তখন তার অধিকার নিয়ে সোচ্চার হতে। শুধুমাত্র অন্যের ব্যক্তিগত জীবনে আগুন জ্বললে সে আগুনে ঘি ঢালতে দেখি। যেন কোন ভাইয়া কোনদিন কোন মেয়েকে কোনভাবে জ্বালান নাই আর শিক্ষিত আপুরা বড় বড় চাকরী করা স্বামীদের লুচ্চামির প্রতিবাদ করে নিরীহ কাজের মেয়েটাকে রক্ষা করেন ও নানাভাবে দুর্বল মানুষদের পাশে দাড়ান।

নিজেদের ব্যক্তিগত জীবনের হতাশা অন্যের উপর চাপিয়ে মন্তব্য করে সুখ পাওয়া নিতান্তই মানসিক ভারসাম্যহীনতার লক্ষণ। নাসিরের বউ কি করেছে কী করবে সেটা নাসির আর তার বউ কে বুঝতে দিন। তারা প্রাপ্তবয়স্ক এবং ভাল প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত। যার নিজের পার্টনারকে ধরে রাখার ক্ষমতা নাই সেখানে নিজেকে ভিকটিম দাবি করা সামাজিক sympathy নেওয়া অন্তত আমার কাছে খুব হাস্যকর মনে হয় আর জোর করে সঙ্গীকে ধরে রেখে তাকে সবার সামনে ছোট করে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা আরো বেশী হাস্যকর। এমনিতেই এই উপমহাদেশের মেয়েরা নিজেদের সুখ বুঝতে বুঝতে কবরে চলে যায়। অন্যের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বিশেষ করে মেয়েদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে রসালো মন্তব্য করে নিজেকে ফেরেশতা মনে করা আপু ভাইয়াদের টনক তখনই নড়ে যখন তাদের নিজেদের মা বোন কিংবা কন্যাসন্তানের জীবনের উপর দিয়ে ঝড় বয়ে যায়। তখনই তারা কেবল তাদের জীবন নিয়ে সোচ্চার হন।

আপনি কারো ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অসম্মান করে কথা বলতে পারেন না। সে যেই হোক যেমনি হোক। আপনার কথা আপনার আচরণ কিন্তু আপনার মা-বাবাকে অপরের কাছে পরিচিত করে আর ব্যক্তিগত বিষয় একান্তই ব্যক্তিগত। অন্তত সার্টিফিকেটধারীদের এই বিষয়টা বুঝে নিজের শিক্ষাকে সম্মান দেওয়া উচিত।

যাই হোক অনেক কথা লিখে ফেলছি। উচিত কথা বলা মেয়েদের আবার সমাজ ভালো চোখে দেখেনা। হা হা হা, আরেকটা কথা আমার এই পোস্ট যদি কারো ভালো না লাগে তাহলে সুন্দর মতন ignore করবেন অযথা তর্ক করে আমার অতি মূল্যবান সময় নষ্ট করবেন না।

(ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে)




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *