২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

প্রসঙ্গঃ খালেদা জিয়ার বিদেশ যাত্রা

আপডেট : আগস্ট ২৯, ২০২০ ১১:৪১ অপরাহ্ণ

357

মোস্তফা ফিরোজ

খালেদা জিয়াকে যেতে দিন। বিদেশে। চিকিৎসা বা বিশ্রামের জন্য। এতে মনে হয় না বড়ো কোন রাজনৈতিক লাভ বা ক্ষতি হবে। বরং সরকারের একটি মানবিক কাজ সব মহলে প্রশংসিত হবে। খালেদা জিয়ার বিদেশ যাবার বিষয়টি কোন রাজনৈতিক আন্দোলন বা চাপ নয়। আবেদনটি পারিবারের।

বোঝাই যায়, খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার বিষয়টি রাজনীতি মুক্ত রাখতে তার পরিবার সজাগ। কেননা, খালেদা জিয়ার বয়স বিবেচনায় তিনি এখন জীবনের শেষ প্রান্তের একজন বাসিন্দা। অসুস্থতা নিয়ে এই সময় রাজনীতি চলে না। বাস্তবতা হলো রাজনৈতিক সেই পরিবেশ নেই। বিএনপিও সেই পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারেনি। ফলে, খালেদা বিদেশ যেতে পারলে কোন রাজনীতিতে বাহবা পাওয়া যাবে না। এটা বলাও হাস্যকর।দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে কোন চাপ ছাড়াই কোন রাজনৈতিক নেতা প্যারোল পাননি। কিন্তু সেটা পেয়েছেন একমাত্র খালেদা জিয়াই।

গত ২৮ মার্চ করোনা পরিস্থিতির ভিতরে তিনি ছয় মাসের প্যারোল পান। এই ছয় মাসে তিনি প্যারোলের শর্ত মেনে কোন রাজনৈতিক কার্যক্রমে অংশ নেননি। ফলে, এখানে রাজনীতি অনুপস্থিত। এখন খালেদার ভাই শামীম ইস্কান্দার পরিবারের একজন সদস্য হিসাবেই মানবিক দিক বিবেচনায় তার চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাবার অনুমতির চেয়েছেন। সরকারের কাছে এজন্য আবেদন করেছেন।আগেই বলেছি, সরকার যদি খালেদা জিয়াকে মানবিক বিবেচনায় চিকিৎসার জন্য বিদেশ যেতে দেন তাহলে কোন রাজনৈতিক ঝুঁকি নেই। কেননা, এখানে সরকারের উদারতা বা বদান্যতায় যদি এই কাজটি হয় তখন এর থেকে কোন রাজনৈতিক ফায়দা বিএনপি তুলতে পারবে না। বরং সরকারি দলের পক্ষে অনেক কথা বলার থাকবে।যে যাই বলুক না কেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়া দুই জনই ইতিহাসের অংশ। পক্ষে বিপক্ষে অনেক কথা আছে। আছে দ্বন্দ্ব সংঘাত ও তিক্ততার নানা ইতিহাস। তারপরও এরশাদ স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে দুই নেত্রীর আপোষহীন নেতৃত্বেই এদেশে সফল আন্দোলন ও পুনরায় গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা ঘটনাটি ইতিহাস থেকে মুছে ফেলা যাবে না।

সেই ইতিহাস স্মরণ রেখে গণতন্ত্রের এক নেত্রী যদি আর এক নেত্রীর চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাবার বিষয়টি বিবেচনা করেন তাহলে রাজনীতিতে মানবিকতা প্রতিষ্ঠিত হবে, যার কৃতিত্ব পাবেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেটাই মনে হয় সবারই কাম্য।