৪ঠা ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ১৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

প্রতিদ্বন্দিতাপূর্ণ উত্তেজনার নির্বাচন দেখতেও ভাল লাগে

আপডেট : নভেম্বর ৫, ২০২০ ৬:২০ অপরাহ্ণ

21

জ.ই. মামুন

৫ নভেম্বর ২০১৬। চার বছর আগের এই দিনের ছবি, নিউ ইয়র্কে। ফেসবুক মেমোরি থেকে পেলাম। সেদিনও ইলেকশন নাইট ছিলো। মনে পড়ে, সারারাত আমি আর সহকর্মী আলমগীর ম্যানহাটনের রাস্তায় হেঁটে হেঁটে কাটিয়ে দিয়েছি। আর ছিলো মুস্তাফিজ, NYPD তে কাজ করা বাঙালি বন্ধু, (মেধাবী সাংবাদিক খালেদ মুহিউদ্দিনের বড় ভাই) তার আন্তরিকতা আর ভালোবাসার কোনো তুলনা নেই। নিউ ইয়র্ক পুলিশে কাজ করে বলে তার অনেক ক্ষমতা, এখানে সেখানে ঢুকে পড়ে গাড়ি নিয়ে, সাথে কখনো খাবার, কখনো পানীয়। আজ হঠাৎ সে কথা মনে করে মুস্তাফিজকে মিস করতে শুরু করলাম এবং নিউ ইয়র্ককেও।

বলছিলাম নির্বাচনের কথা। আমরা একবার ম্যানহাটনে হিলারি ক্লিনটনের নির্বাচনী ক্যাম্পের সামনে আরেকবার ট্রাম্প টাওয়ারের সামনে যাই। বাকিটা সময় টাইমস স্কয়ারের আশপাশের বিশাল বিশাল ডিজিটাল বোর্ডে সিএনএন দেখি, ইলেকশনের ফলাফল দেখি আর মানুষ দেখি, রঙ বেরঙের মানুষ। রাত যত বাড়তে থাকে, হিলারী ক্যাম্প ফাঁকা হতে থাকে, ভিড় বাড়তে থাকে ট্রাম্প ক্যাম্পের সামনে। ফলাফল স্পষ্ট হয়ে ওঠে। নির্বাচনী প্রচারণার সময় লস এঞ্জেলেস, লাস ভেগাস, ডিসিসহ অনেক জায়গা ঘুরেছি তবে নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটনের রাস্তায় ভোটের যে উত্তেজনা, তেমনটা আর কোথায় দেখিনি।

সেবার নির্বাচনের আগে হিলারীর পক্ষে যত আওয়াজ ছিলো, ভোটের সময় দেখা গেলো তার অধিংকাংশই ছিলো ফাঁকা বুলি। এবার দেখা যাচ্ছে উল্টো। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেই নিজের হয়ে ফাঁকা বুলি আওড়াচ্ছেন।

আমেরিকার আরেকটা নির্বাচনের কথা খুব মনে থাকবে। ২০০৮ সালে বারাক ওবামার প্রথম নির্বাচন। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম একজন কালো মানুষ কি করে সাদা দেশের প্রেসিডেন্ট হয়ে গেলেন, সে সত্যি অবিশ্বাস্য এক লড়াই। সেবারও প্রচারণার সময় পেনসিলভেনিয়া, ভার্জিনিয়া, জর্জিয়াসহ কয়েকটি রাজ্যে গিয়েছিলাম। মানুষের যে আগ্রহ দেখেছি তাতে অনুমান করা কঠিন ছিলো না যে ওবামাই হতে যাচ্ছেন আমেরিকার পরবর্তী প্রেসিডেন্ট। ওই রাতে যখন তিনি বিজয়ী ঘোষিত হলেন, তখন মানুষের যে উল্লাস দেখেছি, তেমনটা কখনো কোথাও দেখিনি। তখন সেই ভিড়ের মধ্যে একটা লাইভের মতো রিপোর্ট করেছিলাম। (তখন ওখান থেকে লাইভ করার মতো প্রযুক্তি আমাদের ছিলোনা) পরেরদিন সেটি এটিএন বাংলায় প্রচারিত হয়েছিলো।

ওই ট্রিপের কথা বলতে গেলে দু’জনের কথা বলতেই হয়, একজন মঞ্জুরুল ইসলাম, মঞ্জু ভাই। আমার বড় ভাই তুল্য কিন্তু ভাইয়ের চেয়ে বেশি বন্ধু। তিনি এখন ঢাকায়, ডিবিসি নিউজের সিইও। তখন থাকতেন নিউ ইয়র্কে। তার সহায়তা ছাড়া আমেরিকায় আমি এক পা নড়তে পারতাম না। আমার থাকা খাওয়া, আমাকে গাড়ি চালিয়ে এখানে সেখানে নিয়ে যাওয়া, প্লেনের টিকেট কেটে দেয়াসহ সব কাজের প্রধান চালিকাশক্তি ছিলেন মঞ্জু ভাই। আরেকজন খোকন, আশরাফুল আলম খোকন। ছোট ভাই তুল্য কিন্তু বন্ধু। এখন সেও ঢাকায়, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব। খোকন আর আমি নিউ ইয়র্কের রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে ঘুরে নিউজ করতাম আর কোথাও ফ্রি ওয়াইফাই পাওয়া গেলে মাটিতে বসেই ল্যাপটপ খুলে ঢাকায় ভিডিও পাঠালাম। খোকন তখন কাজ করতো চ্যানেল আইয়ের জন্য।

এবারের নির্বাচনটা কাছে থেকে দেখা হলোনা করোনার কারনে। আর দেশের রাজনীতিতে যেহেতু প্রতিদ্বন্দ্বিতা ব্যাপারটা আর নেই, তাই কোথাও এমন উত্তজনার নির্বাচন হচ্ছে দেখলে ভালো লাগে।

এই লেখা শেষ করবো আমার কন্যার মন্তব্য দিয়ে। সে সকালে আমাকে লিখেছে, “I miss the times when politics used to be competitive here, too 😞 Tai bidesher politics dekhteo bhallage, nijer desher to ar emon nai 😞”

(ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে)