২১শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

পোল্যান্ড ইতিহাস ও ঐতিহ্যের মেলবন্ধন

আপডেট : সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২০ ১:৫২ অপরাহ্ণ

45

মাসুদুল হাসান রনি, কানাডা থেকে

পোল্যান্ডকে চেনা সেই আশির দশকে। বিটিভির রাত আটটার বাংলাসংবাদে প্রায় প্রতিদিন দেখতাম গাদানস্কে ডক শ্রমিকনেতা লেস ওয়ালেসার আন্দোলনের সংবাদ। ঠোঠের দু’পাশে ঝুলে থাকা মোটা পুরু গোফের ওয়ালেসা তখন পোল্যান্ডের অবিসংবাদিত শ্রমিকনেতা।নব্বই দশকে তিনি পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন। সেই সময় থেকে পুর্ব ইউরোপের সমাজতান্ত্রিক পোল্যান্ডের নাম শোনা ও পরিচয়।পোল্যান্ড নিয়ে আমার অনেক স্মৃতি। ওয়ারশ , পোজনান, ক্রাকোভ, মোয়াবাসহ অনেক শহরে ঘোরা হয়েছে। দুই হাজার ১৩ সালে প্রথম ওয়ারশ গিয়েছিলাম বার্লিন থেকে বাসে। ইউরোলাইন বাসে টিকেটের দাম পড়েছিল ৩৫ ইউরো। ‘প্রথম দফায় ওয়ারশ’র জেরুজালেমেস্কিতে ছিলাম মনিরভাইয়ের বাসায়। টানা আটদিনে বহু জায়গায় ঘুরেছি।এ যাত্রায় ওয়ারশ থেকে মোয়াবায় নান্নুভাইয়ের বাসায় বেড়াতে গিয়েছিলাম। এ শহরে স্বল্পসংখ্যক বাংলাদেশীর বাস। তিনি একমাত্র বাংলাদেশী যিনি পরিবার নিয়ে থাকেন।

দ্বিতীয় দফায় পোল্যান্ড গিয়েছিলাম দুইহাজার পনেরোতে। ওয়ারশর জেন্টারুম ইনস্টিটিউটে ফিল্ম এন্ড মিডিয়া স্ট্যাডিজে একটা শর্ট ডিপ্লোমা কোর্সে। কোর্সের জন্য ৯মাস ছিলাম। এরপর দুই হাজার সতেরো সালে পোজনান সিটিতে ছিলাম ছয় মাসের মতন। পোল্যান্ডের সাবেক রাজধানী পোজনান আমার কাছে সবচেয়ে ভাল লেগেছে।

দ্য রিপাবলিক অব পোল্যান্ড, যাকে আমরা পোল্যান্ড নামেই জানি। মধ্য ইউরোপের এক অপূর্ব সুন্দর দেশ হচ্ছে পোল্যান্ড। এই দেশটির চারিদিক ঘিরে রয়েছে সাতটি দেশের সীমান্ত। উত্তরে লিথুয়ানিয়া ও রাশিয়া এবং দক্ষিণে চেক প্রজাতন্ত্র ও স্লোভাকিয়া আর পশ্চিমে জার্মানি, পূর্বে ইউক্রেন ও বেলারুশ। বাল্টিক সাগরের নীল জলরাশি আর কার্পেথিয়ান পাহাড়ের সবুজের ছায়াঘেরা নীল সবুজের পোল্যান্ড ইউরোপের সবচেয়ে দ্রুত উন্নয়নগামী দেশ। সাবেক সমাজতান্ত্রিক ব্লকের শক্তিশালী দেশটির অবকাঠামো উন্নয়নের ধারবাহিকতায় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্বি ইউরোপের অন্যান্য দেশের তুলনায় ঈর্ষনীয়।

এ দেশের সংস্কৃতি আর ঐতিহ্যের এক অপূর্ব মেলবন্ধন রয়েছে । অপূর্ব সুন্দর ও ঝকঝকে এক দেশ পোল্যান্ড।

পোল্যান্ডের রাজধানী ওয়ারশ। সকল উন্নয়ন কর্মকান্ডের কেন্দ্রবিন্দু। যেন ছাই থেকে উঠে আসা ফিনিক্স পাখি। এই শহরে জন্মগ্রহণ করেছেন শাস্ত্রীয় সুরকার ফ্রেড্রিক চপ্পিন। শহরটির গোড়াপত্তন হয় দ্বাদশ শতকের কাছকাছি সময়ে । দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর শহরটিকে আবার নতুনভাবে পুনরুজ্জীবিত করা হয়। শহরটিকে সাঁজিয়ে তোলা হয়েছে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এবং সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে । শহরের ওল্ড টাউন স্কোয়ারের মাঝখানে রয়েছে ঢাল-তলোয়ার হাতে মারমুখী মৎস্যকন্যার এক বিশাল স্থাপত্য । এই স্থাপত্যের কারণে ওয়ারশকে বলা হয় ‘দ্য সিটি অফ মারমেইড’। এখানেই রয়েছে কোপারনিকাস বিজ্ঞান কেন্দ্র।

ঝকঝকে সুন্দর ওয়ারশকে স্থানীয়রা আদর করে ভার্সা বলে ডাকেন। ইউরোর পাশাপাশি স্থানীয় মুদ্রা জোলিত এর প্রচলন রয়েছে। ঐতিহ্যবাহি খাবার ছাড়াও তার্কিশ খাবার বেশ জনপ্রিয়। সাধারনত এখানকার জনগন নির্বিবাদী ও শান্তিপ্রিয়। ওয়ারশর ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম খুবই আধুনিক ও বিস্তৃত। চব্বিশ ঘন্টা সিটি বাস সার্ভিস। বিস্তৃত অঞ্চলজুড়ে ট্রাম লাইন। সর্বাধুনিক ভুগর্ভস্থ মেট্রো সার্ভিস স্থানীয়দের কাছে শুধু নয় পর্যটকদের কাছেও আর্কষনীয়। দেড়শত বছরের পুরানো রেলব্যবস্থাও চমৎকার।

আজকের পোস্টটি মুলত ওয়ারশ শহরের উন্নয়ন, সংস্কারের পাশাপাশি ইতিহাস ও ঐতিহ্যর সাথে পরিচিত হবার জন্যই।

[আমার এ ছবিগুলো ২০১৩ থেকে ২০১৭ সালের বিভিন্ন সময় তোলা]