৭ই আগস্ট, ২০২০ ইং | ২৩শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

নারীরা কবে মানুষ হবে?

আপডেট : জুলাই ৯, ২০২০ ১২:১৮ পূর্বাহ্ণ

16

মোহাম্মদ রুবেল, ভিয়েনা

প্রাচীন গ্রীসের মানুষেরা বিশ্বাস করতো নারীদের আত্মা নেই। যার আত্মা নেই সে তো আর মানুষ হতে পারেনা।পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম সভ্যতায় নারীদের প্রতি এমন আচরণ সত্যিই আঁতকে ওঠার মতো। বর্তমান বিশ্বে এর ধারাবাহিকতা অব্যাহত আছে ধ্যানে ও মননে।পুরুষতান্ত্রীক সমাজে প্রথম শহীদ আমাদের মায়েরা যারা শুধুইমাএ সন্তান উৎপাদনের যন্ত্র হিসাবে ব্যাবহিত হয়ে আসছে। তবে পশ্চিমা বিশ্ব আশাতীতভাবে নারী মুক্তিলাভ করলেও তৃতীয় বিশ্বে নারী দাসীর ভূমিকায় রয়েই গেলো।

খুব বেশিদিন আগের কথা নয়।১৮৮০ সালের পূর্বে ইংল্যান্ডের নারীরা সম্পদের মালিক হতে পারতোনা।এমনকি তাদের পিতা-মাতারা তাদের কণ্যাকে সম্পদ না দিয়ে মেয়ের স্বামীর নামে দিতে হতো।ইংল্যান্ডে শিল্পবিপ্লব শুরু হলে নারীরা শ্রমিক হিসেবে যোগ দিতে থাকলো কিন্তু বেতনের টাকা স্বামীর হাতে আসতো। এমন অন্যায় আচরণের প্রতিবাদে নারীরা প্রথমে সমবায় সমিতির ব্যানারে ঐক্যবদ্ধ হয় এবং ব্যাপক প্রতিবাদ প্রতিরোধ গড়ে তোলে।কিন্তু শাসকশ্রেণী এতে মোটেও কর্ণপাত করলোনা বরং নির্বিচারে জেল-জুলুম শুরু করে।নারীদের মিছিল মিটিংয়ে পুলিশ লেলিয়ে দিয়ে নির্দয়ভাবে লাঠিপেটা করতো। নারীদেরকে ব্যাপকহারে জেলে নিয়ে সরকার পড়তো বিপদে কারণ তাদের শিশু বাচ্চারা অসহায় হয়ে পড়তো। তাই জেলে না নিয়ে নারীদেরকে পুলিশি হয়রানি ও প্রহার অব্যাহত রাখে। এমন অবস্থায় সমস্ত রাজনীতিবিধগণের এবং পুলিশের স্ত্রীরা আন্দোলনরত নারীদের সাথে যোগদান করে।প্রথমে তারা যেখানেই রাজনীতিবিধ দেখতো সেখানেই তাদেরকে আক্রমণ করতো। পঁচা ডিম এবং জুতা ছুঁড়ে মারতো।এমনকি রক্তাক্ত করে ডাস্টবিনে ছুড়ে মারতো।বিষয়টা এতটাই ভয়াবহ ও বিব্রতকর ছিল যে রাজনীতিবিধেরা সর্বক্ষন পুলিশি প্রহরায় থাকতো।আন্দোলনকে আরো তীব্র করার জন্য নারীরা তাদের ছেলে শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো বন্ধের হুমকি দিলো,পতিতারা দেহ ব্যবসায় বন্ধ করলো এমনকি গৃহস্থালির কাজ পর্যন্ত বন্ধ করলো।

এদিকে সরকার নতুন আইন করে সব পুরুষকে ভোটাধিকারের সুযোগ দিলো যা নারীদেরকে আরো বিক্ষুদ্ধ করে তোলে।নারীরা এই আইনকে ব্যাঙ্গ করে ডাকতো ‘বিড়াল এবং ইঁদুরের আইন’। সর্বপ্রথম নারীদের আন্দোলনে সমর্থন দেয় ইংল্যান্ডের শিল্পপতিরা।কারণ তারা ভাবলো যদি নারীদের কে সম্পদের অধিকার প্রদান করা হয় তাহলে নারীরা শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কাজ করবে। এতে তাদের শ্রমিক সংকট দূরীভূতি হবে। অবশেষে সরকার শিল্পপতিদের চাপে ও চরম বিব্রতকর পরিস্থিতি এড়াতে নারীদের ভোটাধিকার ও সম্পদের মালিকানার অধিকার প্রদান করে।উল্লেখ্য, ইংল্যান্ডের নির্বাচনে রানী এলিজাবেথ পর্যন্ত সিনেট নির্বাচনে ভোট দিতে পারতোনা।নারীদের ভোটাধিকার ও সম্পদের মালিকানার অধিকার দেওয়ায় শুরু হলো নবদিগন্তের সূচনা। এবার আসাযাক বাংলাদেশ প্রেক্ষাপটে।আমাদের নারীদের ভোটাধিকার ও সম্পদের অধিকার সবই আছে কিন্তু নেই তাদের মেরুদণ্ড। এখানে ধর্ষকের মা- বোন- স্ত্রী ধর্ষকের বিচার দাবি করার সাহস দেখায়না।যে রাজনীতিবিদগণ ধর্ষক বা নারী নির্যাতনকারীদের প্রশ্রয় দেয় তাদেরকে পঁচা ডিম ছুঁড়ে না কিংবা ঝাঁড়ু – জুতা পেটা করেনা।নিজের অধিকার নিজেই আদায় করে নিতে হয়।শুধুমাএ বারো হাত লম্বা শাড়িতে নিজেদেরকে মুড়িয়ে রাখলেই ইজ্জত রক্ষা হয়না।সাম্য,মানবিক মর্যাদা ও ন্যায় বিচার না পেলে মানুষ জিন্দা লাশ হয়ে বেঁচে থাকে।

তথাকথিত বিয়ের আবডালে বাবার বয়সী বিকৃতমস্তিষ্কের লোকদের বিছানা সঙ্গী হওয়ার চেয়ে গার্মেন্টসের চাকরি হাজারো গুণে উত্তম। বিবাহিত ধর্ষনের চাইতে একলা জীবন মর্যাদার।তৃতীয় বিশ্বের নারীরা সততা ও সাহসের সাথে জেগে না ওঠলে অসভ্য সভ্যতা কখনোই সভ্য হবেনা।আপনাদের সামনে ইংল্যান্ডের ইতিহাস প্রেরনা হয়ে আছে।