৬ই মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

দেশে প্রতিবছর উৎপাদিত হয় ২৮ লাখ মেট্রিক টন ই-বর্জ্য, ব্যবস্থাপনায় অসংগতি, অর্থনৈতিকভাবে কাজে লাগানোর সুপারিশ

আপডেট : ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২১ ১০:২৬ পূর্বাহ্ণ

26

ভয়েস বাংলা ডেস্ক

বাংলাদেশ প্রতি বছর ২৮ লাখ মেট্রিক টন ই-বর্জ্য উৎপন্ন করে থাকে এবং প্রতিবছর ২০ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে ইলেকট্রনিক বর্জ্য। এসব বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য নেই কোন নির্দিষ্ট নীতিমালা। কিন্তু এসব বর্জ্যে সীসা, পারদের মত আরো অনেক ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থের উপস্থিতি সম্পর্কে জানা গেছে যা মাটি, পানি, বায়ু দূষণের পাশাপাশি এর ওপর নির্ভরশীল মানুষের জীবনকেও বিপর্যস্ত করে তুলতে পারে।
এ কারণেই মানবিক অধিকার সংগঠন ‘ভয়েস’ আয়োজিত কর্মশালায় জনসচেতনতা তৈরীর পাশাপাশি সরকারের কাছে এই বিষয়ক নীতিমালা প্রণয়ণের দাবি করা হয়।

২ ফেব্রুয়ারি “বাংলাদেশে ডিজিটাল প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার এবং কার্যকর ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা” শীর্ষক কর্মশালাটি ভয়েসের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। এই কর্মশালায় এনজিও, তরুণ উদ্যোক্তা, লেখক ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। ভয়েসের নির্বাহী পরিচালক আহমেদ স্বপন মাহমুদ ওয়ার্কশপটি পরিচালনা করেন এবং মূল বিষয় নিয়ে তথ্য উপস্থাপন করেন আবতাব খান শাওন। কর্মশালায় বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক সেলিম সামাদ, নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. আইরিন জামান, নদী গবেষক শেখ রোকন, ডিআরইউ’র সাবেক সভাপতি জামালউদ্দীন, নারী নেত্রী বাসন্তি সাহা, সাংবাদিক আহমেদ তোফায়েল প্রমুখ।
এ অবস্থায়, পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ অনুসারে ‘ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনার নিয়ম কানুন’ সংক্রান্ত একটি খসড়া বিধিমালা প্রণয়ন করা হয় এবং ২০১১ এবং ২০১৩তে সেটি সংশোধন করা হয়েছে। তবে এই আইনের কার্যকর ব্যবস্থা ও বাস্তবায়নের কোনও অগ্রগতি আজ অবধি দেখা যায়নি।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে ১৮ মিনিটের একটি প্রামান্য চিত্র উপস্থাপন করা হয়। এতে বাংলাদেশের ই বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নানা ঘাটতি ও ত্রুটির কথা উল্লেখ করা হয়। মূল নিবন্ধে বলা হয়, বাংলাদেশে ১ লাখ ২০ হাজারের বেশি মানুষ ই বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কাজ করছে এদের বেশিরভাগই শিশু। কোন রকম স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও নিরাপত্তা ছাড়াই অনানুষ্ঠানিক নানা প্রতিষ্ঠানে কাজ করছে তারা। ই বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ‘রি সাইক্লিং’ এর ওপর জোর দেন বক্তারা। তারা বলেন, বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ হওয়ায় অধিক্ংশ বর্জ্যই কোন না কোনভাবে নদীতলে ঠাই নেয় যার নানা নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে আমাদের পরিবেশ ও প্রতিবেশে। এ থেকে উত্তোরণে ই বর্জ্যর সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও একে অর্থনৈতিকভাবে কাজে লাগানোর পরামর্শ দেয়া হয় সেমিনারে।