১৪ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৩১শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

দুই বিপণিবিতানে মাস্ক না পরায় ২৯ জনকে অর্থদণ্ড

আপডেট : মে ৪, ২০২১ ৮:৪৮ অপরাহ্ণ

9

ভয়েস বাংলা ডেস্ক

মুখের মাস্ক খুলেই ক্রেতার সঙ্গে কথা বলছিলেন দোকানি সাইফুল ইসলাম। এ সময় দোকানে আসেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। আদালতকে দেখেই তিনি মাস্ক পরে নানা অজুহাত দেন। কিন্তু স্বাস্থ্যবিধি না মানায় আদালত তাঁকে ২০০ টাকা জরিমানা করেন।

রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি কমপ্লেক্সে আজ মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার চিত্র এটি। এই বিপণিবিতানে আজ দুপুর ১২টা থেকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে ক্রেতা–বিক্রেতাদের স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। তবে এ সময় এই বিপণিবিতানের বিদ্যুৎ–সংযোগ বন্ধ ছিল। জেনারেটরের মাধ্যমে কিছু কিছু জায়গায় আলো জ্বলছিল। ভ্রাম্যমাণ আদালত যে ফ্লোরেই যাচ্ছিলেন, সেখানেই জেনারেটরের বিদ্যুৎ–সংযোগ চলে যাচ্ছিল। এ সময় বিপণিবিতানের মূল শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্র (সেন্ট্রাল এসি) বন্ধ থাকায় ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

টাঙ্গাইল থেকে বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সে ঈদের শপিং করতে এসেছেন দুই বন্ধু। তাঁদের একজন মাসুম বিল্লাহ। তাঁর মুখে অবশ্য একটি মাস্ক ছিল। তবে তা মুখের থুতনিতে নামানো ছিল। ভ্রাম্যমাণ আদালত জিজ্ঞেস করতেই তিনি আমতা-আমতা করতে থাকেন। এ সময় আদালত তাঁকে ৩০০ টাকা অর্থদণ্ড দেন।

মাস্ক না পরার বিষয়ে নানা অজুহাত দিচ্ছিলেন দর্শনার্থীরা। কেউ বলছেন, ভুলে গেছেন, কেউবা মুখের পরিবর্তে পকেটে মাস্ক নিয়ে মার্কেটে ঘুরছিলেন। মো. রিয়াদ নামের ২৮ বছর বয়সী এক তরুণকে ভ্রাম্যমাণ আদালত ৫০০ টাকা জরিমানা করেন। তাঁর দাবি, তাঁর মুখে মাস্ক ছিল। তবে তা ছিঁড়ে যায়। মাস্ক পরতে পরতেই আদালতের সামনে পড়ে যান তিনি।

এক ঘণ্টাব্যাপী এই অভিযানে মোট ১৭টি মামলা করা হয়েছে। এ সময় ১৭ জনকে ৫ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযানের নেতৃত্ব দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শেখ রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়কেই স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে, যা অনেকেই মানছেন না। মার্কেটগুলোতে অনেক দোকানদার নিজেরাই মাস্ক পরেন না। তাঁরা মাস্ক পকেটে গুঁজে রাখেন। এভাবে অবহেলা করার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, ‘মাস্ক ও স্বাস্থ্যবিষয়ক সচেতনতা ব্যক্তিপর্যায় থেকে আসতে হবে। ব্যক্তি সচেতন না হলে দুরূহ হয়ে দাঁড়াবে। আমরা চাই, সবাই যাঁর যাঁর জায়গা থেকে সচেতন হবেন। সরকার চাচ্ছে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে সবাই চলবেন।’

এই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, অসংখ্য মানুষ সঠিকভাবে মুখে মাস্ক পরছেন না। বেশির ভাগই মাস্ক মুখের নিচে ও থুতনিতে ঝুলিয়ে রাখছেন। এসব কারণে ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধি আইনের ২৬৯ ধারা অনুযায়ী অর্থদণ্ড দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে ডিএমপি পরিচালিত আরেকটি ভ্রাম্যমাণ আদালত রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় অভিযান চালান। এই অভিযানের নেতৃত্ব দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সঞ্জীব দাস। আদালত এ সময় মাস্ক না পরা ও স্বাস্থ্যবিধি না মানায় ১২টি মামলায় ১২ জনকে পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করেন।

সকালে বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, বিপণিবিতানটির প্রবেশপথগুলোতে জীবাণুনাশক টানেল বসানো। তবে এগুলো চলছে না। টানেলের সামনে একজন নিরাপত্তাকর্মী থার্মাল স্ক্যানার হাতে দাঁড়িয়ে আছেন। তবে সেটি দিয়ে দর্শনার্থীদের শরীরের তাপমাত্রা মাপা হচ্ছে না। বিপণিবিতানে প্রবেশের সময় প্রত্যেকের হাতে হ্যান্ড স্যানিটাইজার দেওয়া হচ্ছে।

সূত্র: প্রথম আলো




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *