২৯শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

জিতলো এরদোগান, হারলো ভবিষ্যৎ মুসলিম উম্মাহ

আপডেট : জুলাই ২৫, ২০২০ ২:২৭ অপরাহ্ণ

72

মোহাম্মদ রুবেল

হাজিয়া সোফিয়াকে মসজিদে পুনঃপ্রতিষ্ঠায় এরদোগানপন্থি কিছু লোকের মৃদু উল্লাস ছাড়া বিশ্বের প্রায় সিংহভাগ মুসলমানকে উল্লসিত হতে দেখিনি।বিশেষ করে ইয়োরোপীয় দেশগুলোতে বাসবাসকারী প্রচুর তুর্কীকে সম্পূর্ণ চুপ থাকতেই দেখলাম।তারা উল্লসিত হয়ে কোন আনন্দ মিছিল বা প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে কিনা আমার জানা নেই।পাশাপাশি বাংলাদেশসহ পাকিস্তানের মুসলমানদের মধ্যে তেমন আনন্দ বা শুকরিয়া জমায়েত পরিলক্ষিত হয়নি।এটাকে আমি খুবই ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখছি।

আবেগী মুসলমানরা হয়তো বুঝে গেছে ধর্মকে ঢাল হিসেবে ব্যাবহার করে এরদোগান নিজের অবস্থান দৃঢ় করছে এবং নিজেকে ভোটের রাজনীতিতে যোগ্য করছে।আমাদের আলেম সমাজ হয়তো টের পেয়েছেন, এরদোগানের এই খেলার পরিণাম ভবিষ্যতে খুবই ভয়াবহ হবে।বিশেষ করে, ইয়োরোপে উগ্র খ্রিষ্টানিটি মাথাচাড়া দিয়ে ওঠলে তাদের রাজনৈতিক নেতারাও ভোটের রাজনৈতিক খেলা হিসেবে ইয়োরোপীয় ঐতিহাসিক মসজিদগুলোকে গির্জায় রূপান্তর করবে।সে ক্ষেত্রে ইয়োরোপীয়রা তুরস্কের উদাহরণ টেনে আনবে দলিল দস্তাবেজ সহকারে।রাষ্ট্র চাইলে সবই হয়, আর ভোটের রাজনীতিতে সবই জায়েজ হয়ে যায়।ইসরাইল এবং ভারত হয়তো এমন সুযোগের অপেক্ষায় ছিলো।আমি নিশ্চিত, উগ্রপন্থী হিন্দু ও ইহুদীরা মনে মনে দারুন খুশি হয়েছে।খৃস্টানরাও তেমন প্রতিক্রিয়া দেখায়নি।তারাও হয়তো খুশি হয়েছে।মাত্র কয়েছ বছর পরই এরদোগান মডেল অনুসরণ করবে তারা।ইতোমধ্যেই হাজিয়া সোফিয়াকে মসজিদে পুনঃস্থাপনে বাইতুল মোকাদ্দাস ও বাবরি মসজিদ ধ্বংসের বৈধতা দেওয়া হয়ে গেছে।

মুসলিম বিশ্বের উচিৎ ছিল, আদালতের দোহাই দিয়ে এরদোগানের এমন কার্যের প্রকাশ্যে তীব্র বিরোধিতা করা ভবিষ্যতে স্বার্থে।আমরা যারা ইয়োরোপে বসবাস করছি, অথবা অমুসলিম প্রধান দেশে বসবাসরত মুসলমানদের জন্য এরদোগান এমন একটা কাজ করলো যা বিষফোঁড়া হয়ে থাকবে।খুব বেশী নয়, মাত্র বিশ বছরের মধ্য ইয়োরোপ ও আমেরিকায় ডানপন্থীরা ক্ষমতায় এসে আমাদেরকে হিসেব নিকেশ হাতে ধরিয়ে দিবে।আপাতত, জিতলো এরদোগান, হারলো ভবিষ্যৎ মুসলিম বিশ্ব।এটা একান্ত আমার ব্যাক্তিগত মতামত। দয়া করে ত্যানা পেঁচানো হতে বিরত থাকুন।

লেখক অস্ট্রিয়া প্রবাসী বাংলাদেশী।