২রা অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

ছাত্ররাজনীতির এতো অধঃপতন!

আপডেট : সেপ্টেম্বর ১২, ২০২০ ৩:২৮ অপরাহ্ণ

31

শাখাওয়াৎ হোসেন সায়ন্থ

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির একজন বড় নেতা। বয়স ৩৪ বছর। কথা প্রসঙ্গে জানতে চাইলাম, রাজনীতি সম্পর্কে তিনি আপডেট থাকেন কিভাবে? তার উত্তর, ফেসবুক থেকে। জিজ্ঞেস করলাম, পত্রিকা, বই বা গুগল সার্চ দিয়ে প্রয়োজনীয় আর্টিকল পড়েন কি না? এবার তার উত্তর, না। পড়ার সময় পান না।
তার থেকে আরো যে সব জানলাম, তা চমকে ওঠার মতো। তিনি

  • শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কোন নিবন্ধ পড়েন নি। কোন নিবন্ধের শিরোনাম পর্যন্ত জানেন না।
  • একুশে পদক, স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার কবে কে চালু করেন সেটা জানেন না।
  • সাংবাদিক শফিক রেহমানের নাম শুনেননি। তার লাল গোলাপ অনুষ্ঠান কোন দিন দেখেননি। এমন কী নাম পর্যন্ত শুনেননি। যায় যায় দিন পত্রিকা কখনো সাপ্তাহিক ছিল তাও জানেন না।
  • বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী পড়েননি (হয়তো ভেবেছেন, ওটা পড়া নিষিদ্ধ। রাজনীতি করতে হলে ওটাও যে পড়তে হয়, তা তাকে কে বোঝাবে!)

এ তালিকাটা আরো দীর্ঘ। তার মাধ্যমে আমি বর্তমান ছাত্ররাজনীতি সম্পর্কে একটা ধারণা নিতে চেয়েছি।

তাকে অনেকক্ষণ ধরে বোঝাতে চেষ্টা করলাম রাজনীতি করতে হলে লেখাপড়া ও নিজেকে আপডেট রাখা কতোটা জরুরী। তাতে যে তারই লাভ, তার ডিগনিটি বাড়বে তাও বোঝাতে চেষ্টা করলাম। আমার কথায় হয়তো বিরক্ত হয়েছেন। তবুও আমার চেষ্টা আমি করেছি।

তাকে একটা হোম ওয়ার্কও দিয়েছি। বলেছি আজই প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের দেওয়া ১৯ দফা পড়ে তা নিয়ে ফেসবুকেই একটা স্ট্যাটাস দিতে। আমি অপেক্ষায় আছি।

অনেক ছাত্রনেতাই আছেন, তারা বেশ পড়াশোনা করেন। দেশ-বিদেশের রাজনীতি সম্পর্কে খোঁজ খবর রাখেন। তারপরেও, এই নেতার চিত্রটা কী বর্তমান রাজনীতিতে কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা?

এই যে এতো বছর ছাত্ররাজনীতি করার পরও তার এই অবস্থা, এর দায়টা কি তার একার? সংগঠন এবং সামগ্রিকভাবে আমাদের রাজনীতির কি কোন দায় নেই?

লেখক-চিকিৎসক ও সমাজ বিশ্লেষক। লেখকের ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে।)