২রা আগস্ট, ২০২০ ইং | ১৮ই শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

চামড়া বিক্রিতে গতবারের শংকা!

আপডেট : আগস্ট ১, ২০২০ ৬:৪৫ অপরাহ্ণ

3

ভয়েস বাংলা ডেস্ক

কোরবানীর পশুর চামড়া নিয়ে এবারও কী গতবারের মতো অবস্থার পুণরাবৃত্তি হতে যাচ্ছে? চামড়া ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা আজ এর বেচাকেনার অবস্থা দেখে তেমনই আশংকা করছেন। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে চামড়া সংগ্রহ করা মাদ্রাসা ও এতিমখানার শিক্ষার্থী ও মৌসুমী ব্যবসায়ীরা বিপুল পরিমাণ চামড়া সংগ্রহ করলেও তাদের অনেকেই তা বিক্রি শুরুই করতে পারেননি। ফলে তাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে গতবারের সেই আশংকা।

রাজধানীর বিভিন্ন রাস্তার মোড়ে মোড়ে চামড়া নিয়ে বসে আছেন মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা। বিক্রি করবেন বলে ক্রেতার আশায় সেই দুপুর থেকে অপেক্ষমাণ তারা। কিন্তু বেলা গড়িয়ে বিকেল তারপরও চামড়া কেনার জন্য ক্রেতা আসছে না। মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা মহল্লা ঘুরে ঘুরে একদিকে চামড়া সংগ্রহ করছে, অপরদিকে সেগুলো বিক্রির জন্য রাস্তার মোড়ে এনে জড়ো করছে। এভাবেই স্তূপের পরিমাণ বাড়ছে। কিন্তু বিক্রি হচ্ছে না। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এ চিত্র দেখা গেছে।

রাজধানী ঢাকাসহ দেশে কোরবানীর দিনে চামড়ার প্রথম ক্রেতা মূলত: মৌসুমী ব্যবসায়ীরাই। কিন্তু এবার তাদের উপস্থিতি খুবই কম। অনেকেই জানিয়েছেন, এ বছর মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীরা না থাকায় বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে গেছে চামড়া সংগ্রহের জন্য। কোরবানি দাতারাও সেভাবেই মাদ্রাসায় নিজের কোরবানি করা গরু বা ছাগলের চামড়া দান করে দিয়েছেন।
আগে নিয়মিত কোরবানীর দিন চামড়া কেনাবেচা করেন এমন একাধিক ব্যবসায়ী বলেছেন, গত দুই বছর কোরবানির ঈদে চামড়া কিনে লোকসান দিয়েছেন তারা, পুঁজিও উঠানো যায়নি। তাই এবার আর চামড়ার ব্যবসায় নামেননি তারা।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ঢাকায় এ বছর লবণযুক্ত গরুর চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ৩৫ থেকে ৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ঢাকার বাইরে ২৮ থেকে ৩২ টাকা দর নির্ধারণ করা হয়েছে। একইসঙ্গে সারাদেশে প্রতি বর্গফুট খাসির কাঁচা চামড়া ১৩ থেকে ১৫ টাকা এবং বকরির চামড়া ১০ থেকে ১২ টাকা মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ট্যানারির মালিকরা এই দামেই কাঁচা চামড়া কেনার ঘোষণা দিয়েছেন।

গতবার চামড়া বেচাকেনায় চরম নৈরাজ্য দেখা দিয়েছিল, মাদ্রাসার ছাত্র ও মৌসুমী ব্যবসায়ীরা চামড়া সংগ্রহ করলেও তাদের অনেকেই তা বিক্রি করতে পারেননি, এমনকি বিক্রি করতে না পেরে অনেকে চামড়া ফেলেও দিয়েছিলেন।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *