২৯শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

গুণের ক্রসফায়ার!

আপডেট : অক্টোবর ৬, ২০২০ ১:২৭ অপরাহ্ণ

30

আরিফুর রহমান

“ধর্ষণের শেষপর্ব” শিরোনাম দেয়া পোস্টে কবি নির্মলেন্দু গুণ লিখেছেন,”ধর্ষণের বিরুদ্ধে এইবার মানুষ যেভাবে সোচ্চার হয়েছে, তেমনটি পূর্বে কখনও হয়নি। জাতি এখন ক্রস-ফায়ারের অপেক্ষায় আছে। মনে হচ্ছে, ধর্ষণকে “না” ও ক্রস-ফায়ারকে “হ্যাঁ” বলার জন্য বাংলাদেশ এখন সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

তারপর তিনি লিখেছেন, “মাদকবিরোধী অভিযানে যদি শত শত ক্রস-ফায়ার চলতে পারে, ধর্ষণবিরোধী অভিযানে কেন নয়? আমরা ধর্ষণের শেষ দেখতে চাই। অনেক সয়েছি, আর নয়।”

কবি ও লেখকেরা শুধু কালি ঝরায়, রক্ত নয়, তাই নি-গুন কবি’র ক্রসফায়ারের প্রস্তাবে অবাক হলেও নারী-ধর্ষণ নিয়ে কবি’র মানসিক অন্তর্দহন এবং ক্রোধকে ভালোবাসার সাথে সন্মান জানাই। কিন্তু এই আবেগী প্রস্তাবের অন্য একটি দিক আছে।

একজন নারী বা পুরুষের সাথে তার অসম্মতিতে জবরদস্তি যৌনাচার করলে তাকে ধর্ষণ বলা হয়। একই ভাবে একজন কথিত অপরাধীকে বিচার না করে কোন উর্ধতন কর্মকর্তার হুকুমে জবরদস্তি মেরে ফেললে তাতে ধর্ষণ হয় দুটো, একটি জীবনের অন্যটি আইনের। তাই ধর্ষকদের ক্রসফায়ার দিতে হলে শাস্তি হিসেবে গুলি করে মারার অথবা দন্ড-কর্তনের আইন পাশ করতে হবে এখনই।

একের পর এক নারী-ধর্ষণ রুখতে গিয়ে প্রিয় কবি নির্মলেন্দু গুণ একটি বে-গুন ও বে-আইনি প্রক্রিয়ার প্রস্তাব দিলেও আমরা কোন রকম বিচার বহির্ভুত শাস্তি চাইনা কারো জন্যেই তা সে যত বড় অপরাধীই হোক। আইনের বাইরের শাস্তি অপরাধ দমন করেনা বরং সুষ্ঠু আইন ও তার নিরপেক্ষ প্রয়োগ সব ধরণের অপরাধ কমাতে পারে।

শেষে কবির প্রস্তাবের সাথে একমত না হলেও তাঁর কবিতা পড়বো যতদিন নেকাব্বরের মতো না হই। নির্মলেন্দু গুন লিখেছেন,
“নেকাব্বর শুয়ে আছে জীবনের শেষ ইস্টিশনে।
তার পচা বাসী শব
ঘিরে আছে সাংবাদিক দল। কেউ বলে
অনাহারে, কেউ বলে অপুষ্টিতে,
কেউ বলে বার্ধক্যজনিত ব্যাধি, – নেকাব্বর
কিছুই বলে না।”

(লেখক- ব্যবসায়ী। লেখকের ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে।)