২রা অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

ক্ষমতার দাপট ও বুলেট প্রসঙ্গ

আপডেট : আগস্ট ২৮, ২০২০ ১২:০৯ অপরাহ্ণ

230

মোস্তফা ফিরোজ

রাজনীতিবিদরা সাধারণত ঝুঁকি এড়াতে সত্য কথা বলতে চান না বা বলেন না। এবার তার ব্যতিক্রম ঘটালেন ওবায়দুল কাদের। তিনি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। আবার যোগাযোগ মন্ত্রীও। নিঃসন্দেহে তিনি সরকার ও দলের গুরুত্বপূর্ণ একজন ব্যক্তি। দলের মুখপাত্রও তিনি। সরকারের ও দলের অনেক ত্রুটি বিচ্যুতি তিনি ধরিয়ে দেন। সরকারের সঠিক অবস্থান তুলে ধরেন। তার নানা বক্তব্য সমালোচিত হয়। কিন্তু তিনি তার দায়িত্ব পালন করে যান। ধারণা করা যায়, তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কথাই নির্দেশমতো অনেক সময় মানুষের সামনে তুলে ধরেন।

এবার তিনি দলীয় ডাক্তার নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে একই ভাষনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ কথা তুলে ধরেছেন। তার বক্তব্যের একটি অংশে তিনি বলেছেন,চিরদিন কেউ ক্ষমতায় থাকে না। তাই ক্ষমতার দাপট দেখাবেন না। চোখের পলকে ১৫ আগষ্ট ঘটে গেছে। হঠাৎ ২১ আগষ্ট। তাই যে যেখানে আছেন সেখানে ক্ষমতার দাপট দেখাবেন না। ক্ষমতায় না থাকলে প্রতিপক্ষরা প্রতিশোধ নেবে।
এটি অত্যন্ত মূল্যবান শিক্ষনীয় কথা। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকলে দলের ভেতরে সুযোগ সন্ধানী লোভী ও দুর্নীতিবাজরা তখন নিজ স্বার্থ হাসিলের জন্য দলের পদ পদবী ব্যবহার করে। এদেশে এটি দীর্ঘদিন থেকে চলে আসছে। এই ঘটনার সাথে সবাই পরিচিত। সাধারণ মানুষ তার ভিকটিম। কিন্তু চোরে না শোনে ধর্মের কাহিনী। দলের ভিতরের একটি অংশ ক্ষমতার অপব্যবহার করে এসব করেই যাচ্ছে। তার ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ। কখনো কখনো নিজ দলের লোকরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কিন্তু দলের প্রভাবশালীদের আশ্রয় প্রশ্রয়ে তার বেপরোয়া। এর বড়ো উদাহরণ সম্প্রতি ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের কর্মকান্ড। দেশে অনেক জায়গায় এই রকম ‘পুর’ হয়তো আছে।
এখন প্রশ্ন হলো সরকার ও দল সবই জানে। সবই বোঝে। কেবল দার্শনিক বক্তব্য দিয়ে সংকটের সমাধান হবে না। সাধারণ মানুষ ও দলের সাধারণ নেতা কর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের এই ক্ষমতার অপব্যবহারকারি দুর্বৃত্তদের নির্মূল করতে ব্যাপক তৎপরতা চালাতে হবে। ডাইরেক্ট এ্যাকশান যাকে বলে। এখানে ওখানে মলম লাগিয়ে গভীর ক্ষত বা ঘা শুকানো যাবে না। সরকার ও দলের জিরো টলারেন্স প্রদর্শিত হলে ক্ষমতার দাপট কমতে থাকবে। সরকার ও দলের পক্ষ থেকে জনসাধারণকে প্রতিরোধের জানালেও বিপুল সংখ্যক ক্ষুব্ধ ভুক্তভোগী মানুষও তাতে সাড়া দেবে নিঃসন্দেহে। তাই হুঁশিয়ারি উচ্চারণের পাশাপাশি ফরিদপুরের মতো দেশব্যাপী একশান প্রত্যাশিত।

মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের আরও একটি কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, যে বুলেট শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানাকে এতিম করেছে, সেই বুলেট খালেদা জিয়াকেও বিধবা করেছে। এটাই নির্মম সত্য কথা। তার মানে বুলেটে ক্ষতবিক্ষত হয়েছে দেশের দুটি প্রধান রাজনৈতিক দল।
কিন্তু বাস্তবতা হলো এই পরিস্থিতি সৃষ্টির পিছনে রাজনৈতিক নেতৃত্বের ব্যর্থতা স্পষ্ট। দেশ স্বাধীন হবার পর সবাইকে নিয়ে একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলা যায়নি। বলা যায়, মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি ঐক্যবদ্ধ ছিলো না। তাদের বিভেদ গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থাকে দূর্বল করেছে। এর সুযোগ নিয়েছে অন্ধকারে থাকা অগনতান্ত্রিক শক্তি। সেই ধারা দেশে অনেকদিন পর্যন্ত সক্রিয় ও শক্তিশালী ছিলো। এর ফলে, ব্যালটের চেয়ে বুলেটের রাজনীতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হত্যা ও নির্মূলের এই রাজনৈতিক ধারাবাহিকতায় একের পর এক রাষ্ট্র ও দলীয় নেতারা হত্যার শিকার হন।
ক্ষমতার দাপট ও বুলেটের রাজনীতি বন্ধ করতে হলে দেশে শক্তিশালী গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার কোন বিকল্প নেই। আর এই কাজটি করতে হবে রাজনৈতিক নেতৃত্বকেই। এক্ষেত্রে ক্ষমতাসীনদের দায়িত্ব আরো বেশি। এগুলো তারা যতো দ্রুত অনুধাবন করবেন ততই দেশের জন্য মঙ্গল।