২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

কেউ হন চাকুরিচ্যুত আবার কেউ হন নির্যাতিত

আপডেট : সেপ্টেম্বর ৭, ২০২০ ২:৩১ পূর্বাহ্ণ

253

হাসান তামিম

পৃথিবীতে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনা কিংবা দূর্ঘটনা আমরা ইলেকট্রনিক কিংবা প্রিন্ট মিডিয়ার বদৌলতে দেখতে পাই। এই খবরটি আমাদের কাছে পৌছে দিতে কাজ করে পরিশ্রমী সংবাদকর্মী। সব দেশেই সাংবাদিকদের একটি বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয়। কিন্ত বাংলাদেশে তার ব্যতিক্রম। যতই দিন যাচ্ছে ততই অবস্থা খারাপের দিকে যাচ্ছে।

একদিকে বিনা কারনে চাকরিচ্যুত করা অন্যদিকে সাংবাদিক নির্যাতন বেড়েই চলেছে। এমনকি সত্য প্রকাশ করতে গিয়ে আজ জেলে বন্দী কাজল ভাইয়ের মতো সৎ এবং নিষ্ঠাবান মানুষ।কাজল ভাইয়ের মুক্তি কবে হবে? কেউ জানিনা। কিছুদিন আগে জানতে পেলাম বাংলাভিশনের বার্তা প্রধান মোস্তফা ফিরোজ দিপু ভাইকে দুই মাসের বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। দুই মাস অতিবাহিত হয়ে গেলেও দিপু ভাইকে কিছু জানানো হয়নি উপরন্ত অন্য একজন ব্যক্তিকে দিপু ভাইয়ের স্থলাভিষিক্ত করা হয়। কিন্ত দীপু ভাইকে কিছুই জানানো হয়নি।

এদিকে সেই প্রতিষ্ঠানের অনেককেই বিনা কারনে চাকুরি হারাতে হয়েছে। এমনকি দিপু ভাইসহ অনেককেই বেতন ভাতা কিংবা ঈদের বোনাসও প্রদান করা হয়নি। আমাদের দেশে মালিকপক্ষের এমন অন্যায় আচরন নিয়ে কেউ কথা বলেন না কিংবা এই ধরনের নীতিমালা এখনো তৈরি হয়নি যা শুধুমাত্র সাংবাদিক কিংবা গনমাধ্যমকর্মীদের অধিকার আদায়ে কাজ করবে। একটি মানুষ দিনের পর দিন সংবাদ সংগ্রহে কাজ করে কিন্ত একটা সময় তাদের খুবই অর্থকষ্টে দিন কাটাতে হয়।

এদিকে সাংবাদিক হত্যা কিংবা নির্যাতনের বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারনে অনেককেই জীবন দিতে হয় কিংবা নির্মমা নির্যাতনের স্বীকার হতে হয়। সময় টিভির এক সাংবাদিককে হত্যাচেষ্টা করা হয় এবং বিজয় টিভির এক সাংবাদিককে জীবনটাই দিতে হলো। এ পর্যন্ত সাংবাদিক হত্যার কয়টি বিচার হয়েছে কিংবা কতটির বিচার পক্রিয় সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে? আমার জানামতে একটিও নয়। আমি একজন ক্ষুদ্র গনমাধ্যমকর্মী হিসেবে কাজ করেছি বেশ কয়েকদিন।

একটি প্রতিষ্ঠান থেকে আমার দেড় মাসের বেতন এখনো পায়নি এবং সেই প্রতিষ্ঠান থেকে অনেকেই বেতন পান কিন্ত দেওয়ার কোন নাম নেই উল্টো নেওয়া হয় ব্যবস্থা। আমি সেই প্রতিষ্ঠান থেকে পদত্যাগ করে অন্য প্রতিষ্ঠানে যুক্ত হয়েছিলাম বলে মানবসম্পদ শাখার একজন ব্যক্তি আমাকে বলেছিলেন টাকার কথা ভুলে যান। কি আজব আমাদের দেশ যেখানে এতদিন কাজ করেছি সেখানেই আমাকে এই কথা বলা হয় শুধুমাত্র অন্য প্রতিষ্ঠানে চলে যাবার কারনে। ঐ প্রতিষ্ঠান থেকে অনেক বড় ভাইকে অসন্মানিত করা হয়েছে যারা সত্যি কাজ করতে চেয়েছিলেন কিন্ত তাদেরকে কাজ তো করতে দেওয়া হয়নি উপরন্ত করা হয়েছে অসন্মান।

সাংবাদিকদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য কেউ নেই কিংবা তা নিয়ে কথা বলার জন্য কেউ এগিয়ে আসে না। তাই আমি বলেছি কেউ হন চাকুরিচ্যুত আবার কেউ হন নির্যাতিত কিন্ত এসব দেখার কেউ নেই। সব অযোগ্য তেলবাজ ব্যক্তিদের দখলে গিয়েছে।