৭ই আগস্ট, ২০২০ ইং | ২৩শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

করোনা কোথায় নিয়ে যাচ্ছে দেশকে ?

আপডেট : জুলাই ১৪, ২০২০ ১২:৪৬ পূর্বাহ্ণ

15

আবু হেনা রাজ্জাকী

দেশে কিংবা বিদেশে করোনার চেয়ে বেশি আলোচনার আর কোন বিষয় এই মুহূর্তে নেই। আমেরিকায় করোনা সংক্রমন নিম্নের দিকে যেতে যেতে আবার বেড়ে যাচ্ছে। করোনা নিয়ে বিপরীতমুখি বক্তব্যও দিয়েছেন নিউইয়র্কের গভর্নর ও আমেরিকার প্রেসিডেন্ট। যাহোক নিজের দেশে আসি। দেখি করোনার কি হাল হকিকত এখানে। ৮ মার্চ ২০২০। প্রথম করোনা সনাক্ত হয় দেশে। তারপর শুরু হয় এই নিয়ে তৎপরতা। শুরুতেই করোনা সনাক্ত করনের কীট সংকট দেখা দিলো।

অন্যদিকে দিনে দিনে বাডতে থাকে সংক্রমন।ঠিক এই সময়ে গনস্বাস্হ্যের জাফরউল্লাহ সাহেব এগিয়ে আসলেন নিজস্ব প্রযুক্তিতে প্রস্তুত কীট নিয়ে। এ ঘটনা এপ্রিলের শেষ দিকের। দেশের ওষুধ প্রশাসনে শুরু হলো গনস্বাস্হের কীট নিয়ে পরীক্ষা।পরীক্ষায় ফেল করলো এই কীট। এরই মধ্যে সরকারিভাবে জানা গেল দেশে নেই কোন কীট সংকট। দেশে সরকারি মতে করোনা নিয়ন্ত্রনে রয়েছে। সাধারন মানুষ করোনা পরীক্ষা করছিলো বিনা মূল্যে। হঠাৎ করে আবার নির্ধারণ করা হলো করোনা পরীক্ষার ফিস ২০০/৫০০টাকা। করোনার ক্ষেত্রে কোন বেসরকারি ফলাফল নেই, সব সরকারি ফলাফল।

যদিও দেশের জাতীয় নির্বাচনেরও একটা বেসরকারি ফলাফল থাকে। সরকারি মতে করোনা নিয়ে মৃত্যুর হার এখনও তেমন নয়। তবে প্রতিদিন করোনার পাশাপাশি করোনা উপসর্গ নিয়েও মারা যাচ্ছে অনেকেই। উন্নতির বিবেচনায় করোনার নমুনা পরীক্ষার জন্য দেশে ল্যাবের সংখ্য বাড়লেও কমেছে নমুনা পরীক্ষা। অথচ নমুনা পরীক্ষা কমলেও পরীক্ষার সংখ্যা বিবেচনায় সনাক্তের হার কমছে না। তার মানে হচ্ছে সংক্রমনের হার উর্ধমুখী। এখন আসা যাক করোনা নিয়ে মাত্র একদিনের পত্রিকায় প্রকাশিত খবর প্রসঙ্গে। ল্যাবের সংখ্যা বাড়ছে, নমুনা পরীক্ষা কমছে। কীট জনবল সল্পতায় পরীক্ষার হার কম। চট্টগ্রামে করোনা টেষ্টের রিপোর্ট পেতে হয় বিলম্ব। মৃতদের অধিকাংশ টেষ্ট না করায় ঝুকিতে থাকছে স্বজনরা। করোনা ভাইরাসের উর্ধগতি। ওয়ারীতে ৭ দিনে ৪৮ জন আক্রান্ত। ফি নির্ধারনের পর নমুনা পরীক্ষায় আগ্রহ কমে গেছে সাধারন মানুষের। অন্যদিকে স্বাস্হ্য বিভাগ বলছে উপসর্গ না থাকলে পরীক্ষা নয়। আবার দেশের সরকার এবং বিশ্ব স্বাস্হ্য সংস্হা বলছে উপসর্গ ছাড়াও করোনা আক্রান্ত হতে পারে। মোট কথা বিশ্বের অবস্হা যাই হোক না কেন করোনায় বেসামাল বাংলাদেশ।

করোনা পরিস্হিতি আজ এতটাই ভয়াবহ যে, বাধ্য হয়ে দেশের মানুষ আজ পেশা বদলের যুদ্ধে লিপ্ত হতে যাচ্ছে। নির্মান শ্রমিক, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পশ্রমিক ও পরিবহনসহ বিভিন্ন খাতের কর্মহীন মানুষ অন্য পেশায় প্রবেশের চেস্টা করছেন। এরকম একটি পরিস্হিতিতে সাহেদ- সাবরিনার করোনা নেগেটিভের ভুয়া সনদ প্রদান।যার কারনে টেষ্ট প্রতারনায় ইমেজ সংকটে পরেছে দেশ। আর এই সংবাদ ছড়িয়েছে গোটা বিশ্বে। ঝুকিতে পরেছে লাখ লাখ প্রবাসীর জীবন। ইতিমধ্যে করোনা নেগেটিভ সনদ নিয়ে বিদেশে পৌছানো যাত্রীদের নিয়ে ফিরে আসতে হয়েছে দেশের বিমান। জাপান, দক্ষিন কোরিয়া, চীন ও ইতালী বাংলাদেশের সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছে। ইতিমধ্যে শেনজেন ভিসার তালিকা থেকে বাদ পরেছে বাংলাদেশের নাম।

করোনা কোথায় নিয়ে যাচ্ছে দেশকে ? সাহেদ- সাবরিনাকে সারাজীবনের জন্য জেলে রাখলে কি পরিবর্তন হবে এদেশের ? কাদের ছত্রছায়ায় তাদের এই দৌরাত্ম ? এমন কঠিন পরিস্হিতিতে যিনি সিদ্ধান্ত দেবার, কেন তিনি এখনও নিরব ।

লেখক- কলামিস্ট।